Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি অর্থনীতি
  6. খেলাধূলা
  7. চাকরি-বাকরি
  8. জাতীয়
  9. জীবনের গল্প
  10. ধর্ম
  11. নির্বাচনী হাওয়া
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজধানী
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উপজেলা নির্বাচন / আওয়ামীলীগে বিভেদ আরও তীব্র হতে পারে

নিউজ রুম
মার্চ ২৩, ২০২৪ ২:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম এস শবনম শাহীন:আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগে বিভেদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দলীয়ভাবে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষমতাসীন দলে পুরোনো দ্বন্দ্ব-কোন্দল নতুন করে ফিরে আসছে। মন্ত্রী-এমপি ও দলের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থনে প্রার্থীরা যার যার মতো করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক জায়গায় বর্তমান ও সাবেক এমপিদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র এমপিরাও ‘প্রভাব বলয়’ সৃষ্টি করতে আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছেন। ফলে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী।

এমন দ্বন্দ্ব-কোন্দল কোথাও কোথাও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন পরস্পরবিরোধী মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের কর্মী-সমর্থক। প্রথম ধাপের ১৫২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে এই সংঘাত-সহিংসতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রোজা ও ঈদুল ফিতর শেষে সারাদেশেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।

চার ধাপে উপজেলার ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেখানে প্রথম ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৮ মে। এরপর ২৩ মে, ২৯ মে এবং ৫ জুন ভোট গ্রহণ করা হবে।

এর আগে বিএনপিবিহীন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঠে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর একই কৌশলের অংশ হিসেবে আসন্ন উপজেলা পরিষদসহ এর আগে-পরের সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউকেই দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে গত ৯ মার্চ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে একই কৌশলে নির্বাচন করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এই দুই সিটির নির্বাচন ঘিরে দলটির স্থানীয় নেতৃত্বের বিরোধ আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী এবং দ্বিধা-বিভক্ত নেতাকর্মীর মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব-কোন্দল ও সংঘাতময় পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ বরিশালের হিজলায় বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি পংকজ নাথ এবং সংরক্ষিত আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদের সমর্থকদের দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দলীয় বিভেদের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগদলীয় সূত্রগুলো বলছে, ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সংসদ নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল কমানোসহ সংঘাত-সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উপজেলায় দলীয় প্রতীক না দেওয়ার এই কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ।

গত ২৩ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দলীয় এই কৌশল উল্টো পুরোনো দ্বন্দ্ব-কোন্দল নতুন করে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কৃষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে দলেরই আরেক নেতাকে তুলে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে নতুন করে দ্বন্দ্ব-কোন্দল বৃদ্ধির এই বিষয়টি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকদেরও। আবার এমন পটভূমিতে স্থানীয় প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে কিংবা পালনের চেষ্টা করবে– সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মধ্যে।

অবশ্য উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণের প্রস্তুতিও চলছে আওয়ামী লীগের মধ্যে। দলের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে কোনো সংঘাত যাতে না হয়, সে জন্য ঈদের পরপরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক করা হবে। সেই বৈঠক থেকে দলের সব প্রার্থীর জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বন্দ্ব-কোন্দল এড়ানোর পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গত দু’দিন ধরে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দলের মহানগর, জেলা, উপজেলা নেতারাসহ মন্ত্রী-এমপিদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগ থেকে এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হবে না। তবে এ নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব-কোন্দল করা যাবে না। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না হয়, সে ব্যাপারেও দলের নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সমকালকে বলেছেন, গত সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনও শেষ পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলেই আমরা মনে করি। তবে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে কেউ যেন সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি করার চেষ্টা না করেন। করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।