• ঢাকা
  • বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ১৮ মাঘ, ১৪২৯
ভাসমান দোকানে রাস্তা-ফুটপাত দখল বাণিজ্য, মাদক সেবন : নীরব ভূমিকায় রেল ও পুলিশ প্রশাসন

অনিয়মে ভরা নান্দনিক সৌন্দর্যের সিআরবি শিরিষ তলা এলাকা

অনিয়মে ভরা নান্দনিক সৌন্দর্যের সিআরবি শিরিষ তলা এলাকা

লাখোকণ্ঠ,চট্টগ্রাম ব্যুরো : শতবর্ষী শিরীষ গাছ ও নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরা চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা। এখানে এলেই সবুজ ও কোলাহল মুক্ত অনন্য এক পরিবেশের ছোঁয়া পায় আগত দর্শনার্থীরা। সিআরবি সাত রাস্তার মোড়, শীরিষ তলা, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান দাপ্তরিক নান্দনিক সীমানা ও আশেপাশের এলাকা প্রতিদিন এক উৎসবমুখর পরিবেশে রুপ নেয় ঘুরতে-বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী-কলিগ, বন্ধু মহলের আড্ডা, স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সব বয়সের মানুষদের সকালে বিকালের হাটাহাটিতে, একটু মন খুলে শ্বাস নিতে সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশের অনন্য এক নাম সিআরবি সাত রাস্তার মোড়-শিরিষ তলা এলাকা। বেড়াতে আসার ফাঁকে মুখরোচক খাবার, চা কফি, জুস ইত্যাদির আয়োজন থাকাতে নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরা সিআরবি এলাকা আরো জমে উঠেছে ইদানিং। কিন্তু হাটতে গেলে বা বসতে গেলেই বাঁধে যত আপত্তি। কিংবা খাবার দোকানের পাশ দিয়ে যেতেই যেন শুরু হয় ডাকাডাকির কম্পিটিশন। জোর করে বসানো সেই চেয়ারে বসলেই দিতে হয় খাবারের অর্ডার। এ যেনো এক কম্পিটিশনের খাবারের হাট !

    সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাঁটা চলার রাস্তা ও বসার জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর একটি লম্বা লাইন দখলে নিয়েছে ফুটপাত দখলকারী অস্থায়ী ভাসমান কিছু দোকানদার। রাস্তার উপর পর্যন্ত সারি সারি চেয়ার দিয়ে হাঁটা চলার স্থান প্রায় দখল করে নিয়েছে ভাসমান এই দোকানদার'রা৷ গেলো শুক্রবার পরিবার ও বাচ্চা নিয়ে হাটার সময় রাকিব ও লাইজু নামের এক দম্পতির সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয় এক দোকানদার। তাদের মারমুখী আচরণে বিশ্রী ভাষায় হতভম্ব হয়ে নিজেদের মান-সম্মান নিয়ে নীরবে চলে যান ঐ দম্পতি।    খোলামেলা উন্মুক্ত পরিবেশ হওয়ায় কেউ কেউ গলা ছেড়ে গান গায়। কেউ কেউ খোশ গল্পে মেতে উঠে প্রিয়জনদের সাথে। এরই সাথে একদল বখাটে আসে মাদক সেবনের মাধ্যমে সুন্দর এই পরিবেশকে নষ্ট করতে। সন্ধ্যার পরে বা দিনে দুপুরে একটু ফাঁকা জায়গা পেলেই অনেকে গাঁজার নেশায় ডুবে যায় এই নির্মল পরিবেশের কোন এক প্রান্তে। এমনটাই অভিযোগ করেন পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা অনেকেই।

    ভাসমান এই দোকানকে কেন্দ্র করে কিছু ভাসমান পতিতার আনাগোনা রয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ। যারা সন্ধ্যা হলেই খদ্দের খুঁজে এখানে এসে। ভালো খদ্দের পেলে বাহিরের কোন হোটেল-রিসোর্ট এ চলে যায় মধু চন্দ্রিমায়। আর ভোলা ভালা খদ্দের পেলে সিআরবি আশেপাশের অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে হারিয়ে যায়। তাতে আবার অনেকে টাকা, মোবাইল ও মানিব্যাগ গচ্ছা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে তাদের পাতানো ফাঁদে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসামাজিক কর্মকাণ্ড, রাস্তা ফুটপাত দখল, দোকানদারদের এমন আচরণ ও খোলামেলা পরিবেশে মাদক সেবনের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে রেল নিরাপত্তা বাহিনীর অলসতা ও পুলিশ প্রশাসনের নজরদারির অভাব। অথচ সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে ৩শ গজ পাশে একদিকে রেল নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকি, অন্যদিকে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ি অবস্থিত। এছাড়াও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের বাসভবনটিও পুলিশ ফাঁড়ি ঘেঁষা।

  ফুটপাত দখল করে দোকান ও হাঁটা চলার সমস্যা সৃষ্টির বিষয়ে সেখানকার ক'জন দোকানদারের সাথে কথা হলে চোখ কপালে উঠার মত তথ্য উঠে আসে।  অনুসন্ধানে জানা যায়, এখানে অবস্থানরত কোন দোকানই নিজের ইচ্ছায় বসতে পারে না। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর হয়ে পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে ক্যাশিয়ার হারুন ও মতিন। প্রতি দোকান থেকে নেয়া হয় দৈনিক ৩৩০ টাকা করে। যা আগে ১০০ টাকা করে নেয়া হলেও এখন প্রশাসনিক খরচ বেশী বলে ৩৩০ টাকা করে নেয়া হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দোকানদার। ৩শ টাকা দোকান ভাড়া ও ৩০ টাকা রাতে দোকান পাহারার জন্য নেয়া হয়। আগে প্রতিটি দোকান ব্যারাকের ভেতরে রাখা হতো। পরে বিষয়টি রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাজানি হলে এখন ব্যারাকের বাহিরে আশেপাশে আর সাত রাস্তার মোড়ে রাখা হয় এই সব ভাসমান দোকান। এখানে প্রায় ৫০ টি'র মতো ভাসমান দোকান বসে পুরো এলাকা জুড়ে। প্রতিটি দোকান থেকে টাকা তোলার দায়িত্ব মতিনের। সে সব টাকা উত্তোলন করে রাতে বুঝিয়ে দেয় হারুন-কে।  প্রতিদিন গড়ে ৫০টি দোকান থেকে প্রায় ১৫ হাজার এবং মাস শেষে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মতন চাঁদা আদায় করে হারুন-মতিন গং। 

  কারা এই হারুন-মতিন গং?  জানা যায়, হারুন রেল নিরাপত্তা বাহিনী'র অবসরপ্রাপ্ত সাবেক একজন কর্মচারী (পোষ্টিং হাবিলদার) ছিলেন। আর মতিন স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী হারুনের সাব-ক্যাশিয়ার। সেই সুযোগে হারুন টাকা তোলার ক্যাশিয়ারের প্রধান দায়িত্বের পাশাপাশি নিজেই ফুটপাত দখল করে সেখানে দিয়েছেন পান-সিগারেটের দোকান। এই সুবাদে হারুনের কেউকে দিতে হয় না কোন দোকান ভাড়া। 

   অনুসন্ধানকালে একটি ভিডিও তে দেখা যায়, অবসরপ্রাপ্ত হারুনের বক্তব্য-তেই ভেসে উঠে রেলের জায়গায় দোকান বসালে কিভাবে, কাকে, কতো দিতে হয় অগ্রিম এডভান্স বাবদ ও দৈনিক-মাসিক হারে। সেখানে নাম উঠে আসে এসআই ইমন মজুমদার ও চীফ ইনসপেক্টর মাসুদের। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হলে, প্রশাসনিক চাপের কারণে এসআই ইমন মজুমদার'কে বদলী করে, সিআই মাসুদ-কে রাখা হয় বহাল তবিয়তে। ডিপার্টমেন্ট এর উপরস্থ আশীর্বাদ স্বরুপ অদৃশ্য এক বিশেষ শক্তির কারণে বদলী করা হয়নি সিআই মাসুদ'কে। সেই থেকে এখনও সিআরবি'র দর্শনার্থীদের পুঁজি করে সরকারি জায়গা, ফুটপাত ভাড়া বাণিজ্যের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন সিআই মাসুদুর রহমান।

  নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সিআই মাসুদের আশকারাতেই অবসর প্রাপ্ত পোষ্টিং হাবিলদার হারুন শিরিষতলাতেই সরকারি জমি দখল করে তুলেছেন বাড়ি ঘর। সেখানে তার পরিবার থাকলেও তিনি থাকেন ব্যারাকের মেসে। ঐ স্থানের আশেপাশে অনেকগুলো অবৈধ কাঁচা বস্তি ঘরে রয়েছে রেলের বিদ্যুৎ সংযোগ, যা নিয়ন্ত্রণ করেন হারুন একাই এবং সেখান থেকেও পান বিদ্যুৎ বিক্রির টাকা উত্তোলন করেন। লাভু নামে একজন এই বস্তি ঘর থেকে মাস শেষে চাঁদা আদায় করে। সূত্রে আরও জানা যায়, লাভু মাদক মামলায় জেল ফেরত আসামী। লাভুকে নিয়ন্ত্রণ করেন হারুন। এতো সব ইনকামের পরেও হারুন নিজেও দখলে নিয়েছে ব্যারাকের সামনের রেলের ফুটপাত, দিয়েছেন সেখানে পান, বিড়ি, সিগারেটের দোকান। এতেও নিশ্চুপ রেল নিরাপত্তা বাহিনী। এতে বার বার সব অভিযোগের তীর ভেসে উঠে দায়িত্বে থাকা সিআই মাসুদুর রহমানের দিকে। 

গত কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একাধিক বার সিআই মাসুদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তখন থেকে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপরাধ হিসেবেই বহাল তবিয়তেই আছেন সিআই মাসুদ। যা রেল প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানোর মতই বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রীতিমতো।

  রেলের জায়গায় দোকান ভাড়া দিয়ে দৈনিক ভাড়ার টাকা আদায় ও নতুন করে দোকান বসানোর চিত্র উঠে আসে লাগাতার অনুসন্ধানে। গত ২১/০৯/২২ তারিখে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মতিন হেঁটে হেঁটে দোকান প্রতি টাকা তুলছে আনন্দ মনে অর্ধ-উদাম গায়ে। তার কিছুক্ষণ পরে কিছু যুবক এসে হারুনকে নতুন দোকান বসানোর ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে,  হারুনের রেফারেন্সে ঐসব যুবকরা সহ মতিন ব্যারাক হাউজের সামনে বসেই হিসাব নিকাশ কষছিলো প্রতিদিনের চাঁদার টাকা আদায় করা বাদ রেখে।  "এ যেন নতুন চাঁদের আগমনে থেমে যায় আগের ভাগ্য জোছনার আলো কুঁড়ানো !"  খাবারের মান, দাম ও দোকানের দখলকৃত আয়তন অনুযায়ী কোনো কোনো দোকানিকে সালামি বাবদ দিতে হয় অর্ধলক্ষ থেকে একলক্ষ পযর্ন্ত অফেরতযোগ্য টাকা। যা সিআই মাসুদের হয়ে দরকষাকষি ও ফিক্সড করে মতিন-হারুন গং। মতিন-হারুন গংদের প্রতিদিন দোকান প্রতি তিনশ টাকা করে তোলার সত্যতা যাচাই করতে কথা বলা হয় বেশ কিছু দোকানদারদের সাথে। তারাও নির্দ্বিধায় সত্যতা শিকার করে বলে প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই হারুনকে দিতে হয় ৩শত ৩০ টাকা।    আরো একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হলো, এই সব খাবারের দোকানের উচ্ছিষ্ট, পঁচা খাবার, লেবুর খোসা, ময়লা আবর্জনা মূল রাস্তার রেলিং এর পাশে ফেলা হয় প্রতিদিন। যা থেকে বের হয় পঁচাগলা  দুর্গন্ধ। যাতে রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। 

  আরো দেখা যায়, কিছু উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের অসামাজিক কর্মকাণ্ড। যা ঘটছে রেল নিরাপত্তা বাহিনীর চোখের সামনেই। যা তারা চোখ বুঁজে হজম করছে দিন শেষে মোটা অংকের দোকান ভাড়ার টাকার আশায়। কারণ এই সব বেপরোয়া ছেলে মেয়েরাই এই সব ভাসমান দোকানের প্রতিদিনের ব্যবসার লক্ষী। যারা না আসলে দোকানে মাছিও উড়বে না। সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে জিএম কার্যালয়ের মেইন ফটক পর্যন্ত কেউকেই বসতে বা আড্ডা করতে দেয়া হয় না অফিস চলাকালীন সময়ে। কিন্তু অফিস টাইমের শেষে এই রাস্তাতেই দেখা যায় যুবক যুবতীদের খোলামেলা বেহায়াপনা। এতেও লক্ষী হারাবার ভয়ে একপ্রকার উপভোগ্য বিষয় হয়ে যায় নিত্যদিনকার এই সব নোংরামি। আবার ফেরার পথে এদেরকেই টার্গেট করে চোর ছিনতাই চক্রের সদস্যরা। কেউ ছোরার আঘাতে মেডিকেলে ভর্তি হয়, আবার কেউ মোবাইল টাকা পয়সা সব খোয়া দিয়ে জান নিয়ে বাসায় ফিরে। সামাজিক মান মর্যাদার ভয়ে না থাকে অভিযোগ দেয়ার সুযোগ, না থাকে প্রতিবাদ করার সুযোগ। যার কারণেই অপরাধী চক্র আরো শক্তিশালী হয় দিনের পর দিন। 

  গত ১১ সেপ্টেম্বর helpline Chittagong নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপে দেখা যায়, সিআরবিতে ছুরিকাঘাতে যুবকের মোবাইল, টাকা পয়সা ছিনতাই হয় সেইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টায়। পরে একজন পথচারী জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশের কোন সাহায্য পায়নি। সেই পোস্টে একজন পুলিশ সদস্য সাহায্য করবে মর্মে এগিয়ে এলেও, পাওয়া যায় নি কারো সাড়া। তবে সেই পোস্টে অনেকেই কমেন্ট করে জানিয়েছেন, এখানে এখনো হরহামেশা চুরি ছিনতাই হয়। যত্রতত্র বসে মাদক সেবীদের আড্ডা। এ ঘটনায় অনেকে সেই ফেইসবুক পোস্টে ক্ষোভে ফাটা মন্তব্য করে জানিয়েছেন, সেখানে প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ কেন? এতো সব অনিয়ম আর ঝুঁকির মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে একটু অবসর সময় কাটাতে আসতে গেলে রয়ে যায় জান ও মালের নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপক ঝুঁকি। অথচ, সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে সমান দূরত্বে রয়েছে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ি ও রেল নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকি।

    নাগরিক সমাজ এর তীব্র নিন্দা করে জানায়, এখানে অবৈধভাবে দোকান পাট বসিয়ে হাটা চলার বিঘ্ন ঘটিয়ে ভাড়া খাওয়ার কারণে নাগরিকদের নাগরিক অধিকার হরণ হচ্ছে। যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলায় কোণঠাসা রয়েই গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, আমি মাঝে মাঝে আমার ছাত্র ছাত্রীদের এখানে নিয়ে আসি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ও একটু প্রকৃতির ছোঁয়ায় বিনোদনের আনন্দ দিতে। কিন্তু এইভাবে সমাজের অধ:পতন হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি না থাকলে, সমাজ নষ্টের সাথে সাথে একটা বদনাম বয়ে বেড়াতে হবে চট্টগ্রামবাসীদের। কারণ, এখানে সারা বাংলাদেশের মানুষ শতবছরের দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে।   

 গত কিছুদিন পূর্বে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একাধিক বার সিআই মাসুদের বিরুদ্ধে ভিন্নকিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তখন থেকে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপরাধ হিসাবেই বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন মাসুদ। যা রেল প্রশাসনকে বৃদ্ধাআঙ্গুলী দেখানোর মতই বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রীতিমত। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলে এই সমস্ত চাঁদার টাকা সমান দুই ভাগে ভাগ করে হারুন পৌঁছে দেয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সিআই মাসুদ ও সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নিকট।    আরো অভিযোগ রয়েছে, সাতরাস্তার বলিখেলার মাঠের পাশে ঘুরতে এসে ফুসকা আর চটপটির দোকানের আশেপাশে ঘাসে মাটিতে বা অন্য কোন স্থাপনায় বসলে এখানে বসা যাবে না বলেই চিৎকার চেঁচামেচি করে কিছু দোকানীর লোক। উন্মুক্ত, নির্জন ও শতবর্ষী গাছের ছায়াযুক্ত মনোরম পরিবেশ হওয়ায় কেউ তাদের পাতানো চেয়ারে বসলেই রেস্টুরেন্টের ওয়েটারের মত হাজির হয় ফুচকা চটপটির অর্ডার নিতে। সারি সারি পাতানো চেয়ারে বসে ফুসকা বা চটপটির অর্ডার দিলেই ঝামেলা শেষ। আছে খাবারের দাম নিয়ে তর্কাতর্কি ও বাকবিতণ্ডার অভিযোগ।    সূত্রে জানা যায়, সিআরবি গোয়াল পাড়া, হাসপাতাল কলোনী, চৌদ্দ জামতলা ও আশেপাশের এলাকায় মাদক বেচাকেনা সহজলভ্য হওয়াতে সিআরবি'র নির্জন ও মনোরম পরিবেশকে বেছে নেয় মাদক সেবীরা। যুব সমাজের নির্ভরতার মাদক সেবনের স্পট, হাটাচলায় ফুটপাত দখল এবং সাচ্ছন্দ্যে পরিবারের সাথে বসে সময় পার করার সময় ডাকাডাকি, তাদের পাতানো চেয়ারে বসলে খাবারের অর্ডার দেয়া সহ নানান সমস্যার জন্য অনেকেই দায়ী করছেন রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে। 

  রেলের জায়গায় ভাসমান দোকানপাট হতে প্রতিদিন চাঁদা আদায়ের নেপথ্যের মূল হোতা ও মতিন-হারুন গংদের প্রধান আশ্রয়দাতা খ্যাত আরএনবি'র ক্ষমতাবান ও অদৃশ্য শক্তির ছায়াতলে থাকা সিআই মাসুদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বারে বারেই স্থানীয় প্রশাসনের উপর দোষ চাপান। অথচ রেলের সম্পত্তি দেখ ভাল করার দায়িত্ব হচ্ছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর।   এসব অনিয়ম, মাদক বেচাঁকেনা থেকে সেবন, ফুটপাত দখল করে ফাঁড়ির নামে চাঁদা তোলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আইসিও সাদ্দাম হোসেন লাখোকন্ঠকে বলেন, পুরো এলাকা যেহেতু রেলওয়ের, এটা তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা। আর আমি এখানে এসেছি দেড় মাস হলো। আমরা প্রতিনিয়ত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাই। ফাঁড়ির নামে চাঁদা তোলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না এবং কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।  

 ভাসমান দোকান প্রতি চাঁদা আদায় সহ অন্যান্য  অভিযোগ আগের মত আবারও গত জুন মাসে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় উঠলে পূর্বের ইমন মজুমদারের মত এইবারেও সিপাহী জসীম উদ্দিন'কে (সিজিপি ওয়াই)-তে বদলী করা হলেও সিআই মাসুদ এইবারেও থেকে যান ঘটনার অন্তরালে।   এর সত্যতা সম্পর্কে কমান্ড্যান্ট রেজওয়ানুর রহমানকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে জসীম'কে বদলীর বিষয়টি তিনি জানেন বলেন। সিআই মাসুদ-কে প্রত্যাহার কিংবা বদলির বিষয়ে তার কোন এখতিয়ার নেই বলে তিনি জানান, এটি তার সিনিয়র কর্মকর্তা চীফ কমান্ড্যান্টের বিষয়।

  এ ব্যাপারে আরো রিপোর্ট থাকলে তাকে জানানোর জন্য বলেন তিনি। বাহিনীর সুনাম রক্ষার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে তিনি সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও লাখোকন্ঠ-কে জানান।তিনি।

বায়ুদূষণ রোধে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দিলেন পরিবেশমন্ত্রী

আজ মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এডিপি সভায় পরিবেশমন্ত্রী ছবি লাখো.....

মুসলিম উম্মাহকে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ওআইসির সদস্যভুক্ত সাতটি দেশের হাইকমিশনা.....

কড়া নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে বইমেলা- ডিএমপি

ছবি-সংগৃহিত

লাখোকন্ঠ প্রতিবেদন: বইমেলা কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা এড়াতে মেলা প্রাঙ্গণ, শাহবাগ, পলাশীসহ আশপাশ.....

সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১২তম

ছবি-সংগৃহিত

লাখোকন্ঠ প্রতিবেদন: বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় ব.....

১৯১টি নিউজ পোর্টাল বন্ধে চিঠি দেওয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ফটো

লাখোকন্ঠ প্রতিবেদন: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়- এমন .....

রাজশাহীতে আ.লীগের সমাবেশে বিএনপির চেয়ে ১৪ গুণ বেশি লোক হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ছবি : পিআইডি

&nb.....

ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু ২৭ ফেব্রুয়ারি

আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো ক্যাফিয়েরো ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছব.....

অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে দেশের উন্নয়ন হয় না: প্রধানমন্ত্রী

ছবি-সংগৃহিত

লাখোকন্ঠ প্রতিবেদন:  প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনের মাধ.....

জাটকা ও মা মাছ নিধন বন্ধে আরও বেশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলন। ছবি-লাখোকন্ঠ

লাখোকন্ঠ প্রতিবেদন: মৎস্য ও প্রাণ.....

অনিবন্ধিত পোর্টাল ও আইপিটিভির গুজব বড় চ্যালেঞ্জ : তথ্যমন্ত্রী

ছবি - ইন্টারনেট

লাখোকন্ঠ প্রতিবেদন: অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল, আইপিটিভি ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গুজ.....

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার ডিজিটাল সংযোগ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা-২০২৩ এর উদ্বো.....

পদোন্নতি পেয়ে ৪ জন অতিরিক্ত আইজিপি

বাঁ থেকে- জামিল আহমদ, ওয়াই এম বেলালুর রহমান, মীর রেজাউল আলম ও মো. হুমায়ুন কবির

লাখোকন্ঠ প্রতিবেদন: বাংলাদ.....