Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি অর্থনীতি
  6. খেলাধূলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. জীবনের গল্প
  10. ধর্ম
  11. নির্বাচনী হাওয়া
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজধানী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স- ইঞ্জি;মোশাররফ হোসেন

নিউজ রুম
মার্চ ১৬, ২০২৩ ৮:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাইদুল ইসলাম (মাসুম), চট্টগ্রাম :ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, জনসাধারণ যাতে ময়লা-আবর্জনা খালে না ফেলে সে বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-কে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-কে এর দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি ঢাকা রমনা পার্কের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন মানুষের অভ্যাসকে পরিবর্তন করতে পারলে মানুষ আর খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলবে না। গত ১৫ মার্চ সিডিএ’র চেয়ারম্যান-এর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম মহানগরীর “জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প”-এর সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় তিনি একথা বলেন। উক্ত সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (এম.পি) প্রধান অতিথি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র জনাব মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিডিএ’র চেয়ারম্যান বলেন, “চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুন: খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম শহরে স্থিত ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল এবং প্রায় ১৬০০ কি.মি. ড্রেনের মধ্যে ৩০০ কি.মি. ড্রেন নিয়ে সিডিএ কাজ করছে। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য অবশিষ্ট খাল ও ড্রেন সমূহের কাজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে করতে হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে গত কয়েক বছর ব্যাপী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে পূর্বে ৭২টি খাল ছিলো। বর্তমানে ৫৭টি খাল বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে চউক কর্তৃক ৩৬টি খাল নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বারইপাড়া নামক ১টি নতুন খাল নির্মাণের কাজ করছে। শহরের ড্রেনসমূহের পাশাপাশি খাল সমূহ ভরাট হয়ে আছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক খালে কাজ করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করার কারণে খাল-ড্রেন সমূহে পানি চলাচল সাময়িক বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। খালের ময়লা-আবর্জনা খাল হতে অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং জনসাধারণকে খালে ময়লা না ফেলার জন্য সর্তক ও সচেতন করতে হবে। সভায় প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, খালের পার্শ্বস্থ ঘরবাড়ির বাথরুম-টয়লেট সমূহের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা/Waste line সমূহ সরাসরি খালে পতিত হওয়ার কারণে উক্ত ময়লা সমূহ পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মার্চ মাসের মধ্যে খালে কোন প্রকার বাঁধ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মাটি থাকবে না এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে মর্মে তিনি নিশ্চিত করেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পভুক্ত খাল ও ড্রেনের বাঁধ, ময়লা ও মাটি অপসারণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বর্ষার পূর্বে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর প্রধান প্রকৌশলী বলেন, চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় সমূহ হতে বালি নেমে এসে খাল ভরাট হচ্ছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন নির্মাণ কাজের আবর্জনা সমূহও খালে পতিত হয়।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়সমূহ বিভিন্নভাবে বেদখল করে পাহাড় কাটা হচ্ছে। প্রয়োজনে বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০টি রেগুলেটর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ১৭টি চউক নির্মাণ করছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-কে চউকের ১৭টি রেগুলেটরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিলে অভিজ্ঞ জনবল না থাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে রেগুলেটর সমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে ৪০টি রেগুলেটরই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। এর আলোকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর প্রধান প্রকৌশলী জানান, বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে রেগুলেটরসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব বেশি কঠিন বিষয় নয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যতোদিন প্রয়োজন ততোদিন প্রয়োজনীয় কারিগরী সহযোগীতা প্রদান করবে। তবে শহরের মধ্যে রেগুলেটরসমূহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক রক্ষণাবেক্ষণ করা সমিচীন হবে।

বাংলাদেশ সেনাবহিনীর প্রকল্প পরিচালক প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩৬টি খালের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০টি খালের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে মর্মে জানান এবং সমাপ্তকৃত খালসমূহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-কে হস্তান্তরের বিষয়ে সভার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান প্রকৌশলী লোকবল এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক খালসমূহ বুঝে নেয়া হলে আগামী ১ বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক খালসমূহ পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় জনবল ও আর্থিক সংস্থান করতে পারবে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করতে পারবে। এ বিষয়ে প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (এম.পি) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র-কে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালকের শর্তে খালসমূহের দায়িত্ব গ্রহণের আহবান জানালে মেয়র সম্পাদিত ২০টি খালের দায়িত্ব গ্রহণে সম্মতি প্রকাশ করেন।

সভায় সিডিএ’র ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব অমল গুহ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর প্রধান প্রকৌশলী জনাব শিবেন্দু খাস্তগীর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান প্রকৌশলী জনাব রফিকুল ইসলাম,সিডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব এ.এ.এম. হাবিবুর রহমান, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোঃ শাহ্ আলী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর সচিব জনাব খালেদ মাহমুদ, সিডিএ’র স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট মিসেস তাহমিনা আফরোজ চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।