Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি অর্থনীতি
  6. খেলাধূলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. জীবনের গল্প
  10. ধর্ম
  11. নির্বাচনী হাওয়া
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজধানী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সন্তোষ ঢালী’র পাঁচটি কবিতা

বার্তা কক্ষ
এপ্রিল ৪, ২০২৩ ৪:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লাখোকণ্ঠ শিল্প সাহিত্য : কবি, কথাশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও গিটারবাদক সন্তোষ ঢালী মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার কদমবাড়ি ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৩৭০ বঙ্গাব্দের ১লা ফাল্গুন বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ সালে)। তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘অন্তরঙ্গ দ্বৈরথে’ (গল্প) এবং ‘ফসিল’ (কবিতা)।  এরপর ১৯৯৮ সালে একই সাথে প্রকাশিত হয় ‘প্রপার জন্য পঙ্ক্তিমালা’ (কবিতা) এবং ‘মন না মতি’ (উপন্যাস)। ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘একলব্যের তীর’ (কবিতা)। ২০০৭ সালে ‘নিলামবালা’ (গল্প)। ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘অচেনা মানুষ’ (উপন্যাস)। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে ‘ভুবনডাঙা’ (কিশোর কবিতা)। ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘আকাল’ (কবিতা), ‘ছাই’ (রম্যগল্প) এবং ‘ব্যাবহারিক বাংলা’ (ব্যাকরণ)। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় ‘দর্পণ’ (গল্প) এবং ‘৭১’ (গল্প)। ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘নজরুলের কবিতা ও গানে লোকজ উপাদান’ (গবেষণাগ্রন্থ)।  তাঁর সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাহিত্য-সংকলন ‘মলয়া’ (মনোমোহন দত্ত সংখ্যা), ‘নৈবেদ্য’ (রবীন্দ্র সংখ্যা), ‘ফুলকি’ (বিতর্ক সংখ্যা), ‘কালরাত’ (পনের আগস্ট সংখ্যা)।  তিনি যে সমস্ত পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন সেগুলো হচ্ছে মুক্তধারা একুশের সাহিত্য পুরস্কার (ঢাকা), ১৯৯০; সুনীল সাহিত্য পুরস্কার (মাদারীপুর), ২০০৯; অনুভব সম্মাননা (ঢাকা), ২০১৩; বিন্দু বিসর্গ সম্মাননা (গাইবান্ধা), ২০১৬; বিন্দু বিসর্গ পদক (গাইবান্ধা), ২০১৯। কবি সন্তোষ ঢালী’র পাঁচটি কবিতা পড়ুন……..

 

আত্মহত্যা নয়

আত্মহত্যা নয়, সে নিজেই নিজেকে খুন করেছিল এমনি এক কুয়াশাদগ্ধ রাতে
কোনো কারণ ছিল না নিজেকে অতটা দামি করে তোলার
যদিও মানুষ নিজেকেই সবচেয়ে দামি আর বুদ্ধিমান ভাবে ডুবে যেতে যেতে-
নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে অমৃত আর প্রগাঢ় স্পর্ধা থেকে,
সে রাতে বুকের ভেতর আগুন পুষে নিজেই নিজের আগুনে পুড়ে ফিনিক্স
চোখে তার মৃত্যু জমেছিল গভীর কোনো খাদের মতো;

মৃত্যুর দাগ লেগেছিল যে কোষে জন্মলগ্ন থেকে তার উপর আস্থা রেখে
বিনীত নদীর মতো হেঁটে যাওয়া উষাবালক
অবশেষে আশ্রয় নিয়েছে বহু বিবেচনায় বসবাসের অযোগ্য পৃথিবী,
হয়ত এরকমই হয়ে থাকে জন্ম-মৃত্যু-বেঁচে থাকা যুক্তিহীন ভালোবাসায়;
এইসব সুখ-শোক-ঘৃণা ভালোবেসেই পৌঁছে যাওয়া যায় হয়ত নিশীথ-সূর্যের দেশে-
যা কিছু সত্য তা মিথ্যের রাঙতায় মোড়া চোখ-ধাঁধানো আলোকলতা,
তার মৃত্যুও তাই সত্য কিংবা মিথ্যের মতো প্রহেলিকাময় অনিন্দিত;

যদিও জন্ম আর মৃত্যু সমার্থক নয় মোটেই পার্থিব বীক্ষণে
এখানে এই নিত্য উৎপাদনশীল ভাগাড়ে বেঁচে থাকাও কি মৃত্যুর মতো নয়?




মায়া

হারিয়ে যাওয়া নগরীর হাওয়া এসে প্রপঞ্চে লাগে
কোনো মমির গন্ধ নয়, ক্লেদ-ক্লান্ত ঘামের গন্ধমাখা বাতাস
পরাজিত ভালোবাসার তিমিরাচ্ছন্ন ঘ্রাণ জীবন্ত,
চাঁদ উঠলেই এখনও জোয়ার জাগে ক্লান্ত নদীর বুকে;
আর হরিণীরা ফিরে যায় জ্যোৎস্নায় বালিয়াড়ি বাঘের থাবায়-

শঠতা বা প্রবঞ্চনা নয়, অবিবেচক সময় কিছু হটকারী সিদ্ধান্ত নেয়
ভুল নয়, তবুও ভুল যেন পরমহংসদেবের মতো মিটিমিটি হাসে,
সব পুড়ে গেলেও ছাইটুকু থেকে যায় আমৃত্যু পাঁজরের ঈর্ষায়;
স্মৃতি এভাবেই মমি হয়ে বেঁচে রয় করোটির কঙ্কালে-

যে সমুদ্রে কোনো বাতিঘর নেই, নাবিক খুঁজে ফেরে নগর তবু আমৃত্যু
তারপর ভাগাড়ের সন্ধান মেলে হয়ত মৃত কোনো বন্দরে
হৃদয় ফেলে যায় অবেলায় তুচ্ছ কোনো ছুতোয় পচা আপেল যেন
সমস্ত নগরীতে প্রেম ছিল পোকায় খাওয়া দুর্গন্ধময় পেঁচার চোখের মতো
আর মানুষ তাই ভুলের পেছনে ছুটতে ছুটতে অবলীলায় পৌঁছে যায় ভাগাড়ে
মৃত পম্পেই তেমনি নিষ্প্রাণ, লাভার আড়ালে প্রেমও ফসিল বিহৃত নগরে;

বস্তুত কিছুই হারায় না, শুধু উড়ে যায় হৃদয়ের ঘ্রাণ অচেনা সৈকতে,
আর মায়া মেখে মানুষ হন্যে হয়ে ছোটে বিমুগ্ধ প্রান্তরে-




রেস

মাঠ নয়, কোনো ঘোড়াও নেই, তবুও দৌড়
অদৃশ্য কোনো দৌড়ে মত্ত হিউম্যান গিনিপিগ-
অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া যেমন লাগামছাড়া,
সবাই দৌড়চ্ছে ইগলের তাড়া খাওয়া ইঁদুরের মতো;

গন্তব্য জানে না কেউ, দিকও জানা নেই; তবুও দৌড়
দিগ্বিদিক অর্থহীন দৌড় উদয়াস্ত মুণ্ডুহীন ঘোড়া যেন
শেকড়-ছেঁড়ার বাসনায় তাড়িত জীবন
বাল-বৃদ্ধ-যুবা টুনা ফিসের মতোই আমৃত্যু,
চোলাইমেশানো ভুসি খাওয়া মোষের মতো উদ্ভ্রান্ত দৌড়-

কে কার প্রতিদ্বন্দ্বী- তাও অজানা- অগণিত সেন্টোর যেন
ভূকম্পনে ফেটে পড়া এলোপাথাড়ি পাথরের চাঁইয়ের মতো
ঢেউগুলোও দৌড়ে মাতে সৈকতে মৃত্যুর উল্লাসে,
অদ্ভুত তামাশার মতো এইসব পুঁথির পাতায় ঘুমন্ত-

পথের পাশে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বালক আমি, নির্বোধ এক নীরব দর্শক
জীবনের মানে খুঁজি পাঠ্যবইয়ে মানচিত্রের রেখায়;
পেন্সিলের আঁচড়ে ভূখণ্ড নির্ধারিত, মগজের ভাঁজে কূটকলার বিলাস,
রেসের মাঠ নাকি হাশরের ময়দান, ঠাহর হয় না;
অবিমৃশ্যকারী জীব পতঙ্গের মতোই মশালে ধায়, না বুঝেই-

আগুনের ’পরে পা ফেলে ফেলে জীবন ছোটে বিদ্রূপ বিলিয়ে
অশ্বগণ কত জন্ম-মৃত্যুর পর মানুষ হয়, অজানাই রয়ে যায়-
তবুও মানুষ মানুষেরই অভিনয় যুগপৎ পদ্মপাতায়।




একটা ঝড় দরকার

একটা ঝড় দরকার।
না, কোনো টর্নেডো নয়, কোনো সাইক্লোন নয়;
কিংবা আকাশকালো দৈত্যের মতো নয় কোনো কালবৈশাখী
একটা ঝড় খুব দরকার;
বর্বর স্বার্থান্বেষী ধর্মান্ধ এই সমাজকে
তেলবাজ চাটুকার ভণ্ড এই সমাজকে উড়িয়ে দেয়ার জন্য;
ভালো করে পুড়িয়ে দেয়ার জন্য
একটা মানবিক ঝড় দরকার,
তারপর আবার যদি ফিনিক্স পাখির মতো
ছাই থেকে অগ্নি-ডানায় জেগে ওঠে নতুন সমাজ-
তারপর আবার যদি নির্ভয়ে শিশুরা খেলতে পারে মাঠে-
তারপর আবার যদি ফুল পাখি প্রজাপতি উড়তে পারে আনন্দ-বাতাসে-
তারপর আবার যদি মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে পারে-
তারপর আবার যদি মানুষ মানুষকে ভালোবাসতে পারে নির্দ্বিধায়-

একটা ঝড় দরকার ব্যাকরণের পুরনো পৃষ্ঠা উড়িয়ে দেয়ার
একটা ঝড় দরকার রুদ্ধ বিবেক ঘেরা অদৃশ্য দেয়াল ভাঙার;
মড়া ডালে খড়-কুটোয় বাঁধা পাখির বাসার মতো জীবন
দম ফুরনো ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকা প্রতারক সময়,
ইঁদুর কিংবা মড়া বিড়ালের মতো ভাগাড়ে ছুঁড়ে ফেলার জন্য
একটা ঝড় দরকার- মানবিক ঝড়।




মৃতগন্ধ জল


রাত সুন্‌সান্‌ পুকুরের জল খুব নিথর অহল্যার মতো
ঠিক যেন কাচের পাটাতন দেয়া মসৃণ সময়
অথচ এমন ছিল না সময় যখন বাতাসে আন্দোলিত হতো ঘাস
ঢেউ ছিল উথাল-পাথাল, প্রাণ ছিল চঞ্চল মেঘের মতো দিগ্বিদিক
আজ তা মৃত, উড়ে গেছে পুরনো কর্পূরের মতো,
কোনো আনন্দের হিল্লোল খেলে না আর অন্ধকার বাতাসে
হৃদয় থাকলেও হদিস মেলে না তার এই দুরন্ত আকালে;
এমন শান্ত কোনো জীবন হয় না-
আমি কি চেয়েছিলাম মেঘমুক্ত এমন নির্লিপ্ত আকাশ?
এক ফোঁটা রক্তের ভেতর যে অনাদি বারুদ
আজ তা ঘুমন্ত ভিসুভিয়াস;
কোনো রঙ নেই, সুর নেই, গান নেই-
কেবলই জীবন জুড়ে মমির নিস্তব্ধতা জলের গল্পে,
কারও আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় একদিন চমকে উঠেছিল অতলান্ত জল
বিকেলের রৌদ্রে ছিল ঝিকিমিকি ইমন-কল্যাণ;
এক জীবনের কত নৈঃশব্দ জমা পুকুরের বুকে?
জলের কি শোভা পায় অমন নিথর হওয়া?
ও আঙুল, আবার ছুঁয়ে দেখো তো, চমকে ওঠে কিনা মৃতগন্ধ জল!!



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।