• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক, ১৪২৫

‘শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন’

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা‘শিশু সুরক্ষা ও উন্নয়ন: এসওএস শিশু পল্লীর ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায়সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেমত দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, এসওএস শিশুপল্লীর কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিতও পরিবার বিচ্ছিন্ন শিশুদের সুন্দর জীবন গড়তে বিশ^জড়েই দৃষ্টান্ত স্থাপনকরেছে। একে মডেল ধরে সারাদেশেই শিশুপল্লী গড়ে তোলা হলে অন্ধকারেহারিয়ে যাওয়া শিশুরা আলোকিত জীবনের দেখা পেতে পারে।এসওএস আন্তর্জাতিক শিশু পল্লী বাংলাদেশ ও ইত্তেফাক আয়োজিতগোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে তাদের এইদৃষ্টান্তমূলক কাজের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা।রবিবার (১৪ অক্টোবর) কাওরান বাজারের ইত্তেফাক কার্যালয়ে মজিদা বেগমমিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেনসমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল -৫আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ ও মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়েরসচিব নাছিমা বেগম। এতে সূচনা বক্তব্য রাখেন এসওএস আন্তর্জাতিকশিশু পল্লী বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর গোলাম আহমেদ ইসহাক। ‘শিশুসুরক্ষা ও উন্নয়ন: এসওএস শিশু পল্লীর ভূমিকা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকরেন এসওএস আন্তর্জাতিক শিশু পল্লী বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিষয়কন্যাশনাল ফোকাল পারসন চায়না রানী সাহা। সভাপতিত্ব করেন ইত্তেফাকেরসিটি এডিটর আবুল খায়ের।আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক ছড়াকারআনজীর লিটন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণাইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. এ এস এম আতীকুর রহমান, শিশু অধিকারফোরামের চেয়ারম্যান ড. খাজা শামসুল হুদা, ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষাবিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেড়ীন, সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাপক মোঃএকরামুল কবীর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সমন্বয়কারী আবদুল্লাআল মামুন, এসওএস আন্তর্জাতিক শিশু পল্লী বাংলাদেশের জাতীয়উপপরিচালক ডা. মোঃ এনামুল হক, ব্যারিস্টার মিতি সানজানা, কবি ওগণমাধ্যম কর্মী তাহমিনা শিল্পী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম. রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইত্তেফাকের সাংবাদিকআসিফুর রহমান সাগর।সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বর্তমান আর্থ-সামাজিকপরিস্থতিতে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা খুব প্রয়োজনীয় বিষয় হয়েদাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সেই কাজে খুব একটা পিছিয়ে নেই। বিশেষ করেআইন প্রণয়ণে এবং তা বাস্তবায়নে আমাদের অগ্রগতি ভালো। সারাদেশেশিশু আদালত বসানো হচ্ছে। যা আলাদাভাবে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে।এর পাশাপাশি, দেশের প্রতিটি বিভাগে ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠাকরা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শেখ রাসেল দুঃস্থ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। নারীশিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে এতিমখানার ধর্মীয়শিক্ষার পাশাপাশি তাদের দেশের প্রচলিত সাধারন শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে নীতিমালাকরা হচ্ছে।সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ বলেন, শিশুরাই আগামি ভবিষ্যত।সবাই শিশু সুরক্ষাই নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তবে সরকার শিশু সুরক্ষাও উন্নয়নে অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। এবারের বাজেটে শিশুসুরক্ষা ও উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে সরকার। তবে, শিশুদের সুরক্ষায় মাকেভুলে গেলে চলবে না। মায়ের কথাও ভাবতে হবে। সরকার সে কথা ভাবে। শিশুদেরসুরক্ষায় মায়েদের গর্ভবতী অবস্থা থেকে তাদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরা হয়। শিশুর জন্মের আগে থেকে এবং জন্মের পর টিকা প্রদান থেকে শুরুকরে তাদের শিক্ষা, বিনামূল্যে বই প্রদানসহ শিশুদের উন্নয়নে সবকিছুইসরকার করছে। সেবামূলক সংগঠন ও এনজিওরাও কাজ করছে। তবে সবকিছুসরকার একা করতে পারবে না। শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি জনগণকেওসচেতন হতে হবে।নাছিমা বেগম বলেন, এসওএস শিশুপল্লী অবহেলিত বঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা ওজীবনমান উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত। তারাআগামির কারিগর। তাই শিশুদের উন্নয়ন ও সুরক্ষার বিষয়টি শুধু মহিলা ও শিশুএবং সমাজকর‌্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নিতেহবে। তিনি বলেন, এদের মধ্যে যারা সুবিধাবঞ্চিত শিশু তাদের সুরক্ষায়সরকারের নানামুখী কর্মসূচি রয়েছে। সব মায়েরা যাতে কর্মজীবী হতেপারে সেজন্য সরকার ডে কেয়ার সেন্টার চালু করতে আইন প্রণয়ন করছে।এতে নি¤œবিত্ত ও অভাবী মায়েরা যাতে সন্তানকে বিনামূল্যে ডে কেয়ারসেন্টারে রাখতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। স্বল্প আয়ের মায়েরা যাতেঅল্পকিছু খরচ দিয়ে ডে কেয়ার সেন্টারে রাখতে পারে সে ব্যবস্থা হচ্ছে।স্বাগত বক্তব্যে শিশুপল্লীর ন্যাশনাল ডিরেক্টর গোলাম আহমেদ ফারুক বলেন,এসওএস শিশুপল্লীর মাধ্যমে সমাজের যেসব শিশু অন্ধকার জীবনের মুখোমুখিদাঁড়ায় তাদের অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসতে কাজ করে। শিক্ষা,বাসস্থান ও উন্নত জীবনবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেসারাবিশে^ অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এসওএস শিশুপল্লী।বিশ^জুড়ে এসওএস শিশুপল্লী শিশু অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত। বিশে^রঅসংখ্য দেশে এখন এসওএস শিশুপল্লী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশেওতাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এ প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুরসঙ্গে দেখা করেন এই শিশুপল্লীর প্রতিষ্ঠাতা হারম্যান মেইনার। এর বাংলাদেশেতাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দেশের ছয়টি স্থানে এসওএস শিশুপল্লীতাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৪০শতাংশ শিশু। এদের মধ্যে সব সৃবিধাবঞ্চিত শিশুকে সুন্দর জীবন নিশ্চিত করাযায় নি। তবে, শিশুপল্লীর এ মডেলটি অনুসরণ করে দেশজুড়ে শিশুপল্লী গড়েতুললে শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।মূল প্রবন্ধে চায়না রানী সাহা বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের পরেওশিশু অধিকার লংঘন ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭সালে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ শিশু নির্যাতন ও শিশু অধিকার লংঘন বেড়েছে।তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারও এসওএস শিশুপল্লী বাংলাদেশ এর শিশু যতœমডেলকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারের তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়অন্তর্ভূক্ত করেছে। এর আওতায় সরকারের সকল শিশুসদন এবং বেবিহোমগুলোকেপর্যায়ক্রমে শিশুপল্লীর আদলে পরিচালিত হবে। তারপরেও ‘শিশু অধিদপ্তর’প্রতিষ্ঠা করে সব মন্ত্রণালয়ের শিশু সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকা-কেসমন্বয়ের প্রতি তাগিদ দেন তিনি।ডিআইজি ব্যারিস্টার মাহবুব হোসেন বলেন, নারী ও শিশু সুরক্ষায় সরকারেরঅত্যন্ত কার্যকরী আইন রয়েছে। তারপরেও শিশু নারী নির্যাতনের, ধর্ষণেরঘটনা ঘটছে। পুলিশের কাছে থাকা তথ্য-উপাত্ত মতে, পরিবারের সদস্যদেরহাতে খুন আশংকাজনক হারে বেড়েছে। ছেলে-মেয়ে উভয়ের আত্মহত্যাপ্রবণতাও বেড়েছে। ডিভোর্সের মাত্রা বেড়ে গেছে। এসব তথ্য প্রমাণ করেআমাদের পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে। পুলিশ অপরাধীকে গ্রেফতার করে।অপরাধ ঘটার পরে। তাদের শাস্তির জন্য আদালতে পাঠায়। কিন্তু পরিবারের মধ্যেমানুষে মানুষে সম্প্রীতি বাড়াতে হবে। তাই অপরাধ দমনে সাধারন মানুষেরসহযোগিতা তাদের সামাজিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।আবুল খায়ের বলেন, দেশ উন্নত হচ্ছে। এর সঙ্গে অপরাধ বাড়বে। সামাজিকঅবক্ষয় হচ্ছে। এসবের মাঝেই আমাদের শিশুদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেহবে। এসব সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। সরকার, সামাজিক প্রতিষ্ঠান,গণমাধ্যম ও দেশের জনগণকে একসঙ্গে সমিন্বতভাবে এই সমস্যামোকাবেলায় একযোগে কাজ করতে হবে।উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শরণার্থী ও পরিবার হারানো শিশুদের হারম্যানমেইনার শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ‘এসওএস শিশু পল্লী’র ধারণাটি চালুকরেন। যা পরিবার ও মা-বাবা হারানো ওই শিশুগুলির কাছে পরিবারের বিকল্প হয়েতাদের ভবিষ্যত জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। সেই থেকেএতিম এবং মাতা-পিতার ¯েœহবঞ্চিত শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে তাদের যেকার্য পদ্ধতি তা বিশে^ শিশু সুরক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

নড়াইলে পুলিশের অভিযানে জামাত, .....

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত ৩৪ জনকে গ্রেফতার .....

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপি.....

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান।

একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন.....

মিয়ানমার জেনারেলদের বিচারে উ.....

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকদের হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধে যুক্.....

মুন্সীগঞ্জে শিশুপুত্রকে হত্য.....

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : নিজ শিশুপুত্রকে হত্যার দায়ে বাবাকে মৃত্যু দ-ের আদেশ দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা দায়রা জজ.....

ডাস্টবিনে নবজাতকের ছিন্ন-ভিন.....

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ জন্মই ‘আজন্ম পাপ’। ঘৃণা, লোকলজ্জা, সমাজের চোখরাঙানি ও তিরস্কারের কষ্টগাঁথা মায়ের হৃ.....

রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবে.....

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ শুরু হয়েছে।

 

শুক্রবার দুপুর ২টায় পবিত্.....

কুষ্টিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে মাদক .....

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুইদল মাদক ব্যবসায়ীদের বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে.....