সিলেটের রাজনীতিতে সম্প্রীতি


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের রাজনীতিতে সম্প্রীতি

লাখোকন্ঠ অনলাইন ডেস্ক: সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অনেক পুরানো। কখনো কখনো তা কলুষিত হলেও মোটামুটি সম্প্রীতির সংস্কৃতিতে সিলেট বারাবরই অনন্য।

এবারও বাতাসে বইছে তেমন হাওয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধেই এখনো রাজনৈতিক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে যায়, তেমন কোনো তৎপরতার অভিযোগ উঠেনি।

এরমধ্যেই মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দেখা গেল সিলেটের আলোচিত ৪ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করছেন। কুশল আর শুভেচ্ছা বিনিময়তো হচ্ছেই।

এদিন সিলেট মহানগরীর একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ‘সহিংসতা নয়, গড়ি সম্প্রীতির সিলেট’ শীর্ষক এক নির্বাচনী সংলাপের। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই সংলাপ চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।

সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে সাথে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দসহ সিলেটের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পরস্পরের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। তাদের বক্তব্য কথাবার্তা বা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা সুধিসমাজেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সিলেট-১ আসনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর ও জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমানকে সহাস্যে কোলাকুলি করতে দেখা যায়।

একইভাবে কোলাকুলি করেন সিলেট-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী, দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্ঠা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ,এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়নাল আবেদনীকে।

এছাড়াও সিলেট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান ও সিপিবি প্রার্থী আনোয়ার হোসেনও পরস্পরের সাথে কোলাকুলি ও কুশলাদি বিনিময় করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। এরমধ্যেই দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, এনসিপি বা অন্যান্য দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরস্পরকে আক্রমন করে বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন।

একে অন্যের বিরুদ্ধে ছুঁড়ছেন কঠোর সব অভিযোগের তীর।

তবে সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের কোথাও এখনো প্রকাশ্যে তেমন কোনো শিষ্টাচার বহির্ভুত বক্তব্য বা প্রচারণা শুরু হয়নি বলে জানালেন মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত প্রচার প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করা সহকর্মী সাংবাদিক বৃন্দ। বা তেমন কেনো অভিযোগও এখনো কেউ দায়ের করেন নি। না নির্বাচন কমিশনে, না গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগনের কাছে।

 

সিলেটের রাজনীতির জন্য বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি যত এগিয়ে আসবে, প্রচারনায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে যে আরও বেশী আক্রমনাত্মক হয়ে উঠবেন না, সে নিশ্চয়তা কিন্তু দেওয়া যাচ্ছেনা।