Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি অর্থনীতি
  7. খেলাধূলা
  8. চাকরি-বাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনের গল্প
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচনী হাওয়া
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিজের আসন ধরে রাখতে ফের লিটনের পক্ষে নেমেছেন বাদশা

বার্তা কক্ষ
এপ্রিল ২৯, ২০২৩ ৬:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাসানুজ্জামান রাজশাহী: আবারও বিভেদ ভুলে মেয়র লিটনের উপর  আস্থা রেখে মাঠে নেমেছেন রাজশাহী সদর আসনের এমপি এবং ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এরই মধ্যে নিজে থেকেই রাজশাহী সিটি নির্বাচনে এবারের অন্যতম একমাত্র হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে শুরু করেছেন এমপি বাদশা। আর এ নিয়েই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে শহরজুড়ে। অনেকের প্রশ্ন, কয়দিন আগে যে বাদশা মানববন্ধনে প্রকাশ্যে লিটনসহ আওয়ামী লীগরে নেতাদের উদ্দেশ্য করে নানা বিষদগার করেছিলেন, সেই বাদশা আবার ডিগবাজি মেরেছেন কেন? তবে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, মূলত বাদশা তাঁর আসন ধরে রাখতে আবারো মেয়র লিটনের সঙ্গে হাত মেলাতে চাইছেন। সিটি নির্বাচনে মেয়র লিটনের পাশে থেকে তিনি আগামী বছরে সংসদ নির্বাচনে চতুর্থ বারের মতো সদর আসনের টিকিটটি বাগিয়ে নিতে চান। এ কারণেই তিনি দ্বিধা ভুলে আবারও সিটি নির্বাচনে মেয়র লিটনের সঙ্গে এককাতারে মাঠে নামতে চান বলে দাবি করেছেন লিটনের ঘোনিষ্ট একাধিক সূত্র। তবে এবার এমপি বাদশাকে নিয়ে লিটনকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন দলের অনেক প্রবীন নেতা।

দলীয় সূত্র মতে, ২০০৮ সালের সিটি করোপরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমে ওয়াকার্স পার্টির  ফজলে হোসেন বাদশাকে সমর্থন দেওয়ার ফলে বেঁকে বসেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাঁরা রীতিমতো আন্দোলন শুরু করে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তৎকালীণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে কেন্দ্রের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে জয়ী হন লিটন। এর পর ওই বছরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফজলে হোসেন বাদশাকে নৌকা তুলে দেয় আওয়ামী লীগ। রাজশাহী সদরে ওয়াকার্স পার্টির মাত্র ৫-৬ হাজার কর্মী-সমর্থক থাকলেও আওয়ামী লীগের ভোটে বিজয়ী হন বাদশা। তবে বিজয়ী হয়েই তিনি মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এর পর ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগে আবার সুযোগ বুঝে লিটনের কাছে ভিড়েন এমপি বাদশা। তবে ওই নির্বাচনে লিটন পরাজিত হন আর ২০১৪ সালের সংসদ  নির্বাচনে এমপি বাদশা আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। এর পর বাদশা রাজশাহী শহরে একক ক্ষমতা কায়েমের মিশনে নামেন। এটি করতে গিয়ে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন এমপির সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনের আগে আবারও এমপি বাদশা লিটনের সঙ্গে হাত মেলান। তৎকালীন মেয়র ও বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সময়ে প্রায় দেউলিয়া হতে বসা সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা বেতন-ভাতা নিয়ে আন্দোলন শুরু করলে এমপি বাদশা তাঁর  বরাদ্দ থেকে ১৪ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার ঘোষণা দেন লিটনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে।

মূলত এইটিও ছিল সিটি নির্বাচনের পরে সংসদ নির্বাচনে সদর আসনের টিকিটটি নিজের করে নেওয়া। ২০১৮ সালের রাসিক নির্বাচনে লিটন জয়ী হলে গত সংসদ  নির্বাচনে আবার নৌকা তুলে দেওয়া হয় বাদশাকে। তবে বাদশার জনসমর্থন না থাকা, বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সংগঠনটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বিএনপি-জামায়াতের জালাও-পোড়াও আন্দোলনের সময়ে নিরব ভূমিকা রাখায় গত সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানান। এতে চরম বেকায়দায় পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত লিটনের বাড়িতে রুদ্ধদার বৈঠক করে গত সংসদ নির্বাচনেও বাদশা জয়ী হন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলছেন, গত নির্বাচনে এমপি বাদশা জয়ী হয়ে মেয়র লিটনসহ রাজশাহীর অন্তত তিনজন এমপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এসব নিয় বক্তব্য পাল্টা বক্তব্যও আসতে থাকে একে অপরের পক্ষ থেকে। সর্ব শেষ মাস চারেক আগে এমপি বাদশা নগরীর জিরো পয়েন্টের একটি মানববন্ধন থেকে মেয়র লিটনসহ তাঁর পরিবারকে উদ্দেশ্য করে এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্য করে নানা বিষদগার করেন। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক পদের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একসময়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের বিরুদ্ধে এই জিরোপয়েন্ট দাঁড়িয়েই এমপি বাদশা নানা বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই ডাবলু সরকারের সঙ্গে পরে আবার হাত মিলিয়ে তিনি মেয়র লিটনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এর বাইরে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের পেছনে ফজলে হোসেন বাদশার কোনো অবদান নাই। বরং তিনি বিভিন্ন সময়ে সভা-সেমিনারে এবং মনাববন্ধন থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিষদগার করেছেন। সেই বাদশা আবারও সামনে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেতে লিটনের সঙ্গে ভেড়ার চেষ্টা করছেন। তবে এবার আমরা বাদশাকে নিয়ে লিটন ভাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছি।’

দলের একজন বর্ষীয়ান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমপি ফজলে হোসেন বাদশার ভূমিকা সিটি নির্বাচনে কি প্রভাব পড়তে পারে তা আমরা জানি। তার দলের নেতাকর্মীদের মিলে এখন ভোট নামতে নামতে এখন তিন হাজারে ঠেকেছে। সেই দলের ভোট সিটি নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে সেটি আওয়ামী লীগের সবাই জানে। কিন্তু সিটি নির্বাচনের পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তো এমপি বাদশাকে নৌকার টিকিট পেতে হবে। তাই আবার বিভেদ ভুলে লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে এবার বাদশার এই ভূমিকা আরও রহস্যেঘেরা রয়েছে। তাই আমরা সাবধানে পা ফেলবো। তার পরেও কেন্দ্রের নির্দেশমতো সিটি নির্বাচনে সবাইকে নিয়ে আমরা একসাথে মাঠে নামতে চাই। এরই মধ্যে ফজলে হোসেন বাদশা নিজে থেকেও আমাদের সঙ্গে মেয়র প্রার্থী লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আগামী ২ মে আমরা ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবো।’

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু বলেন, ‘আমরা ১৪ দলে আওয়ামী লীগের সাথে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সাথে আমাদের নীতিগত কোনো বিরোধ নেই। তবে সরকারের মন্দ কাজের সমালোচনা করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। সে জায়গা থেকে আমরা হয়ত কখনো কখনো সমালোচনা করেছি’।

সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে ১৪ দলের জোটের হিসেব হলো ভোটের রাজনীতি। কিন্তু রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত শক্তিশালী দল। অপরপক্ষে শরিক দলগুলোর অবস্থা নাজুক। তার পরেও আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কিছু নেতা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। সেসব আমরা মনে করছি না বা ছোট বলে হেয় করছি না। এজন্য আগামী ২রা মে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ঐদিন ১৪ দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই ভোটের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। ১৪ দলের মধ্যে কোন বিরোধ নেই’।

জানতে চাইলে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ’আমরা আলাদা প্রার্থী দিব না। তবে জোটের প্রার্থী হিসেবে রাসিক নির্বাচনে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সমর্থন দিব। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় দিব সেটি নিয়ে আমরা ঢাকায় আলোচনা করবো।’



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।