
এম এস শবনম শাহীন, ঢাকা : সমাজে পরিবর্তন আসে একদিনে নয়। আসে মানুষের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা, দায়বদ্ধতা আর নিঃস্বার্থতার মধ্য দিয়ে। ঠিক এমনই এক নিরব যাত্রার নাম ‘আলোকিত ৯৩ বন্ধু’। কোনো আলোচনার কেন্দ্রে না থেকেও মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে চলমান। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য একটাই—দেশের সাধারণ মানুষ ও অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানো এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চাকে আরও বিস্তৃত করা।
‘সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত বন্ধুদের সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে ওঠা এই সংগঠন বিশ্বাস করে, মানবিকতা কোনো প্রচারের বিষয় নয়; এটি দায়িত্বের জায়গা। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ‘আলোকিত ৯৩ বন্ধু’ ধীরে ধীরে নিজেদের কাজের পরিসর বাড়িয়ে চলেছে। ‘আলোকিত ৯৩ বন্ধু’র যাত্রা শুরু হয় অনেক আগেই। শুরুতে এটি ছিল কিছু বন্ধুর একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগ। কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো কিংবা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা ছাড়াই বন্ধুদের নিজ নিজ অর্থায়নে মানবিক কাজ পরিচালিত হতো। প্রয়োজনের জায়গায় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এই চিন্তাই ছিল মূল চালিকাশক্তি।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্যোগ আরও সংগঠিত রূপ নেয়। সংগঠনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে শুরু করেন দেশি ও প্রবাসী মানবিক ও সামাজিক সচেতন ব্যক্তিবর্গ। এতে করে কার্যক্রমে আসে ধারাবাহিকতা এবং সহযোগিতার পরিসরও বিস্তৃত হয়। সংগঠনের প্রবাসী বন্ধু ওয়াদুদ ও জিয়াউর বলেন, “আমরা প্রবাসে থাকলেও মন পড়ে থাকে দেশের মানুষের কাছে। মা ও মাটির টান কখনো দূরে যায় না। মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাই আমাদের অনুপ্রাণিত করে দেশের সাধারণ মানুষ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে। এই সেবার মধ্যেই আমরা আমাদের আত্মতৃপ্তি খুঁজে পাই।
সংগঠনের এডমিন কিরন খান বলেন, “আমরা সবাই আসলে একটি পরিবার। হয়তো আমাদের কেউই কোটি টাকার মালিক নই, কিন্তু আমাদের মনটা সবারই বড়। যারা মানবিক ও সামাজিক কাজে যুক্ত হন, তাদের মানসিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষকে ভালোবাসাই আমাদের কাজের মূল ভিত্তি।” মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংগঠনটি আশপাশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কোনো ভেদাভেদ নয়, কোনো প্রচারের তাগিদ নয়—এই নীতিতেই কাজ করে যাচ্ছেন সংগঠনের সদস্যরা। সংগঠনের অন্যান্য এডমিন ও সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আবুল বাশার, শাহ আলম আজাদ, মোস্তাকিম দেওয়ান, পরেশ রাজ, আমান, পিয়াস, মামুন, আলমগীর, বিপ্লব, দুলাল, আলী, সিমা, জেসমিন ও মৌসুমী। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবতার সেবায় নিজেদের যুক্ত রেখেছেন।
‘আলোকিত ৯৩ বন্ধু’ বিশ্বাস করে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য বড় বড় পরিকল্পনার চেয়েও প্রয়োজন ধারাবাহিক মানবিক কাজ। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এই ছোট উদ্যোগগুলোর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় বড় পরিবর্তনের ভিত্তি। দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে একসঙ্গে ধারণ করে সংগঠনটি একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখে। প্রচারের বাইরে থেকে নীরবে কাজ করে যাওয়ার এই মানসিকতাই ‘আলোকিত ৯৩ বন্ধু’কে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত সবার।
আপনার মতামত লিখুন :