Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি অর্থনীতি
  6. খেলাধূলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. জীবনের গল্প
  10. ধর্ম
  11. নির্বাচনী হাওয়া
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজধানী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিলন সব্যসাচী’র গুচ্ছ কবিতা

বার্তা কক্ষ
মে ১৪, ২০২৪ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কবি পরিচিতি

মিলন সব্যসাচী। তিনি একজন বহুমাত্রিক লেখক হলেও মুলত কবি। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১ জুন মাদারীপুর জেলার শিরখাড়ার ঘুন্সী গ্রামে তার জন্ম। পিতা আব্দুল করিম মাতুব্বর, মাতা চেয়ারুন নেসা। রাজনীতি, সাহিত্য ও শিল্পে সমৃদ্ধ একটি মুসলিম পরিবারে কেটেছে তার বেদনা বিধুর স্মৃতিমধুর কিশোরকাল।  জন্মেই আতুড় ঘরে বিমাতার রোষানলে ঝলসে গেছে জীবন। তবুও থেমে নেই তার সাহিত্য সাধনার দূরন্ত দুর্বার গতি। শৈশব থেকেই কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে সাহিত্য ভূবনে প্রবেশ। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনায় নিরন্তর লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর লেখক পরিচিতি গড়ে ওঠে। সাহিত্যের সকল শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ। নিয়মিত লিখছেন- কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ-নাটক, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জীবনী ইত্যাদি। প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ ঃ প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বধির সময়’ ২০১০ খ্রি. শিশুসাহিত্য ছড়াগল্প ‘সিংহমামার বিয়ে’ ২০১১ খ্রি.।

উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ : ‘বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত পদাবলী’ ২০১১ খ্রি. ‘বঙ্গবন্ধুর বিপ্লবী চেতনা’ ২০১২ খ্রি. ‘বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ কীর্তি’ ২০১৩ খ্রি. ‘বাঙালির বাতিঘর’ ২০১৪খ্রি. ‘হাজার কবিতায় বঙ্গবন্ধু’ ২০২০ খ্রি. (প্রথম খন্ড, দ্বিতীয় খন্ড)।

যৌথ গ্রন্থসমূহঃ ‘বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা বাঙালির মুক্তি’ অসীম সাহা ও মিলন সব্যসাচীসম্পাদিত। ‘ছন্দিত নন্দিত শেখ রাসেল’ আসলাম সানী ও মিলন সব্যসাচী সম্পাদিত। ‘শেখ হাসিনাকে নিবেদিত পঙক্তিমালা’লিয়াকত আলী লাকী ও মিলন সব্যসাচী সম্পাদিত। তিনি সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ যে সব সম্মাননা, পদক ও পুরস্কার পেয়েছেন- জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য পুরস্কার (কলকাতা) ২০১০, চোখ কবিসম্মাননা স্মারক (কলকাতা) ২০১১, বিন্দু বিসর্গ বঙ্গবন্ধু গবেষণা পুরস্কার (২০১২ খ্রি.), মাদার তেরেসা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, ময়মনসিংহ সাহিত্য- সংস্কৃতি ফোরাম কবি সম্মাননা স্মারক ২০১৬, টাঙ্গাইল কবি সম্মেলন কবি সম্মাননা স্মারক ২০১৭, উখিয়া পথকবি পরিষদ কবি সম্মাননা স্মারক ২০১৮, শ্রীজ্ঞান অতীশদ্বীপঙ্কর স্বর্ণপদক ২০২০, নেতাজী সুবাসচন্দ্র বসু সাহিত্য পুরস্কার ২০২১, কাব্যকথা সাহিত্য পুরস্কার ২০২২, শব্দশীলন সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার ২০২৩, এছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।

 

জুঁইফুলের মতো সাদাভাতের গল্প

আমি তো ভ্রমন পিপাসায় কাতর কোন সৌখিন পর্যটক নই

তবুও দিবস রাত্রি অবধি রুটি রুজির সংগ্রামে হাঁটি রাজপথে

ক্ষুধার্ত দুপুরে তুমুল রৌদ্দুরে তেতে ওঠে নগ্ন পায়ের তালু

প্রতিদিন রক্তাক্ত পায়ে পদপিষ্ট করি দীর্ঘশ^াসের দীর্ঘতমপথ।

ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের গভীরতা ছুঁয়ে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাসে

মেঘ-বালিকার মতো উড়ে যায় যাপিত জীবনের স্বপ্নগুলো

চোখের কোটরে সঞ্চিত অন্ধকার খুবলে খায় মানবমানচিত্র,

খদ্দের খোঁজা সন্ধ্যায় সন্ধ্যামালতীরা আমায় করে উপহাস।

ঐতিহাসিক অন্ধকারের স্তুপ বুকে ঠেলে ঠেলে অবশেষে

আমার কাঙ্খিত গন্তব্যে ফিরতে কেবলই রাত হয়ে যায়

হৈমন্তীকে কথা দিয়েছিলাম আর কখনও কবিতা লিখবো না

এখন শুধু জুঁইফুলের মতো সাদাভাতের গল্প লিখতে সাধ জাগে।

ভালোবাসার রঙ-তুলিতে স্মৃতির ক্যানভাসে এঁকেছি আহত অতীত

বিত্ত-বৈভবের লোলুপ প্রত্যাশায় কাছের মানুষ আজ দূরে বহুদূরে

নিঃসঙ্গ নিলয়ে নির্ঘুমরাতে নিষ্প্রাণ মূর্তির মতো পড়ে থাকি একাকি

রিক্তরাতের দরজায় এসে কড়া নাড়ে একবিংশ শতাব্দীর মৃত্যুক্ষুধা।

আজীবন আমি আসমুদ্রের বিশলতাকেই ভালোবেসেছি

অসীম আকাশের কাছে শিখেছি অন্তহীন উদারতার পাঠ

নিম্নবিত্তের প্রাচীর অক্টোপাস হয়ে ঘিরে রেখেছে আমাকে।

নরকের নীলাভাগুনে নিজেকে পুড়ে-গড়েছি সবার সুখের স্বর্গ

অথচ, মানবকল্যাণে আমি বিশ^বিখ্যাত কবি হতে চেয়েছিলাম

সবই কী আমার নিষ্ঠুর নিয়তির নির্মম পরিহাস নাকি বিধাতার বিধান।

 

 

নীল ধ্রুবতারা

তুমি তো এখন অন্য কোনো আকাশের নীল ধ্রুবতারা

অন্য অরণ্যের গভীরে অভিসারে তোমার নিত্যানন্দ

আদিম আগুনে সমস্ত শরীর জ্বেলে পুড়ে

ক্রন্দন বিলাসে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠো।

যাযাবর সময়ের স্রোতে ভেসে ভেসে অতঃপর অবশেষে

কতো যে অজানা ঘাটে অনায়াসে ভেড়ে তোমায় স্বপ্নতরী

হয়তো বা কোনো রঙিন মাঝি মনের অজান্তে গেয়ে ওঠে

‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে আমি আর বাইতে পারলাম না।’

একাকী যে জন সেও এখন খুব বেশি একা নয়

মুঠোফোন নিয়ে সেও তো দুজন সারারাত শোনে পাখির কুজন

পাহাড় সমান প্রাপ্তির ভীড়ে তবুও ওঠে অপ্রাপ্তির ঝড়

আলোর অজান্তে মানুষ আঁধারকেই বুকে আঁকড়ে ধরে।

শুভ্র গোখরের বিষ পানেও কেউ কেউ কিছুদিন বেঁচে থাকে

কিন্তু কৃত্রিম প্রেমের সুমধুর সুধায় মানুষের নিশ্চিত মরণ

বিষাদের বিষে নিভৃতে নীরবে মিশে যতোটুকু বাঁচা যায়

আর হবো না অনুভবের বোকা গবেষক কিম্বা গিনিপিগ

মৃত্যুর গন্ধ শুঁকে এ জীবন জেনে গেছে জীবনের মানে।

 

 

 

অন্তিম আঁধারে

(সদ্যপ্রয়াত কবি মোশাররফ হোসেন ভূঞাকে)

আলোকিত প্রভাতের ভিত ভেঙে নৈঃশব্দে নেমেছে

আজ আগন্তুক সন্ধ্যা সূর্যাস্তের অন্তিম আঁধারে

শোকাচ্ছন্ন সময়ের হৃৎপিণ্ড ছিন্নভিন্ন করে-

বহুদূরে ক্রমাগত যাচ্ছে সরে আলোর দিশারী।

দিগন্ত বিস্তৃত শোক- সমুদ্রের শীতল বাতাস

অসময়ে ছুঁয়ে যায় বেদনার্ত বুকের পাঁজর

অনন্ত বিষাদবাহী দীর্ঘশ্বাসে ক্রমে নুয়ে পড়ে

অখণ্ড নীলাকাশ। চোখ চুঁয়ে ঝরে নোনাজল।

কোলাহল-মুখরিত পৃথিবীর রিক্ত সরোবরে

এতো দুর্ভেদ্য আঁধার কোনোদিন দেখিনি কখনো

আঁধারের মহোল্লাসে দিকভ্রান্ত দশদিক ম্লান

প্রাণহীন পাথরের মতো আমি নির্বাক নিশ্চুপ।

চোখনিঃসৃত নির্যাসে যেন একা বয়ে যায়

প্রভাতবিহীন কাল-রাত্রিমুখী এক সন্ধানদী

তবু তাঁর প্রস্থানের পথে আঁকা পদচিহ্নগুলো

ঘুমঘ্রাণে খুঁজে ফেরে অন্য এক জন্ম-জন্মান্তর।

গন্তব্যের ছায়ারাও ছায়া-সঙ্গী হয়ে পিছু হাঁটে

সবুজ ঘাসের সাদা কষ্টমাখা নীলছে দিগন্তে।

 

বিষাদের হিমালয়

জীবন যেখানে নিত্য প্রহসন যাতনার প্রতিমা প্রতিম

সুখস্বপ্ন সেখানেই মরু-ধুধু বালুচর-বিবর্ণ ধূসর

অনাহুত অতিথির মতো আমি আজ কেন ভন্ড ভগমান

পূজার প্রসাদ দিয়ে কেটে যায় সারাবেলা পূজারিনীহীন।

রিক্তমনোঃমন্দিরের চৌকাঠে ঠেকিয়ে মাথা নিভৃতে ভেবেছি

আর কতো দূর যেতে হবে এই একাকীত্ব পথের শেষান্তে

শত জন্ম জন্মান্তরে পাথরের পথ পিষে আমিতো এসেছি

মানুষের পদতলে নিবেদিত প্রাণে গেয়ে যেতে শান্তিগীতি।

প্রার্থনার মগ্নতায় মগজের মধ্যকোষ রক্তাক্ত করেছি

সভ্যতার মাঙ্গলিক মহাকাব্য লিখে লিখে – অথচ আমাকে

কেউ কোন দিন শুদ্ধ আলোর দেয়নি দিশা

হোমারের মতো পথ খুঁজে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি আঁধারে।

যদি জন্ম-আদি অন্ত বাণী বলি তবে শোনো এক জীবনের গল্প

বিমাতার রোষানলে শীর্ণদেহে পুড়ে গেছি সেইআতুর ঘরে

অতঃপর অনাদরে মরে বেঁচে আছি যেন প্রাণহীন পাথরের মূর্তি

কত বিষন্ন বসন্তে কেটে গেছে আমার ফেরারী ফাগুন।

তৃষিত মরুর দাহে আমি এক দিকভ্রান্ত পথের বিবাগী

অপমান-অবজ্ঞার ক্ষেতেই জমেছে লৌহ প্রলেপ পাহাড়

নিষ্ঠুর নিয়তি শুধু এই আমাকেই উপহাস করে বারবার

অবশেষে বুকশুন্য এই শুন্য বুকে জমে আছে বিষাদের হিমালয়।

 

দারুচিনির দেশ

শিল্পির আঁকা ছবির মতো দারুচিনির দেশ

তমাল তরুর শীতল ছায়ায় মুক্ত পরিবেশ

শিশির ভেজা হিমেল হাওয়ায় শিউলি ঝরা ভোর

পথের ধূলায় সাজায় আমার স্বপ্নের করিডোর।

আমি গাঁয়ের দুষ্টু কিশোর রাখাল রাজার সাজ

ধূলি মাটির সিংহাসনে স্বপ্নের মহারাজ

কালের কিশোর কবি আমি মহাকালের বীর

হিমালয়ের চেয়েও আমার উন্নত এই শির।

সিন্দাবাদের মতোই আমি আমার কীসের ভয়

ঝড়-জলোচ্ছ্বাস খুব সহজে করতে পারি জয়

হাচন লালন রবি নজরুল মুক্তিসেনার দল

আঁধার রাতে বাধার পথে বাড়ায় মনোবল।

কুমার কূলের একতারাটায় বাউল গানের সুর

সুরের তালে নাচায় আমারস্বপ্নের সমুদ্দুর

ওই সুদূরে পাহাড়পুরে সবুজ ঢেউয়ের মাঠ

প্রকৃতির এই পাঠশালাতে শেখায় নতুন পাঠ।

পথের পাশে ফুঠে থাকা রঙিন বনফুল

সুবাস দিতে আমায় ডেকে ভাঙেআমার ভুল

আকাশ আমার লেখার খাতা সবুজ সাথি বই

ছবির খাতায় আজ এঁকেছি স্বপ্ন-চূড়ার মই।

মায়ের মতো গাঁয়ের স্মৃতি গুল্মলতার ঘর

সারস পাখির মিলন মেলায় ধূসর বালুচর

নদ-নদী আর সাগর পাহাড় পাখির কলরব

সুনীল আকাশ সবুজের মাঠ আমার আছে সব।

 

দীর্ঘদিন ভালোবাসাহীন

অচল মুদ্রায় ভরে আছে পকেটের তলদেশ

অকোপটে যদি বলি অস্তিত্ব সংকট

অকাল মৃত্যুর গন্ধ শুঁকে এই একা বেঁচে থাকা

দীর্ঘদিন সুখ-স্বপ্নহীন

দীর্ঘদিন শয্যা-সঙ্গীহীন

দীর্ঘদিন আলো-আশাহীন

দীর্ঘদিন ভালোবাসাহীন

এখানে জীবন মরু সাহারার তপ্ত ধূধূ প্রান্ত।

বেদনার্ত বুকে সুপ্ত-বিরহ গুপ্ত-বিষাদ

ভেতর বিদগ্ধ ভস্মস্পর্শী অদৃশ্য আগুন

পতঙ্গের মতো পোড়া ভস্মিত শরীরে ক্রমাগত-

বিধ্বস্ত প্রান্তর যেনো মৃত্তিকার স্তুপ।

ঈশ্বর তুমিও তো জানো

একরত্তি সুখ-স্বপ্নে আমি কতোটা তৃপ্ত

ক্রমে ক্রমে জ্বলে উঠি উর্ধমুখি চিতার মতন

এ জীবন ভস্মাধারে-নিঃপ্রভ মশাল হয়ে জ্বলে

পরতে পরতে শুধু অনন্ত আঁধার

একাকী এ জীবনকে আকড়ে থাকবো কতো কাল?

 

 

ধূসর পৃথিবী

অগ্রজ কবি শহীদ কাদরী স্মরণে

 

বিদায়! শোকার্ত সকাল, ক্ষুধার্ত দুপুর, বিধবা বিকেল,

কবিতাসন্ধ্যা, বিষণ্ন বসন্ত, ফেরারী ফাগুন, নিঃসঙ্গ জীবন

মাটির গীটারে ঘুমিয়ে থাকা বেদনা বিধুর সুর।

বিদায়। সঙ্গীহীন শয্যায় ঘুমন্তরাত, শরাবশূন্য পেয়ালা,

জরাজীর্ণ ভবনের পুরনো পুস্তক-পত্রিকা, যুগলআরশোলা।

বিদায়! প্রাপ্তির প্রত্যাশা, অপেক্ষার প্রহর, দীর্ঘশ্বাসের রাত,

বিদায়! পুস্তকের পাতায় নিশ্চুপ পড়ে থাকা নিহত গোলাপ,

কোমল পাহাড়, ফর্সাবাহর রৌদ্দুর, আগন্তুক অন্ধকার, ক্লান্ত নূপুর নিক্কন,

নীরব জলসাঘর, স্মৃতির ধুলায় ঢাকা পদচিহ্ন, ধূসর পৃথিবী, প্রস্থানের পথ,

বিদায়! বিদায়!

সবুজঘাসের সাদাকষ্ট, বিদায়! অশ্রুসরোবরের নীলপদ্ম,

বিদায়! মেহেদী রাঙাহাত, বিদায়! দ্বি-চারিণী প্রিয়তমা

বিদায়! বিদায়!

 

দর্শনের বিস্তর ব্যবধান

সুদূর শৈশবে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার অদম্য বাসনায়

একদিন এই আমি অসীম আকাশের দিকে-

খুব সহজে বাড়িয়ে ছিলাম ছোট্ট দু’টি হাত।

মৃদু হেসে বাবা আমাকে বলেছিলেন-

‘একদিন তুমিও…।’

বাবার সেই আর্শিবাদ বুকে আগলে রেখে,

তাঁর প্রদর্শিত পথেই আমি উল্কার গতিতে ছুটছি,

ক্ষুধার্তসিংহ তাড়িত হরিণ শাবকের মতো।

দুর্ভেদ্য অন্ধকারের জমাট বুকবিদীর্ণ করে,

বুকে-পিঠে কাঁটাতারের রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে,

আলোকিত পথের ধুলোবালি অঙ্গে মেখে

দীর্ঘপথ পরিক্রমায় পৌঁছে গেছি কাঙ্খিত গন্তব্যে।

আমার উন্নতশির ছুঁয়েছে আলোকিত আকাশ

সভাসমাবেশে করতালিতে আজ আমি মুখগ্ধ মুখরিত

সমাবেশের প্রবশদ্বারে সুসজ্জিত মেঘবালিকাদের-

ছুড়ে দেওয়া পুষ্পপরাগ, উড়ন্ত ভালোবাসা

আমার মাথার উপর ঝরে পড়ে পুষ্পবৃষ্টির হয়ে

অথচ, অন্ধবুদ্ধিজীবীরা বলে আমার পদতলে মাটি নেই

আসলে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য-দর্শনের বিস্তর ব্যবধান।

 

দুঃখবাহী স্মৃতির সংসার

গোধূলির অন্ধকারে- আজো খুঁজে ফিরি তারে পৃথিবীর নিস্তব্ধ প্রান্তরে

দিকভ্রান্ত অভিসারে- সেতো সরে গেছে দূরে দু’চোখের সীমান্ত পেরিয়ে

জীবনের যতো মান অভিমান শোক দুঃখ দীর্ঘশ্বাসে দিয়েছি উড়িয়ে।

 

আমার ভেতরে আমি ক্রমাগত ডুবে গেছি বেদনার সুনীল সমুদ্রে

এই শূন্য বুকে শুধু মরু সাহারার ধূধূ ক্রমে ডাকে বিষন্ন বিষাদ

একা ডুবে যেতে যেতে এ অন্তরে জেগে থাকে রতিরাঙা জলের তিয়াস।

 

ধ্বংসযজ্ঞ ঘূর্ণিপাকে অবিরাম শূন্যে ওড়ে দুঃখবাহী স্মৃতির সংসার

সর্বগ্রাসী উপহাসে-নিষ্ঠুর নিয়তি কাঁদে অর্ন্তমুখী বিষন্ন বীণায়;

সুরহারা সঙ্গীতের হৃদয় বন্দরে তিক্ত স্বরলিপি তার প্রিয়মুখ।

 

যেনো তার স্বপ্নতরী-উত্তাল তরঙ্গ তোলে মৃত্যুময় সমুদ্র সৈকতে

বেদনার্ত গাঙচিল-ক্লান্ত ডানা মেলে উড়ে যায় অন্য অরণ্যের দিকে

দূরের আকাশ পথে-একা উড়ে যেতে যেতে ঝরে পড়ে পালক ঐষর্য্য

নিঃসঙ্গ আতুড় ঘরে দিনান্তের ম্লানালকে সন্ধ্যাশিশু হারায় দিগন্ত

রাতের আঙিনা ভরে কষ্টের জোনাক জ্বলে নিভে যায় একটা জীবন।



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।