“ওরা পয়সাওয়ালা, পুলিশ কেবল ওদের শুনে” !
প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : ২৫ মার্চ, ২০২৩, ৮:০০ অপরাহ্ণ

লাখোকণ্ঠ,চট্টগ্রাম ব্যুরো :‘ওরা পয়সাওয়ালা, পুলিশ কেবল ওদের শুনে, রাস্ট্রের সমস্ত আইন-কানুন কেবল আমাদের মতো গরীবের জন্য, বড় লোকের জন্য এসব নেই।’ এমন আক্ষেপ করে বলছিলেন গরীব অসহায় ভ্যান চালক নুরুল ইসলাম মিয়া। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানহাট আকবরশাহ মাজার লেইন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তার অভিযোগ, তাদের জমিতে ক্ষমতার দাপটে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলছে বহুতল ভবন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে থানা পুলিশ সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কেউ সাহায্য করেনি। কারণ ওরা পয়সাওয়ালা। এমনকি আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানছে না ভূমিদস্যু চক্র। আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশের বিরুদ্ধেও।
জানা যায়, গত ১৩ মার্চ ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪৫ ধারায় উক্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মহামান্য আদালত। উক্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডবলমুরিং মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। পুলিশের পক্ষ থেকে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রুবেল বড়ুয়া ‘সতর্কীকরণ নোটিশ’ দেন অভিযুক্তদের।
নোটিশে বলা হয়, ‘বিরোধপূর্ণ অত্র ভূমিতে শান্তি-শৃংখলা বিঘ্ন ঘটে এহেন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তবে পুলিশের ব্যবস্থা কেবল নোটিশেই সীমাবদ্ধ, বাস্তব প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আদালতের আদেশ ও পুলিশের নোটিশ পেয়েও প্রভাবশালী সেই চক্র ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখে। পুলিশকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, শুনেছি মোটা অংকের টাকায় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করা হয়েছে। আকবরশাহ মাজার লেইনের বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জমির বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গড়ানোর আশংকা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ডবলমুরিং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আমার জানামতে এখনও কাজ বন্ধ। আদালতের ১৪৫ ধারার আদেশ অনুযায়ী তো আমরা উভয় পক্ষকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছি। তারপরও যদি জোরপূর্বক কাজ চালায় তবে সেটা ভিকটিম আদালত-কে জানালে আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নিবে। আর টাকা দিয়ে পুলিশ কে ম্যানেজ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে। পুলিশ বেশ কয়েক দফায় গিয়ে কাজ বন্ধ করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :