Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি অর্থনীতি
  6. খেলাধূলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. জীবনের গল্প
  10. ধর্ম
  11. নির্বাচনী হাওয়া
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজধানী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খিঁচুনি বা মৃগী (এপিলেপসি) রোগের সর্তকতা

ডাঃ পীযুষ মজুমদার 
এপ্রিল ১২, ২০২৩ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খিঁচুনি একটি স্নায়বিক রোগ। এ জন্য মস্তিষ্কের অতিসংবেদনশীলতা দায়ী। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। সাধারণ মানুষ খিঁচুনিকে মৃগীরোগ বলে। আসলে মৃগীরোগ ও খিঁচুনি সম্পূর্ণভাবে এক নয়। বারবার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া খিঁচুনি হওয়াকেই এপিলেপসি বা মৃগীরোগ বলা হয়।

এ রোগ কেন হয়?

শৈশবে হলে, সাধারণত তেমন কোনো কারণ পাওয়া যায় না। এ ধরনের খিঁচুনিকে প্রাইমারি এপিলেপসি বা কারণবিহীন মৃগীরোগ বলা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে, মস্তিষ্কে সংক্রমণ হলে অথবা জন্মের সময় মাথায় কোনো আঘাত পেলে, অক্সিজেন পেতে দেরি হলে অথবা শিশুর ওজন কম হলে বা সময়ের আগে জন্ম নিলে, তাদের কখনো কখনো এপিলেপসি হতে দেখা যায়।

আরও কিছু সমস্যা সাধারণত বড়দের দেখা দেয়। যেমন রক্তে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে, শর্করা কমে গেলে, মাথায় কোনো আঘাত পেলে বা টিউমার হলে, মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা স্ট্রোক হলে খিঁচুনি হতে পারে। মৃগীরোগীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ওষুধ সেবনেও খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। আসলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো কারণই জানা যায় না। কিছুটা বংশগত কারণেও খিঁচুনি হতে পারে।

চোখের সামনে দেখতে পেলেন কেউ একজন হঠাৎ করে মূর্ছা গেছে বা অজ্ঞান হয়ে গেছে। কিংবা আপনার পাশের লোকটি হঠাৎ খিঁচুনি দিয়ে পড়ে গেছে। এমন অবস্থায় বুঝতে হবে লোকটির হয়তো মৃগী রোগ (Epilepsy) রয়েছে। মৃগী রোগকে অনেকে মিরকি ব্যারামও বলে থাকে। মস্তিষ্কের অতি সংবেদনশীলতার জন্য এটা হতে পারে। তবে সকল ধরণের খিঁচুনি মানেই মৃগী রোগ নয়। কারো মধ্যে বারবার খিচুনির লক্ষণ দেখা দিলে তার মৃগি রোগ রয়েছে বলে ধরা যায়। আমরা অনেক সময় মহিলাদের হিস্টিরিয়া রোগের খিচুনিকে মৃগী রোগের খিঁচুনি বলে ভুল করি। তাই এ বিষয়েও সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

বংশের মধ্যে কারো মৃগী রোগ থাকলে উক্ত ব্যক্তির মৃগী হওয়ার আশংকা অনেক বেড়ে যায়। এছাড়াও ব্রেইন টিউমার, মাথায় আঘাত, মানসিক প্রতিবন্ধিতা, নেশাজাতীয় ওষুধ সেবনসহ আরও নানা কারণে খিঁচুনি হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের রক্তে সুগার বা শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে বা কমে গেলেও খিচুনী সমস্যা হতে পারে। মৃগী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হঠাৎ করে মারাত্মক কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন- শরীর শক্ত হয়ে অজ্ঞান হওয়া, শিথিল হয়ে ঢলে পড়া, খিঁচুনি শুরু হয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়া ইত্যাদি।

খিঁচুনি উঠলে কী করতে হবে

মৃগী রোগীর আশে পাশে যারা থাকে, তাদের জানা থাকা দরকার যে রোগীর হঠাৎ খিঁচুনি উঠলে কী করতে হবে। এছাড়া রোগীকেও জানতে হবে যে তার কী কী করণীয় রয়েছে। মৃগী রোগী তার অসুখ হওয়ার সাথে সাথে সে নিজে কী করে- তা ঠিকমত বলতে পারেনা। তাই এ সময় রোগীর পাশে বা ধারে-কাছে যে থাকবে, তারই উচিৎ রোগীকে সহায়তা করা। মৃগী রোগী যখন-তখন জ্ঞান হারাতে পারে। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য তার মানসিক বিভ্রম হতে পারে। তাই এ সময়টুকু রোগীর পাশে থেকে তাকে আশ্বস্ত করা উচিৎ। পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সক্ষম অবস্থায় আসার আগ পর্যন্ত রোগীকে ছেড়ে যাওয়া ঠিক নয়। রোগীর আশে-পাশের লোকদের জন্য এটা নৈতিক দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য।

মৃগী রোগী দূরে কোথাও গেলে তার উচিৎ সাথে পরিচয়পত্র ও পরিচিতদের ফোন নম্বর সংরক্ষণ করা। কারণ রাস্তা-ঘাটে যে কোন সময় বিপদে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজনকে যেন জানানো যায়। মৃগী রোগীদেরকে অনেক সাবধানে চলতে হয়। মৃগী রোগীদের কিছু কাজ কোন অবস্থাতেই করা ঠিক নয়, যেমন-গোসল করতে পুকুরে বা নদীতে নামা, আগুনের পাশে যাওয়া, গাছে বা ছাদে উঠা ইত্যাদি। একজন উপযুক্ত সাহায্যকারী সাথে থাকলেও তার সদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

মৃগী রোগীদেরকে অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। খিঁচুনি উঠলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে। সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি ভেষজ ওষুধ ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমেও খিচুনী রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এ ধরণের রোগীকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক-এমবিবিএস, এফসিপিএস, এম ডি

          নিউরোমেডিসিন



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।