• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯

কুষ্টিয়ায় আধুনিকতায় ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গরু-মহিষের গাড়ি

কুষ্টিয়ায় আধুনিকতায় ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গরু-মহিষের গাড়ি

সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া : ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই-কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে’- গ্রাম-বাংলার জনপ্রিয় এই গানটি যেমন এখন আর শোনা যায় না, তেমনি গ্রাম-বাংলার একটি জনপ্রিয় যান গরু-মহিষের গাড়িও এখন আর আগের মত চোখে পড়ে না। হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও।

এখন আর গ্রামগঞ্জে আগের মতো চোখে পড়ে না গরু-মহিষের গাড়ি। যা এক সময় কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী গরু-মহিষের গাড়ি বাহনের সরগরম অস্তিত্ব ছিল। ছিল সর্বত্র এই গরু-মহিষের গাড়ির কদর। কি বিয়ে, কি অন্য কোন উৎসব-গরু না হয় মহিষের গাড়ি ছাড়া যেন কল্পনাই করা যেত না। আমাদের পল্লী এলাকার জনপ্রিয় বাহন ছিল গরু-মহিষের গাড়ি। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের কৃষি ফসল বহন ও মানুষ বহনের প্রিয় বাহন ছিল দু-চাকার এই গরু-মহিষের গাড়ি। যুগের পরিবর্তনে এই বাহন এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গরু-মহিষের গাড়ি এখন অধিকাংশ এলাকা থেকে বিলুপ্তির পথে। এখন এসব বাহন রূপকথার গল্পমাত্র, বাংলা নববর্ষ পালনের সময় ২/৪ গরু-মহিষের গাড়ী দেখা গেলেও সেটা বিলুপ্ত হতে হতে স্থান পেয়েছে সংবাদপত্র ও বইয়ের পাতায়। মাঝেমধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় দু-একটি গরু-মহিষের গাড়ি চোখে পড়লেও শহর এলাকায় একেবারেই দেখা যায় না।

আধুনিক সভ্যতায় ঐতিহ্যবাহী গরু-মহিষের গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। সে কারণে শহরের ছেলেমেয়েরা দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও গরু কিংবা মহিষের গাড়ির শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয়। আবার অনেক শহরে শিশু গরু-মহিষের গাড়ি দেখলে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে এই গাড়ি সম্পর্কে।

যুগ যুগ ধরে কৃষকের কৃষি ফসল রোপন ও বহনের গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে পরিচিত ছিল গরু-মহিষের গাড়ি। গরু গাড়ি দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা এক প্রকার বিশেষ যান। অপরদিকে মহিষও দু’চাকাবিশিষ্ট বিশেষ যান যা অপরুপের বাহার। এ যানে সাধারণত একটি মাত্র অক্ষের সাথে চাকা দুটি যুক্ত থাকে। গাড়ির সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ এবং মহিষ জুটি মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে।

সাধারণত চালক বসেন গাড়ির সামনের দিকে। আর পেছনে বসেন যাত্রীরা। বিভিন্ন মালপত্র বহন করা হয় গাড়ির পেছন দিকে। বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য ও ফসল বহনের কাজে গরু-মহিষের গাড়ির প্রচলন ছিল ব্যাপক। গ্রাম বাংলায় ঐতিহ্যগতভাবে গরু-মহিষের গাড়ি দু দশক আগেও যাতায়াত ও মালবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।

কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরু নচেৎ মহিষের গাড়িতে কখনো জৈব সার তথা গোবরের সার, কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই-জোয়াল নিয়ে যেত মাঠে। গাইত উঁচু সুরে গাইত, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, কত রবো আমি পন্থের বিধি…’।

গরুর গাড়ির চালককে বলা হয় গাড়িওয়াল। আর তাই চালক উদ্দেশ্য করে বলত, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, আস্তে বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিবার নাও মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’। ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের রাস্তা পাড়ি দিয়ে কৃষকেরা জমি চাষাবাদ এবং মালামাল বহনের জন্য গরু-মহিষের গাড়ি বাহন হিসেবে ব্যবহার করত।

অনেক এলাকার  রাস্তা পাকা না থাকায় এক সময় যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করত না। ফলে গরু-মহিষের গাড়িই ছিল একমাত্র ভরসা। তবে বর্তমানে টলি, ভ্যান, টেম্পু, নসিমন, আটো, উদাম পরিবহন করিমনসহ নানা ধরনের মোটরযান চলাচলের কারণে অপেক্ষাকৃত ধীর গতির এই যানটির ব্যবহার অনেক কমে এসেছে। তাই এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

এ ব্যাপারে মহিষের গাড়ি চালক কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া মোল্লার আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমি এ পেশার সাথে আগে জড়িত ছিলাম, বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে মালামাল বোঝায় করে নিয়ে গেছি, যা ইনকাম করেছি তা দিয়ে মহিষের খাবার, নিজের সংসার ঠিকভাবে চলে যেত। এখন গরু-মহিষের গাড়ি ধীর গতির কারনে  অচল হয়ে পড়েছে, এখন এর ব্যবহার নেই বললেই চলে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি এলাকার মহিষের গাড়ি চালক আরমান বলেন, আমার বাপ দাদা সকলেই  মহিষের   গাড়ি চালিয়ে জীবন-যাপন করেছেন। আমি নিজেও ৪০ বছর এ পেশার সাথে জড়িত আছি। আমার নিজের গ্রাম কিংবা অন্য গ্রামের যারা জৈব সার, গোবরের সার আবাদ স্থলে পৌছিয়ে নেয় তাদের কাছ থেকে আমি প্রতি গাড়ি ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা করে নিই। এই নিয়েই সংসার চালানো হয়।

কুষ্টিয়া সদরের হাউসিং চাঁদা গাড়া মাঠ এলাকার মৃত বানাতি খাঁ এর ছেলে শের আলী দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে মহিষের গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি জানান, বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ। মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি। ফলে গ্রামে আর চোখে পড়ে না গরু-মহিষের গাড়ি। অথচ গরু-মহিষের গাড়ির একটি সুবিধা ছিলো, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও করে না। এটি পরিবেশ বান্ধব একটি যানবাহন। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরু আর মহিষের গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে তেমন কোনো দুর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে আমাদের প্রিয় এই গরু আর মহিষের গাড়ির প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে।

কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া মোল্লা পাড়া এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম দবির উদ্দিন মোল্লার ছেলে আলতাফ হোসেন মোল্লা জানান, দুই যুগ আগে গরু-মহিষের গাড়িতে চড়ে বর-বধূ যেত। গরু-মহিষের গাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বিয়ে বাড়ি বা মাল পরিবহনে গরু-মহিষের গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন বাহন। বরপক্ষের লোকজন বরযাত্রী ও ডুলিবিবিরা বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২টি  করে গরু-মহিষের গাড়ির ছাওনি (টাপর) সাজিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি আসা-যাওয়া করত। রাস্তাঘাটে গরু-মহিষের গাড়ি থেকে পটকাও ফুটাত। যে সব পরিবারে গরু-মহিষের গাড়ি ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না।

কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে গরু-মহিষের গাড়ি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতে দেখেছি। এখন গরু-মহিষের গাড়ি তেমন আর ব্যবহার হয় না। এখন মানুষ মাহিন্দ্রা, পাওয়ারট্রলি ও ট্রাক্টরসহ ইঞ্জিনচালিত গাড়ি দিয়ে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। আগে গরু-মহিষের গাড়িতে সেসব করা হতো।

কুমারখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল জানান, গরু-মহিষের গাড়ি ঐতিহ্যবাহী বাহন ছিল। এই গাড়ি দিয়ে আগের মানুষ যাতায়াতসহ বিভিন্ন কাজ করতেন। আগের অনেক ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন মানুষ গরু-মহিষের গাড়ি ব্যবহার করার চেয়ে ইঞ্জিন চালিত গাড়ি বেশি ব্যবহার করেন।

পদ্মা ও মেঘনা নামে নতুন বিভাগ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

লাখোকণ্ঠ অনলাইন ।।  কুমিল্লা ও ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো নিয়ে ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ নামে নতুন দুই বিভাগ ক.....

আবাদি জমি রক্ষায় পরিকল্পিত শিল্পায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আবাদি জমি রক্ষায় পরিকল্পিত&.....

সংকট সমাধানে যুবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক ।।  সংকট সমাধানে যুবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ.....

জাতীয় যুবদিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক || আগামীকাল ১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ব.....

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিদায় ও বরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খানের বিদায় ও নবনিযুক্ত স.....

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি বাহিনীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি বাহ.....

চিকিৎসার জন্য জার্মান ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ঢাকা ত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চোখের চিকিৎসার জন্য জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে ১৬ .....

সাকিবকে আর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যবহার করবে না দুদক

অনলাইন ডেস্ক ।।  ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে আর দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। আ.....

পায়রা সমুদ্রবন্দরে আগামীকাল বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল পায়রা সমুদ্রবন্দরে আরও ভালো সুযোগ-সুবিধাসহ এর সুষ্ঠু কার্.....

চীন কখনো মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করে না : রাষ্ট্রদূত লি

অনলাইন ডেস্ক ।।  বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, এই অঞ্চলে উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীল.....

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট

স্টাফ রিপোর্টার ।। ভোগান্তির আরেক নাম রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক। সামান্য বৃষ্টি হলেই গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ.....

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং : দেশে ১৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক ।।  ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আজ ভোরে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করার ফলে বাংলাদেশের ছয় জেলায় অ.....