• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯

ডিপ্রেশন : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও সমাধান

ডিপ্রেশন : একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও সমাধান

সাইফুর রহমান ফাহিম : যদি আমরা ডিপ্রেশনের খুব কাছাকাছি বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে চাই, সবার আগে আসবে ‘অবসাদ’ শব্দটি। অবসাদ – এই শব্দটির সাথে যে দুঃখ বা বিষাদ লেগে থাকে, সর্বনাশা রোগটিও ঠিক সেইরকমই। ডাক্তারী মতে যা ডিপ্রেশন বলে পরিচিত, তার পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে মনখারাপ আর ভাল না লাগা। যে বিভিন্ন আঙ্গিকে ডিপ্রেশন বা অবসাদ রোগটিকে বোঝবার চেষ্টা করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র দেওয়া নিয়মাবলী (গাইডলাইন)। এই নিয়মাবলী অনুযায়ী, অবসন্ন মন (‘লো মুড’), শক্তিহীনতা (‘লো এনার্জী’) এবং উৎসাহহীনতা (‘লো ইন্টারেস্ট’)-কে ডিপ্রেশনের আওতায় ফেলা হয়েছে। আরেকটু গভীরে গিয়ে, বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী অ্যারন বেক-এর তত্ত্ব অনুযায়ী, নিজের, পরিবেশের এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা (নেগেটিভ ভিউ)-র সম্মিলিত প্রকাশই হল ডিপ্রেশন। অবশ্য, শুধু নেতিবাচক ধারণা থাকলেই চলবে না, রোজকার জীবনে তার প্রভাবও পড়া চাই। বই-এর ভাষায় যাকে বলে – ‘Significant Socio-occupational impairment’.

প্রকৃত পক্ষে মানুষের দুই ধরনের রোগ বা ব্যাধি হতে পারে। একটি হলো শারীরিক অপরটি আত্মিক বা মানুষিক । শারীরিক কষ্টের চাইতেও মানুষিক কষ্ট কোন অংশেই নগন্য নয়। শারীরিক কষ্টে মানুষ চিকিৎসা নেয় এবং ভরসা করে। কিন্তু আত্মিক ব্যাধির কারণে মানুষ শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে ফেলে। আবার অনেকেই মনে করে থাকেন যে, মানুষিক রোগ মানেই বোধহয় ডিপ্রেশন। আসলে এমনটিও নয়। উদাহরণ হিশাবে লিখছি, যেমন ধরুন একজন মানুষ দুই-তিন দিন খুব চিন্তায় এবং হতাশায় আছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ এটাকে সাময়িক অবসাদ মনে করেন তারা একে ডিপ্রেশন এর আওতায় আনতে চান না। তারা এটিকে ডিপ্রেশন এর প্রাথমিক লক্ষণ মনে করেন। তাহলে মনের মাঝে একটি প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে না? যে তাহলে তারা কোনটিকে ডিপ্রেশন মনে করে! চলুন এই নিয়ে একটু পড়া যাক, চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিপ্রেশন বা ডিপ্রেশিভ এপিসোডকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা হয় – ইউনিপোলার ডিপ্রেশন আর বাইপোলার ডিপ্রেশন। ডিপ্রেশনের গভীরতারও প্রকারভাগ আছে – অল্প (মাইল্ড), মাঝারী (মডারেট), বা গভীর (সিভিয়ার) হতে পারে। এর সাথে এসে জুড়ে বসতে পারে বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ।

কোন অসুখ বা মানসিক রোগ অবসাদ বা ডিপ্রেশন ডেকে আনতে পারে? সেই তালিকাটি বেশ লম্বা ও জটিল। এ বিষয়ে যে অসুখটির কথা সবার আগে বলা উচিত বলে আমি মনে করি, তা হল স্কিজোফ্রেনিয়া। স্কিজোফ্রেনিয়া!

নামটা বড় অদ্ভুত না? আমার কাছে বেশ অদ্ভুত আর নতুই মনে হয়েছে। এখন কি নাম জানা হলে চলবে বলে মনে করেন? আমার কাছে মন হয় এর লক্ষণ এবং ধরণ সম্পর্কে কিছু অজানা না জানলেই নয়৷ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এর নেতিবাচক লক্ষণগুলির (নেগেটিভ সিম্পটমগুলি) প্রকাশ। আমার অনুসন্ধান এ আমি মৌলিক চারটি প্রকার পেয়েছি।

যেমন:

১. চিন্তা করা বা কথা বলার ক্ষমতা কমে যাওয়া (অ্যালোগিয়া)

২. মনের বিভিন্ন ভাব প্রকাশের ক্ষমতা সঙ্কুচিত হওয়া (অ্যাফেক্টিভ ফ্ল্যাটেনিং)

৩. কোন কিছু ভাল লাগার ক্ষমতা কমে যাওয়া (অ্যানহেডোনিয়া/Anhedonia), এবং

৪. কোন কাজ শুরু করার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলা (অ্যাভোলিসন/ Avolition)।

মুশকিলটা হয় এখানেই যে লক্ষণগুলি অনেক ক্ষেত্রেই ডিপ্রেশন রোগটির লক্ষণের মতন দেখতে লাগে। কিন্তু জৈবিকভাবে দুটি রোগ সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বাভাবিক ভাবেই চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা।

স্বাভাবিকভাবে, যে কোন রোগ নির্ণয় করতে দেরি হলে বা ভুল চিকিৎসা করলে, আসল রোগটি জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে। এমনকি সেই রোগ থেকে মস্তিষ্কে স্থায়ী প্রভাব পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে (সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম নার্ভ ইনজুরি বা স্নায়ুপ্রদাহ জনিত)। যার ফল মানসিক স্বাস্থ্যের প্রবল ক্ষতি থেকে প্রাণহানি, যেকোন কিছুই হতে পারে। আচ্ছা, একটা কথা ডিপ্রেশন এত মারাত্মক ব্যাধি তা না হয় উপরের লেখাগুলো থেকে একটু আঁচ পাওয়া গেলো। কিন্তু কিভাবে বুঝবো যে, ডিপ্রেশনে পড়লে কেমন বোধ হয়? কি কি আচরণ তার মধ্যে পাওয়া যায়? যেহেতু একটি ব্যাধি বলা হয়েছে, লক্ষণ তো অবশ্যই থাকবে। তাই নয় কি? হ্যাঁ তাও আছে। যেমন ধরুন, কখনো খুশি কখনো উদাসীন। সকালে ভালো বিকেলে খারাপ। আজ বেশ আনন্দে আছে কাল মানসিক যন্ত্রণায় গুমরে মরছে। আমরা প্রথমেই পড়ে এসেছি, সাময়িকী সময় হতাশাকে ডিপ্রেশন বলে না! তাহলে লক্ষণ এ কেন সকাল-বিকাল এর উদাহরণ টানছি! তা কি খেয়াল করছেন?

হুম, আসলেই যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ এটাতে ডিপ্রেশন বলতে চান না, তবুও প্রাথমিক ধাপ বলেছেন কিন্তু। আর এর থেকে শুরু হওয়া মানেই আস্তে আস্তে গভীরে প্রবেশ। তাই এটাকে ডিপ্রেশন বললে তেমন বড় পাপ হবে বলে আমি মনে করি না। এতেই কি লক্ষণ শেষ? আরে না সবে মাত্র শুরু, তারপরে সে জীবনটাকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। কখনো ভাবে এই জীবন জীবন নয়। কখনো ভাবে এইতো বেশ আছি, ভালো আছি।জীবনের প্রতি ঘৃণা বা উদাসীনতা। মনে হয় অনেক কিছু পাওয়ার ছিল, করার ছিল, হলো না। অতএব এই জীবনটা অর্থহীন। এটাকে বয়ে নিয়ে যেতে হবে কিন্তু আর কত দিন?

= কেমিক্যাল চেঞ্জ। শরীরে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া ও অহেতুক শরীরকে কষ্ট দেওয়া।

=মানসিক ফোবিয়া।

=অন্ধকারকে ভয়, কোনো জন্তু, পোকা, পানি, আগুনের ভয় বা অজানা আতঙ্ক। বারবার হাত-পা ধোয়া, গোসল করা, ঘ্যান ঘ্যান করা ইত্যাদি। আবার অহেতুক চিন্তা ও উত্তেজনা, একটুতেই ঘাবড়ে যাওয়া, একটুতেই ভেঙে পড়া।

=কাজ করার ইচ্ছা হয় না। উৎসাহের অভাবে অল্প বয়সেই ক্লান্তি অনুভব করা। কাজ করার ক্ষমতা আছে কিন্তু ইচ্ছার অভাবে কিছুই করতে চায় না। অলসতা যেন গ্রাস করে ফেলছে। এমনকি খেলাধুলা বা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও উৎসাহের অভাব হলে বুঝতে হবে ডিপ্রেশন হয়ে আছে।

=গোসল করা, কাপড় ধোয়া, খাবার ইচ্ছে ত্যাগ। গোসল করতে চায় না, খেতেও ইচ্ছুক নয় আবার ময়লা পোশাকেই যেন থাকতে চায়, এমতাবস্থায় বুঝতে হবে ডিপ্রেশনে ভুগছে।

=ঘুমানো। কখনো কম ঘুমায়, কখনো সব সময় শুয়ে থাকতে ভালোবাসে।=হরমোন চেঞ্জ। হরমোনের পরিবর্তন হতে থাকলে ডিপ্রেশন আসে। বয়ঃসন্ধিকালে এই ধরনের অবস্থা লক্ষ করা যায়। এইসব লক্ষণ অবশ্যই পাওয়া যাবে। এতক্ষণ না হয় জানলাম কি লক্ষণ দেখলে বুঝতে পারবো ডিপ্রেশন এ রোগী, কিন্তু কেন এমনটা হতে পারে তা কি কল্পনায় এঁকেছেন? আসলে প্রকৃতপক্ষে এর নিদিষ্টতা বর্ণনা করা বড়ই কঠিন ব্যাপার। অনেক কারণেই এই ব্যাধিতে ভূগতে পারে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা জরুরী মনে করছি। আমাদের চাহিদার কোন শেষ নেই। নানান চাহিদা। একটা পেলে আরেকটা চাই। কখনো একটাতে বা একটুতে সন্তুষ্ট হতে পারি না । বারবার বিভিন্ন ধরনের আবদার বা বায়না করতে থাকা নিতান্তই অভ্যাসও বটে ।=ভালোবাসা বা প্রেম। ভালোবাসায় ব্যর্থতা আসলে, প্রেম সফল না-হলেই ডিপ্রেশন হয়ে যাওয়া। ফলে নেশা করে বা অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজ করতে থাকে।

=ক্রোধ। যে ধরনের বিচার বা চিন্তা চলবে তা যদি নেতিবাচক বা ব্যর্থ হয় তাহলে ক্রোধ জন্ম নেয়। এড্রোনিল গ্রন্থি, ক্যাপিলারি টিউব, নিউরোনসের যেমন ক্ষতি হতে পারে, তেমনি ভুলও হতে পারে। যা পরবর্তী ক্ষেত্রে ডিপ্রেসড হতে সাহায্য করে। ক্রোধের বশে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। অনেকে বলেন, ক্রোধ ছাড়া চলে না। এটা ভুল। ক্রোধ শুধু ক্রোধ নয়-এ যেমন নিজেকে জ্বালায়, অন্যকেও জ্বালায়। ফলে, ক্রোধ হলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। ডিপ্রেশনের শিকার হতে হয়।

=ইমোশন। ইমোশনাল হওয়া ভালো কিন্তু অতি ইমোশনাল হওয়া ভালো নয়। এ হলো ডিপ্রেশনের লক্ষণ। ইমোশনাল ব্যক্তি বারবার চেষ্টা করে অন্যকে আকর্ষিত করতে। যখন পারে না বা নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যখন ব্যর্থ হয়, তখন ডিপ্রেশন আক্রান্ত হয়ে যায়।

=আত্মহত্যা। আত্মহত্যা হলো মানসিক ব্যাধি যা ডিপ্রেশন থেকে জন্ম নেয়। ডিপ্রেশনের শেষ অবস্থায় পৌঁছালেই আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত হয়।

ডিপ্রেশন যেকোনো বয়সে হতে পারে। ছেলেমেয়ে, ছাত্রছাত্রী, শিশু থেকে বয়স্ক সবাই ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারে।

ডিপ্রেসন থেকে বাঁচার জন্য যা করা যেতে পারে—

লক্ষ রাখা দরকার সব সময় যেন নৈতিকতার মাধ্যমে আনন্দে থাকা যায়।

সুখ-দুঃখ টাকার এপিঠ আর ওপিঠ। দুটোকে মেনে নিতে হয়।

যেখানে খুশি হারিয়ে যায় সেখান থেকে খুশির পথ খুঁজে নিতে হয়।

চিন্তার পরিবর্তন দরকার। বিষাক্ত চিন্তা, ব্যর্থ চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তা, অহেতুক চিন্তা, ভয়ের চিন্তা ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। তার জন্য ম্যানেজমেন্টের কথা হলো, কথা বলো, শান্ত থাক, ইতিবাচক হও, অন্যকে নয় নিজেকে বদলাও।

আমাদের মধ্যে যেমন অনেক গুণ আছে তেমনি আবার ত্রুটিও আছে। ত্রুটিগুলোকে স্মরণ করা ও কাজে লাগানো দরকার।

নিজের কাউন্সেলিং নিজে করা দরকার। বিশেষ করে রাতে শোয়ার আগে, সারা দিনের অ্যাকাউন্ট চেক করা এবং পরের দিন পুনরাবৃত্তি যেন না হয় তার প্রতি লক্ষ্য রেখে নতুনভাবে শুরু করা দরকার।

মনের প্রভু তো আমি। মন আমার দাস। তাই মনকে দমন নয় বরং সুমনে পরিবর্তন করা দরকার। চাবকে নয়, ভালোবেসে করা দরকার। কেউ আমাকে বিরক্ত করলে কেন বিরক্ত হব? আমি পারমিশন দিচ্ছি কেন? কারণ মন দুর্বল তাই। মনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা দরকার। আমি যা আমি তাই। মেনে নিতে হয়। লক্ষ্য মহৎ হলে সফলতা আসবেই। ধৈর্য ও সহনশীলতার কবচ সঙ্গে থাকলে জয় হবেই হবে। এক্সপেক্ট ও রিজেন্ট এই অঙ্ক জানা থাকলে ডিপ্রেশন আসবে না।

তরুণ-তরুণীরা মাথাকে যত ব্যবহার করবে ততই ভালো থাকবে।

যত সিম্পল হওয়া যাবে ততই ডিপ্রেশন মুক্ত থাকা যাবে। অসম্ভব কথাটা আমাদের অভিধানে থাকতে নেই।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে সঙ্গে নিয়ে চললে ডিপ্রেশনকে প্রতিহত করা যাবে।

ভুলে যাও, ক্ষমা করো এই দুটো শব্দ ডিপ্রেশন মুক্ত জীবনের চাবিকাঠি।

সব বোঝা আল্লাহকে সমর্পণ করে দিয়ে মুক্ত মনে থাকতে পারলে ডিপ্রেশন আসবে না।

বাহ্যিক সুখ ক্ষণস্থায়ী, সেই জন্য এই সুখে লালায়িত না-হয়ে আন্তরিক সুখের সন্ধানে নিয়োজিত থাকা দরকার।

যেমন পানিকে পানি, বরফকে বরফ দেখি তেমনি যা দেখছি, যা শুনছি সেইভাবে দেখা ও শোনা দরকার। অতিশয়তা ভালো নয়। আধ্যাত্মিক হওয়া দরকার। শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের প্রতি একনিষ্ঠ হলে ডিপ্রেশন আসবে না।

ক্রোধ থেকে মুক্ত থাকা দরকার। এ জন্য ভুলকে ঠিক করতে ভুল নয়।হীনতাকে সহযোগী করা উচিত নয়। তর্কে তর্ক বাড়ায় সেই জন্য প্রয়োজনে হার স্বীকার করা ভালো। এই হার হার নয়, হরমনি সৃষ্টি করে। রোগ আসবে কিন্তু রোগী হওয়া ঠিক নয়। রোগ দেহের হয়, চিকিৎসা করা দরকার কিন্তু মন যেন রোগাক্রান্ত না হয়ে যায়। ক্রোধকে অস্ত্ররূপে ব্যবহার করা দুর্বলতার লক্ষণ। দুর্বল নয়, সবল হওয়া দরকার। ক্রোধ আসলে বিরাম নেওয়া দরকার। তিন-চারবার গভীর শ্বাস নিলে ক্রোধ কমে যাবে।শুভ ভাবনার এনার্জি বিকিরণ করা দরকার।নিজের পছন্দমতো সবকিছু সব সময় হবে আশা করা বৃথা। সেই জন্য পছন্দমতো যদি না হয়, তাহলে ইগোকে ব্রেক করে সবকিছুকে মেনে নেওয়া দরকার।

শ্রদ্ধা এক ধরনের ইতিবাচক এনার্জি। সবার জন্য সমান হওয়া দরকার সে ছোট হোক আর বড়।

মা-বাবারা কীভাবে সন্তানকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত রাখবেন তার জন্য নিজে নিজেই চেষ্টা করা দরকার। সেই চেষ্টা করতে কার্পণ্য করা উচিত হবে না।

বহির্জগৎ, টিভি, ইন্টারনেট, সেল ফোন ডিপ্রেশন সৃষ্টি করে সেই জন্য নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এসবের ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে।ওষুধ, কাউন্সেলিং, যোগাসন, সহজ রাজযোগ, মেডিটেশন করা দরকার। এতে করে আবার সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়া যাবে।আমার কাছে যদি এক কথায় এর থেকে মুক্তি জন্য উত্তর চাওয়া হয়। তাহলে আমি বলবো, নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখা কাজের মধ্যে দিয়ে। হাদিসে শরীফে আছে, আল্লাহ যেই কয় শ্রেণির মানুষকে অপছন্দ করেন তারমধ্যে একশ্রেণি হলো যারা সামর্থ্য থাকার পরেও কাজ করে না। অর্থ্যাৎ অকর্মণ্য যুবক/ যুবতী । আচ্ছা, একটা দারুণ কথা মনে এসেছে, আপনি নিশ্চয়ই বিল গেসট এর নাম শুনে থাকবেন, তাই না? বিল গেসটস্ কে একবার প্রশ্ন করা হলো, কিভাবে সুখী হওয়া যায়? উনি উত্তরে বললেন, যদি তুমি ৫ মিনিট সুখী থাকতে চাও তাহলে একটা গান শুনো। যদি একদিন সুখে থাকতে চাও তাহলে ভ্রমণে বের হও। যদি একসপ্তাহ সুখে থাকতে চাও তাহলে লং জার্নিতে বের হও। যদি একমাস বা দু'মাস সুখে থাকতে চাও তাহলে বিয়ে কর। আর যদি সারাবছরই সুখে থাকতে চাও তাহলে যেই কাজ করছো ঐ কাজকে ভালোবাসতে শিখ। তাহলে সারাজীবনই ভালো থাকতে পারবে। তাই অলস সময় বসে না থেকে কাজে লেগে যেতে পারেন। ভাবনার চাইতে কাজ করা ভালো। বসে বসে হাজার কল্পনা-জল্পনার চাইতেও কাজ করা ভালো । যারা কাজ করে তারা ডিপ্রেশন বা হতাশায় থাকার সুযোগই থাকে না। কারণ কাজের কারনে মন দুশ্চিন্তায় পড়ার সুযোগ পায় না৷ পৃথিবীতে বেকার,অকর্মণ্য ও অনুৎপাদনশীল তারাই ,যারা অলস ,অনুৎসাহী ও গল্পগুজব করে। সময় নষ্ট করে তারা পিছনে পড়ে থাকা লোকেদের সাথে থেকে যেতে পেরে আনন্দিত হয়েছে। (সুরা তাওবা : ৮৭) কর্মহীন হয়ে বেকার বসে থাকা খুবই খারাপ কথা ।এমন ব্যক্তির মস্তিষ্ক এক সময় শয়তানের কারখানায় পরিণত হবে । সে লাগামহীন উটের ন্যায় এদিক-ওদিক বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে । আপনি যখন কাজ ছেড়ে অলস হয়ে যাবেন তখন দুশ্চিন্তা পেরেশানি ও উদ্বিগ্নতা আপনাকে ঘিরে ধরবে অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের ফাইল আপনার সামনে খুলে যাবে ।আপনি তখনই মুশকিলে পড়ে যাবেন ।আপনার প্রতি আমার আন্তরিক উপদেশ থাকবে , আলস্য পরিহার করুন বেকার থাকা মানে নিজেকে নিজে জীবন্ত কবর দেওয়া । আরামপ্রিয়তা আলস্য ও উদাসীনতার আরেক নাম । আলস্য ও অবসর এক পেশাদার চোর ।আর আপনার মন হচ্ছে তার বলি বা শিকার ।সুতরাং যখন আপনি অবসর থাকেন তখন নামাজে দাড়িয়ে যান । তেলাওয়াত করুন ।লেখালেখি করুন ।ব্যায়াম করুন ও পড়ুন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করুন। অন্যদের কাজ করে দিন কাজের চাকু দিয়ে অবসরকে কেটে দিন । ডাক্তার চিকিৎসকগণ এর বিনিময়ে আপনাকে অর্ধেক ভাগ সুখের গ্যারান্টি দিয়ে থাকেন কৃষক-মজুর ও শ্রমিকদের দেখুন তারা কিভাবে পাখির মতো ফুরফুরে মেজাজে গান গেয়ে যায় তারা সুখী তারা পরিতৃপ্ত। পক্ষান্তরে আপনি বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করে আর চোখের পানি মুছেন। কারণ, আলস্য আপনাকে শেষ করে দিয়েছে।দুশ্চিন্তা করা যাবেনা । ইবনে যুবায়ের যখন মোহাম্মদ ইবনে হানাফিয়া কে মক্কার আরিম নামক কারাগারে বন্দি করেছিল ,তখন কুছাইয়ির আযযা বলেছিলেন, দুনিয়ার চাকচিক্য ও জাঁকজমকপূর্ণ দুনিয়াদারদের জন্য স্থায়ী হবে না । দুনিয়ার দুঃখ কষ্ট সব সময় থাকে না। এর জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় আছে যা অচিরেই শেষ হয়ে যাবে। আর আমি যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্ন হয়ে যাবে। এই ঘটনার কয়েক শতাব্দী পর যখন আমি বিষয়টি ভাবছি, তখন ইবনে যুবাইর মোহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া আরিন কারাগারে আসলে সবকিছু স্বপ্নদ্রষ্টা স্বপ্ন হয়ে গেছে ।

এছাড়াও আরো করা যেতে পারে, আপনার মনে ভালো চিন্তার বীজ বপন করুন

আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখবেন কোথাও খুব সুন্দর ফুলের বাগান রয়েছে, কোথাওবা কৃষকরা জমিতে চাষ করছে এবং সেখানে ফসল হয়েছে আবার কোন কোন জায়গায় প্রচুর আগাছা জন্মেছে। সুন্দর ফুলের বাগান তৈরী করতে অথবা শস্যের ক্ষেত শস্যে ভরে তুলতে মালী এবং কৃষককে প্রথমে ফুল ও শস্যের বীজ বপন করতে হয়। তারপর চারাগাছকে যত্ন করতে হয় এবং প্রতিদিন তাতে পানি দিতে হয়। পরিবর্তে বাগান একদিন সুন্দর ফুল এবং ক্ষেতে শস্যে ভরে উঠে। অন্যদিকে একটি ক্ষেত আগাছায় ভরে তুলতে মালী বা কৃষককে কোনরকম পরিশ্রম করতে হয় না। জমি নিজে নিজে আগাছায় ভরে উঠে। উক্ত জমি কোন ফুল বা ফল তো দেয়ই না বরং জমিকে আরো অনুর্ভর করে তোলে। একইভাবে আমাদের মনও জমির মতো। আর ওভার থিংকিং হলো সেই আগাছা যা মনে এমনি এমনি আসে। যার জন্য কোন পরিশ্রম করতে হয় না। কিন্তু এরকম চিন্তাগুলো আমাদের কোন ভলো ফলতো দেয়ই না বরং উল্টো মনকে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ করে তোলে। তাই আমাদের নিজের মনের মালী হতে হবে। মনে ভালো ভালো চিন্তার বীজ বপন করতে হবে। তাতে প্রতিদিন পানি দিতে হবে। এবং নিশ্চিতভাবে সেই বীজই একদিন সুগন্ধময় ফুল ও ফল উপহার দিবে। এর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ভালো বই পড়া, সফল মানুষের জীবনী ও আত্ম উন্নয়নমূলক বই পড়া। এছাড়াও সফল ব্যাক্তিত্বদের কথা শোনা, পজেটিভ চিন্তাভাবনার মানুষদের চারপাশে থাকা। এ কাজগুলো আমাদের মনে ভালো চিন্তার বীজ বপন করে এবং প্রতিদিন রুটিনমাফিক এগুলো করা। কারণ শুধু বীজ বপন করলেই হবে না প্রতিদিন এগুলোতে পানিও দিতে হবে। আপনি কিছুদিন এগুলো অনুশীলন করলে নিজেই অনুভব করবেন আপনার মনে আসা অযাচিত চিন্তাভাবনাগুলো ধীরে ধীরে ক্রিয়েটিভ এবং ভালো চিন্তায় পরিবর্তিত হচ্ছে।

প্রকৃতির সাথে কিছুটা সময় কাটান

যত দিন যাচ্ছে তত আমরা প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। রীতিমত চার দেয়ালের মাঝে বন্দী হয়ে পড়ছি। সবসময় আমরা অতীত নিয়ে নয়ত ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছি। আমাদের মন বর্তমানে থাকে না। লক্ষ্য করে দেখবেন ওভার থিংকিং-এর মূল বিষয়বস্তু হয় অতীত নিয়ে নয়তো ভবিষ্যত নিয়ে। আমরা যদি নিজেদের মনকে বর্তমানে কেন্দ্রীভূত করতে পারি তাহলে অযাচিত চিন্তাভাবনা কমে যাবে। প্রকৃতির সাথে আমাদের মনের সম্পর্কটা খুব ভালো। প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকলে মন শান্ত থাকে। মনে দুশ্চিন্তা কম আসে। এজন্য আমাদের উচিৎ প্রতিদিন কিছু সময় প্রকিৃতির সাথে একাত্ম থাকা।

নিজেকে এবং অন্যান্যদের ক্ষমা করতে শিখুন

আমরা বেশীরভাগ সময় অতীতে আমাদের সাথে কী হয়েছে সেটা নিয়ে ভেবে অস্থির হয়ে থাকি। সেটা আমাদের দোষে হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারি না আর অন্য কারো দোষে হলে তাকেও ক্ষমা করতে পারি না। কিন্তু অতীতের কথা ভেবে বা আপসোস করলে অথবা মনে রাগ জমিয়ে রাখলে আমাদের কি কোন লাভ হয়? একদমই হয় না বরং সেটা আমাদের বর্তমানকে নষ্ট করে দেয়। আমরা বর্তমানে ফোকাস করতে পারি না। প্রচুর সময় নষ্ট হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আর এ থেকে বাঁচার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হলো নিজেকে এবং অন্যকে ক্ষমা করতে শুরু করা।

মেডিটেশন করুন

প্রতিদিন সময় নিয়ে মেডিটেশন করুন। আমরা সবাই জানি মেডিটেশন দেহ মনকে প্রশান্ত করতে এবং মনকে বর্তমানে রাখতে সহায়তা করে। মেডিটেশন হচ্ছে ব্রেনের কুলিং সিস্টেম এবং মনের ক্লিনিং সিস্টেম। পৃথিবীর প্রায় সকল সফল মানুষরাই তাদের প্রতিদিনের রুটিনে মেডিটেশন রাখে। মেডিটেশনে বসে আপনি যখন সচেতন হয়ে দেখতে চেষ্টা করবেন এই মুহুর্তে আপনার মনে কী কী চিন্তাভাবনা চলছে। দেখবেন চিন্তা আসার পরিমাণ অনেক কমে গেছে এবং এক সময় দৃঢ় হয়ে গেছে। এর দ্বারা প্রমাণ হয় আমরা যদি নিজেদের চিন্তাভাবনার প্রতি সচেতন থাকি তখন চিন্তা আসার পরিমাণ কমে যায়। আর তখনি সুযোগ থাকে মনে ভালো চিন্তার বীজ বপন করার।

নতুন কিছু শিখতে শুরু করুন

আমরা যত কর্মহীন হয়ে বসে থাকি আমাদের মনে আজেবাজে চিন্তা তত বেশী আসে। আমাদের যদি এমন কোন কাজ করতে হয় যেখানে গভীর মনোযোগ ও বুদ্ধির প্রয়োজন, সেই কাজ করতে আমাদের মনে অযাচিত চিন্তা আসার সুযোগ কম থাকে। কারণ আমরা একসাথে দু’টি বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারি না। আর নতুন কিছু শিখার জন্য আগ্রহ ও মনোযোগ বেশী দিতে হয়। তাই যখন দেখবেন আপনার হাতে ফাঁকা সময় আছে সে সময় নতুন কিছু শিখতে শুরু করুন। ডাক্তারী চিকিৎসার কথা গেলেও কথার কমতি হবে না, তবে ডাক্তারী চিকিৎসা এর জন্য পুরোপুরি যথাযথ নয়। কারন মেডিসিন দেহ ভালো করার সামর্থ্য রাখে মন ভালো করার নয়। তবুও দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য একধরনের মেডিসিন দেওয়া হয়।যেমনঃ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট। এর সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট মূলত এক ধরনের ওষুধ যা মাঝারি থেকে তীব্র ধরনের বিষন্নতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। সাধারণত সাইকোথেরাপির পাশাপাশি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট গ্রহণ করতে বলা হয়। মৃদু বিষন্নতার ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি বিশেষ কাজে না আসলে তখনই মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট প্রেসক্রাইব থাকেন।

অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট কীভাবে কাজ করে?

মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতাকে বিষন্নতার জন্য দায়ী ভাবা হয়। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটারের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে একে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে এসে বিষন্নতার লক্ষণসমূহ দূর করে থাকে। নিউরোট্রান্সমিটার হচ্ছে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা এক নিউরন থেকে আরেক নিউরনে সিগন্যাল আদান প্রদানে সহায়তা করে। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট কীভাবে কাজ করে তা জানতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে নিউরোট্রান্সমিটার কীভাবে কাজ করে।নিউরোট্রান্সমিটারের কাজ করার জন্য দুইটি নিউরন (প্রিসিন্যাপটিক ও পোস্টসিন্যাপটিক) এবং দুই নিউরনের মধ্যবর্তী একটুখানি ফাঁকা জায়গা যাকে সিন্যাপটিক ক্লেফট বলে (প্রিসিন্যাপটিক নিউরন, পোস্টসিন্যাপটিক নিউরন এবং সিন্যাপটিক ক্লেফট মিল গঠিত হয় একেকটি সিন্যাপস) প্রয়োজন হয়। পোস্টসিন্যাপটিক নিউরনে কতগুলো রিসেপ্টর থাকে। নিউরোট্রান্সমিটার প্রিসিন্যাপটিক নিউরন থেকে ক্ষরিত হয়ে প্রথমে সিন্যাপটিক ক্লেফটে অপেক্ষা করে এবং পরে পোস্টসিন্যাপটিক নিউরনের রিসেপ্টরে সংযুক্ত হয় (বারবার খটমটে শব্দগুলো ব্যবহার না করে আমরা প্রিসিন্যাপটিক নিউরনকে প্রথম ও পোস্টসিন্যাপটিক নিউরনকে দ্বিতীয় নিউরন বলবো)। ফলে কোনো সিগন্যাল প্রথম নিউরন থেকে দ্বিতীয় নিউরনে প্রবাহিত হয়।কখনো কখনো প্রথম নিউরন থেকে ক্ষরিত নিউরোট্রান্সমিটার দ্বিতীয় নিউরনের রিসেপ্টরে সংযুক্ত না হয়ে প্রথম নিউরনে ফিরে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'রিআপটেক'। বেশির ভাগ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট নির্দিষ্ট কোনো নিউরোট্রান্সমিটারের রিআপটেককে বাধা দেয় এবং মন মেজাজে পরিবর্তন আনে।আর বাড়াতে চাই না। টানতে চাই এখানেই ইতি। ডিপ্রেশন নামক এই ব্যাধি আজ আমাদের যুবকদের পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলছে। এর থেকে বাঁচার জন্য সর্বদা পাপ কাজ ছেড়ে মালিকের কাছে সাহায্য চাওয়া অপরিহার্য। পাশাপাশি, কিছু নিয়মনীতি মেনে চলা আবশ্যক যার কিছুটা উপরে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি মাত্র।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ,কুষ্টিয়া

পদ্মা ও মেঘনা নামে নতুন বিভাগ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

লাখোকণ্ঠ অনলাইন ।।  কুমিল্লা ও ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো নিয়ে ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ নামে নতুন দুই বিভাগ ক.....

আবাদি জমি রক্ষায় পরিকল্পিত শিল্পায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আবাদি জমি রক্ষায় পরিকল্পিত&.....

সংকট সমাধানে যুবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক ।।  সংকট সমাধানে যুবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ.....

জাতীয় যুবদিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক || আগামীকাল ১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ব.....

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিদায় ও বরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খানের বিদায় ও নবনিযুক্ত স.....

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি বাহিনীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি বাহ.....

চিকিৎসার জন্য জার্মান ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ঢাকা ত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চোখের চিকিৎসার জন্য জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে ১৬ .....

সাকিবকে আর অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যবহার করবে না দুদক

অনলাইন ডেস্ক ।।  ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে আর দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। আ.....

পায়রা সমুদ্রবন্দরে আগামীকাল বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল পায়রা সমুদ্রবন্দরে আরও ভালো সুযোগ-সুবিধাসহ এর সুষ্ঠু কার্.....

চীন কখনো মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করে না : রাষ্ট্রদূত লি

অনলাইন ডেস্ক ।।  বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, এই অঞ্চলে উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীল.....

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট

স্টাফ রিপোর্টার ।। ভোগান্তির আরেক নাম রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক। সামান্য বৃষ্টি হলেই গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ.....

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং : দেশে ১৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক ।।  ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আজ ভোরে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করার ফলে বাংলাদেশের ছয় জেলায় অ.....