Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি অর্থনীতি
  6. খেলাধূলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. জীবনের গল্প
  10. ধর্ম
  11. নির্বাচনী হাওয়া
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজধানী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুন্সীগঞ্জে ইট ভাটায় জ্বলছে শিশুদের ভবিষ্যৎ

নিউজ রুম
নভেম্বর ১৯, ২০২৩ ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ যেখানে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ সেখানে অল্প টাকায় বেশি কাজ করানোর লোভে শিশুদের ব্যবহার করছে ইটভাটা মালিকরা। ফলে শৈশবেই হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ। প্রতিটি বাবা-মা নিজ সন্তান সুশিক্ষিত -সুখী ও প্রতিষ্ঠিত করতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে লেখাপড়া না করিয়ে সেই ছোট্ট শিশুকে নিয়ে একসঙ্গে ইটের ভাটায় কাজে নেমেছেন মা -বাব।
ধুল বালু আর কয়লা পোড়ানো বায়ূ দূষণের বড় একটি কারণ হচ্ছে এই ইটের ভাটা। আর্থিক অনটনে পড়াশুনার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাটছে শিশুদের শৈশব। দেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বাঁচার তাগিদে জীবন যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।

এমন দৃশ্য দেখা গেল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পপুলার ব্রিক ফিল্ড, মোল্লা ব্রিকর্স, হোসেন ব্রিকর্স, নুরে মদিনা সহ বিভিন্ন ইটভাটায়। প্রকাশ্যে ইটভাটা গুলোতে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করলেও অজানা কারনে নিরব ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসনের কর্তারা। এদিকে চিকিৎসকরা জানালেন ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় মানুষের হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, অ্যালার্জি, ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। ফলে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা এসব রোগব্যাধিতে আক্রাšত্ম হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষৎতের জন্য ইটভাটায় শিশুশ্রমের বিরম্নদ্ধে দ্রম্নত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান চিকিৎসকরা।

ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ইট বানানো থেকে পোড়ানোর কাজ করছে শিশুরা। অনেকে ইট শুকানো ও ঠেলাগাড়িতে করে তা আনা-নেয়ার কাজ করছে। দেশের শিশুশ্রম আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না শিশুদের। তবে মুন্সীগঞ্জের ইটভাটাগুলোয় সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে চলছে শিশুশ্রম। পরিবারের আর্থিক সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিশুদের দিয়ে ইট বানানো থেকে শুরম্ন করে পোড়ানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ নানা কাজ করাচ্ছেন ইটভাটার মালিকরা। প্রশাসন দায়সারাভাবে বলছে, শিশুদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ইটভাটায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু কাজ করছে। কোন কোন ইটভাটায় অর্ধশতাধিক শিশুও রয়েছে কর্মব্যস্ততায়। মা-বাবার পাশাপাশি কোমলমতি শিশুরাও টানছে ইটের বোঝা, কখন ঠেলছে ঠেলা আবার কখনো উল্টে দিচ্ছে রোদে শুকাতে দেয়া কাচা ইট। এছাড়াও করতে হচ্ছে কয়লা গুড়ো করার কাজ ও চুল্লীতে ইট পোড়ানোর আয়োজন সারিবদ্ধ ভাবে চুল্লীতে সাজাতে হয় একের পর এক কাচা ইট। পরে কয়লা পুড়িয়ে কাচা ইটগুলো লালচে হলেই আবার চুল্লীতে থেকে বের করে বাজার যাত করার কাজেও ব্য¯ত্ম এসব শিশুরা। এতে করে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ সহবিভিন্ন রোগে আক্রাšত্ম হচ্ছে শিশুরা ঝুঁকিতে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ। এ ছাড়া ভাটায় মা-বাবার সঙ্গে আসা শিশুরা খেলাধুলা করছে ময়লা-আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

পপুলার ব্রিক ফিল্ডে কর্মরত শ্রমিক কাজল মিয়ার শিশু ছেলে ফরহাদ (১১) জানায় ইটভাটায় রোদে শুকাতে দেওয়া ইট উল্টে দেওয়ার কাজ করে। এই কাজে প্রতিদিন ২-৩শ টাকা পায়। বাবা-মা পড়ালেখার খরচ চালাতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে তাদের সঙ্গে কাজে আসছে। কাজ না করলে খামু কি এমন আক্ষেপ করে একই ইটভাটায় কর্মরত খোরশেদ মিয়ার ৯ বছরের শিশু পুত্র ইমন সহ একাধিক শিশু জানায়, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যšত্ম কাজ করে ইটভাটায়। এখানে কখনো ইট বহনকৃত ঠেলা ঠেলতে হয় আবার কখনো রোদে শুকাতে দেয়া ইট উলটপালট করে দেয়া ছাড়াও ইট পোড়ানোর কয়লার জোগান দিতে হয়। এসব কাজ করে যা টাকা পায় তা দিয়ে বাবা-মার সাথে ভালো মন্দ খাবারের খেতে পারে সে।

শিশুশ্রমের বিষয়টি শিকার করে হোসেন ব্রিকফিল্ডের মালিক হোসেন ভান্ডারি বলেন, বাচ্চাদের কাজ করতে না করলেও শিশুদের পরিবারের লোকজন তা মানতে চায়না ফলে শিশুরাও কাজ করে যাচ্ছে।
শিশুশ্রমের সাথে জড়িত পপুলার ব্রিক ফিল্ডের ম্যানেজার মো: শাহীন বলেন, ইটের ভাটার যারা কাজ করতে আসে তারা পুরো পরিবার নিয়ে চলে আসে। এতে করে শিশুরাও কাজে লেগে যায় আমরা কাজে নিতে না চাইলেও জোরাজুরি করে শিশুদের কাজে নিতে বাধ্য করে তাদের মা-বাবা। তবে তাদের ইটভাটায় ১৪ বছরের নিচে কাউকে কাজে নেয়া হয়নি বলেও দাবী করেন তিনি।

ইটভাটায় শিশুশ্রম বন্ধের দাবী জানিয়ে জেলা বিএমএর সভাপতি মো: আখতার হোসেন বাপ্পি বলেন, শিশুদের ভবিষৎ কোন ভাবেই ঝুকিতে ফেলা যাবেনা। কারন স্বাস্থ্য ঝুকিপূর্ণ ইট ভাটায় কাজ করলে বা এর আশে পাশে থাকলেও ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় হাঁপানি, নিউমোনিয়া, অ্যালার্জি, ব্রঙ্কাইটিস, ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, ফলে এসব রোগব্যাধিতে আক্রাšত্ম হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বৃদ্ধরা।

শিশুশ্রমের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থার নেয়ার কথা জানিয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, শিশুশ্রমের বিষয়টি দ্রততার সাথে খতিয়ে দেখা হবে। কোন ইটভাটা যদি শিশুশ্রমের সাথে জড়িত থেকে থাকে তাদের বিরম্নদ্ধে তদšত্ম করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।