• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ | ৪ কার্তিক, ১৪২৫

রংপুরে সুরভি উদ্যান এখন শিশুবান্ধব পার্ক

রংপুরে সুরভি উদ্যান এখন শিশুবান্ধব পার্ক

রংপুর অফিস : উত্তরের প্রচীনতম জনপদ রংপুরে বর্তমানে চিত্ত বিনোদনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত ৬টি পার্ক রয়েছে। সেখানে শিশুদের বিনোদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাণিজ্যিকীকরণে প্রায় উপেক্ষিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুরভি উদ্যানকে শিশুবান্ধব পার্ক হিসেবে রংপুরবাসীকে উপহার দিতে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে শিশুবান্ধব পার্ক গড়ে তোলার কাজ শুরু হওয়ায় জেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন মহলসহ শিশু সংগঠনগুলো। রংপুর: প্রায় ২৮ বছর পর শিশুবান্ধব পার্ক হিসেবে আতœপ্রকাশ করতে যাচ্ছে রংপুর কালেক্টরেট সুরভি উদ্যান। জানা গেছে, ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের বসতিপূর্ণ রংপুর। এই জেলাতে সরকারি- বেসরকারিভাবে নির্মিত বিনোদন উদ্যান হিসেবে পরিচিত রংপুর চিড়িয়াখানা, ভিন্ন জগৎ, সিটি চিকলি পার্ক, ঘাঘট প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক, আনন্দনগর ও মায়াভুবন। এসব পার্কে শিশুদের বিনোদনে চোখে পড়ার মত সামান্য ব্যবস্থা রয়েছে। যতটুকু রয়েছে, তা দিয়ে বাণিজ্যের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। একারণে রংপুরে শিশুবান্ধব পার্ক গড়ে তোলা ছিলো সময়ের দাবি। রংপুরের মানুষের সেই দাবিতে সাড়া দিয়ে পুরনো কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানকে নতুন রুপে সাজানো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার। পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন আরেক জেলা প্রশাসক মুহম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। কিন্তু অর্থের অভাবে থমকে যায় সেই পরিকল্পনা। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে মুহম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন এনামুল হাবীব। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সুরভি উদ্যানকে শিশুবান্ধক পার্ক হিসেবে সাজাতে চলতি বছরের জুনে ৬৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৪ টাকা ট্যুরিজম বোর্ড থেকে জন্য বরাদ্দ পাঠানো হয়। সেই বরাদ্দে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দীর্ঘদিন অযতœ- অবহেলায় পড়ে থাকা ঝোপ-ঝাড়ে ভরা সুরভী উদ্যানকে। সরেজমিন দেখা গেছে, সুরভি উদ্যানের মূল ফটকের সামনে লাগানো হয়েছে নানা প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতেই ডানে-বামে দাঁড়িয়ে আছে দুই হাস্যোজ্জ্বল দুটি রঙ্গ মানব। উদ্যানের চারপাশে ইট বিছিয়ে ওয়াকওয়ে বা হাঁটার জন্য সুন্দর রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তাগুলো বাঁশের ছাউনি দিয়ে আকর্ষণীয় করাসহ উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে বসার জায়গাগুলো সংস্কার করে বসার উপযোগী করা হয়েছে। পুরনো দোলনা, মইগুলোকে মেরামত করাসহ রঙ করা যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক রাইড। চলছে উদ্যানের ভিতরের পুকুরটিকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার কাজও। পুকুরে সেতু নির্মাণের জন্য ভিত্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তৈরি হচ্ছে ফুলের বাগানের ভিতরে ফোয়ারা। দৃষ্টি কাড়ছে লাল রঙের আচড়ে তৈরি টিনসেট গোলঘর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রংপুর জেলায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের নামের তালিকা সম্বলিত একটি নাম ফলকও রয়েছে উদ্যানের ভিতরে। উদ্যানটিকে শিশুবাদ্ধব করে সাজানোর যে পরিকল্পনা, এখনো সেই কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এরই মধ্যে সেখানে অভিভাবকদের হাত ধরে আসা শিশু-কিশোরদের আনাগোনা বেড়েছে। আর দীর্ঘদিনের পরিচিত এই উদ্যানটিকে নতুন রুপে দেখতে পেয়ে খুশি সচেতন মহল।  রংপুর জেলার শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থার প্রত্যাশা অনেকটা সুরভী উদ্যান থেকে পূরণ হবে বলে মনে করছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাংলার চোখ’ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, একটা সময় সুরভি উদ্যানকে প্রেম উদ্যানে পরিণত হয়েছিল। মানুষ সেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত। এখন সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। সুরভী উদ্যানকে জেলা প্রশাসন শিশুবাদ্ধব পার্কটিতে সাজাতে দ্রুত গতিতে কাজ করছে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো এবং প্রসংশনীয় উদ্যোগ। এ ব্যপারে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রবিউল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে জানান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের দেয়া বরাদ্দ থেকে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। উদ্যানের সংস্কারসহ প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষের পথে। চলতি বছরের মধ্যেই হয়তো শিশুবাদ্ধব হিসেবে সাজানো সুরভি উদ্যানকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রসঙ্গত; সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে রংপুর মহানগরীর রাধাবল্লভ মৌজায় পাঁচ একর জমির ওপর ১৯৯০ সালে সুরভি উদ্যানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এএসএম মোবাইদুল ইসলাম। এরপর ১৯৯৮ সালে বৃক্ষরোপণ ও উদ্যানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক মোয়াজ্জেম হোসেন। মূলত শিশুদের জন্য নগরীর মাঝখানে এ উদ্যানটি তৈরি করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘদিন অযতœ-অবহেলায় পড়ে থাকে সেটি। ছোট-বড় গাছপালায় উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে ঝোপের সৃষ্টি হওয়ায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে ভেতরে ঢুকতেন না। বিভিন্ন সময় ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় সুরভি উদ্যানকে শিশুবান্ধব করতে উদ্যোগ নেয় রংপুর জেলা প্রশাসন। সেই উদ্যোগের আলোকে বর্তমানে সেখানে কাজ চলছে।

গাইবান্ধায় উন্নয়ণ মেলার প্রে.....

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: "উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ "এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় উন্নয়ণ মেলার .....

গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা তিস্তা সে.....

রংপুর অফিসলালমনিরহাট ও রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের শেখ হাসিনা তিস্তা সড়কসেতুটির আজ রোববার সকাল ১.....

প্রতি উপজলায় টেকনিক্যাল স্কু.....

লাখোকণ্ঠ অনলাইন : দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনে.....

কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির .....

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির (২০১৮-২০২০) নবগঠিত কমিটির পরিচিতি, ঈদপূণর্মিলনী ও সম্মাননা প্রদান অন.....

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়.....

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

গনতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দ্রুতউন্নয়নের পথে .....

‘শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে সম.....

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা‘শিশু সুরক্ষা ও উন্নয়ন: এসওএস শিশু পল্লীর ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায়সুবিধাবঞ্চিত শি.....

নিখোঁজের ১০ ঘন্টা পর চাঁপাইন.....

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : রবিবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার ১০ ঘন্টা পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিপুরে থেকে শিশু রেদ.....

হাতুড়ে ডাক্তার নার্স ও লাইস.....

বরগুনা: বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলায় স্বাস্থ্য সেবার নামে হাতুরে ডাক্তার, নার্স ও টেকনশিয়ান দ্বারাই চালি.....