
গত ২৮ এপ্রিল নোয়াখালীর সিনিয়র স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন উপজেলার চর হাজারী গ্রামের বাসিন্দা মো. আরিফুর রহমান।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন বসুরহাট পৌর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির হারাধন চন্দ্র পাল, সাবেক সার্ভেয়ার মোস্তফা কামাল, সাবেক সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র দাস, বেঞ্চ সহকারী আবুল কাসেম, সার্ভেয়ার উত্তম কুমার দাস এবং দলিল লেখক সাইফুল ইসলাম ও ওবায়দুল হক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, দেওয়ানি মামলা নং ১৫৩/২০২৩-এর রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে বাদী ২০২৪ সালের মে মাসে খতিয়ান সংশোধনের আবেদন করেন। শুনানি ও তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পৃথক খতিয়ান সৃষ্টির সুপারিশ করেন। তবে পরে তহশিলদার দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এক লাখ টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় হয়রানি শুরু হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই জমি নিয়ে গোপনে আরেকটি ই-নামজারির আবেদন করে তা নামঞ্জুর দেখিয়ে পরে অন্য ব্যক্তির নামে খতিয়ান সৃজনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
বাদী আরিফুর রহমান দাবি করেন, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও তাঁর মালিকানা উপেক্ষা করে সরকারি নথিতে জালিয়াতি করা হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি। বরং মামলা করার পর থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, উপজেলা ভূমি অফিস ও সেটেলমেন্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে।
তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বসুরহাট পৌর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাসেম বলেন, তিনি যোগদানের আগেই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। শুনানির সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
আপনার মতামত লিখুন :