Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি অর্থনীতি
  7. খেলাধূলা
  8. চাকরি-বাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনের গল্প
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচনী হাওয়া
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তিনি

বার্তা কক্ষ
মে ২৫, ২০২৩ ৮:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম ব্যুরো : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা ষড়যন্ত্রের জাল বেড়ে যাওয়ার আগেই মাঠ পর্যায়ে বিএনপি-জামায়াতের মদদদাতা পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা যতটা গুরুত্ববহ, ততটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। চারদলীয় জোট সরকার আমলে ততকালীন এক সাংসদের সুপারিশে পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদে নিয়োগ পান কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা এম. আব্দুল হালিম (বিপি- ৮৩১১১৩৪৫৬৫)। বর্তমানে তিনি সিএমপি চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। স্কুল জীবন থেকেই ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নিজ গ্রাম থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম শহরের চকবাজার ও নগর পর্যায়ে বিভিন্ন পদেও নেতৃত্ব দেন তিনি সে সময়। থাকতেন ছাত্র শিবিরের দূর্গ হিসেবে পরিচিত তৎকালীন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রাবাসে। পুলিশের চাকরিতে এসেও আওয়ামীলীগ বিদ্বেষ মনোভাব পরিবর্তন হয়নি এই কর্মকর্তার। নানা কৌশলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। চকবাজারের ওসি তদন্ত আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নিয়মিত মদদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। রীতিমতো এই কর্মকর্তার কক্ষেও আসা-যাওয়া তাদের। এলাকাটিতে জামায়াত-শিবিরের সরকার বিরোধী কার্যক্রম, ঝটিকা মিছিল শোডাউন নির্বিঘ্নে চলছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, গত এক বছরে জামায়াত-শিবিরের একজন নেতাকর্মীকেও চকবাজার পুলিশের হাতে আটক হতে হয়নি। অথচ রীতিমতো সরকার বিরোধী কার্যক্রম চলছে তাদের। এলাকাটি শিবিরের দূর্গ হিসেবে খ্যাত দেশব্যাপী।

চকবাজার থানা এলাকার বিভিন্ন খাত থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নেন ওসি তদন্ত আব্দুল হালিম। ধনিরপুল থেকে খালপাড়, অলি খাঁ থেকে কেয়ারি সড়কে ওসি তদন্তের হয়ে চাঁদা তুলে বিপ্লব। অন্তত তিনশো হকারের প্রত্যেকের কাছ থেকে দৈনিক ৫০-১০০ নেয় বিপ্লব ও রাসেল। জিইসি মোড় থেকে মেহেদীবাগ কেন্দ্রিক হকার থেকে টাকা তুলে ইয়াছিন। আব্দুল হালিমের ঘনিষ্ঠ সহচর বা সোর্স হিসেবে তৎপর শিবির ক্যাডার ল্যাড়া নাছির। চকবাজারের অবৈধ কারবারিদের থেকে নিয়মিত টাকা নেয় নাছির। এই সোর্সের খপ্পরে পড়ে থানায় আসা সেবাপ্রার্থীরাও নানাভাবে হয়রানি বা প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দিদার মার্কেট এলাকায় ব্যাটারি রিক্সা জব্দ করতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় ট্রাফিক পুলিশ। ঘটনাটি গত বছর মে মাসের। এ ঘটনায় সার্জেন্ট চয়ন নাইডু বাদী হয়ে চক্রের সর্দার দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন আব্দুল হালিম। অভিযুক্তরা কেউ আটক হয়নি সেসময়, উল্টো মাস শেষে চাঁদাবাজ চক্রের কাছ থেকে লাখ টাকা মাসোহারা আসে ওসি তদন্তের পকেটে ৷

দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করা ম্যানিলা পাহাড়ের শতকোটি টাকার বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন ওসি তদন্ত হালিম। গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকশো সন্ত্রাসী ঢুকে তাণ্ডব চালায় ৷ স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মোবাইল ও ল্যাপটপ লুট হয়। ভবন মালিকের এক ছেলেকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এসময় বারবার সাহায্য চাওয়া হলেও রাতভর পুলিশের দেখা মেলেনি। অভিযোগ উঠে, অর্ধকোটি টাকায় দখলদার চক্রের সঙ্গে সমঝোতা হয় ওসি তদন্ত আব্দুল হালিমের। এ টাকার ভাগ যায় উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের পকেটেও ৷ আসামীদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে কাউন্টার মামলা নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে চললেও আলোচিত মামলা দু’টির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে নেই কোন অগ্রগতি, তবে অব্যাহত রয়েছে ওসি তদন্তের বাণিজ্য।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার কেন্দ্রিক মাদকের এক গডফাদারের অর্থায়নে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে দাপটের সঙ্গে বহাল রয়েছেন চকবাজারের ওসি তদন্ত আব্দুল হালিম। মাদকের গডফাদাররা তাদের কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা জনিত বিষয় নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তার মাধ্যমে।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের অনেকেরই ভাষ্যমতে, অর্থের বিনিময়ে যেসব কর্তাব্যক্তিরা হালিম গংদের মতো বিতর্কিত অসাধু ব্যক্তিদের মদদ দিচ্ছেন তাদের সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্ববহ।

সূত্রে আরও জানা যায়, এমপি কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ও দক্ষিণ জোনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তাকে নিয়মিত ঘুষ দেন পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হালিম। মূলত এ কারণেই দাপট দেখিয়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে তার।

২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর চাঁদা না পেয়ে চকবাজার থানার পাশের বিল্ডিংয়ে ডুকে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়। সিসি টিভি ফুটেজ থাকার পরও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিনের মামলা রেকর্ড হয়নি। উল্টো ভুক্তভোগীকে থানায় জোরপূর্বক আপোষনামা সাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠে ওসি তদন্ত আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে। পরে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। তদন্ত প্রতিবেদন দিতেও গড়িমসি শুরু করেছে পুলিশ৷ অর্থের লোভে দাগি সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং লিডার ও পেশাদার অপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা যায়, গত বছরের ১১ জুলাই ডি.সি. রোড শিশু কবরস্থান এলাকায় ছুরিকাঘাতে সোহাগ নামে এক ক্যাবল অপারেটর খুন হয়। এই মামলার এজাহার নামীয় আসামী জামায়াতের এক নেতাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয় পুলিশ। বিনিময়ে লাখ টাকা আর্থিক সুবিধা নেন ওসি তদন্ত হালিম। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট থানায় সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণসহ হরেক রকম অভিযোগ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অধীনস্থ কর্মকর্তারা কেউ কথামতো অপকর্মে না জড়ালে তাকে নানাভাবে হয়রানি বা নাজেহাল করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, চকবাজার থানা এলাকায় নানা অপকর্মে ওসি তদন্তের সহযোগী হিসেবে সক্রিয়- এসআই কামাল হোসাইন, এসআই সরোয়ার আযম, এসআই মো. ফিরোজ আলম মুন্সী, এসআই সফিউল আযম মুন্সী, এএসআই সংকর বড়ুয়া অন্যতম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এম. আব্দুল হালিম জানান, গত এক-দেড় বছর ধরেই একটি গোষ্ঠি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এমন অভিযোগ ধারাবাহিকভাবেই তুলছে। যার কোনো সত্যতা নেই। তারা এমন অভিযোগ তুলে ক’দিন পর নিজেরাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।