Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি অর্থনীতি
  7. খেলাধূলা
  8. চাকরি-বাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনের গল্প
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচনী হাওয়া
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের পদ্ধতি

আবু তালহা তোফায়েল
এপ্রিল ২১, ২০২৩ ২:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

‘নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিশুদ্ধ হয়।’ (সূরা আলা-১৪) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বর্ণনা করেন- ‘রাসূলুল্লাহ সা: সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্য।’ (আবু দাউদ)

রহমত-বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক মাস রোজা শেষে আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে মু’মিনদের দাওয়াত দেন, সে দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এ দিন রোজা রাখা হারাম। আল্লাহ এ দিন প্রত্যেক মুসলমান মু’মিনদের দাওয়াত করেন। এটি যেহেতু আল্লাহর তরফ থেকে দাওয়াত, তাই এ দিন ধনী-গরিব, বাদশাহ-ফকির সবাই ভেদাভেদ ভুলে খুশিতে মত্ত থাকে, ঘরে ঘরে নানান প্রজাতির সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণ ম ম করে। সবাই ফিরনি, পায়েশ, লাচ্ছি, কোরমা পোলাও, সন্দেশসহ বাহারি রকমের খাবার খেয়ে থাকে। ধনীদের পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষও যেন এই খুশি থেকে বিরত না থাকে, তাই ইসলাম সাদাকাতুল ফিতরের সুযোগ করে দিয়েছে।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে- ‘তুমাতুলিলমাসাকিন’ অর্থাৎ সমাজের অসহায়, দুস্থ-দরিদ্র, রিক্তহস্ত জনগোষ্ঠী যাতে বছরান্তে একটি দিন অন্তত খেয়েপরে আনন্দ উদযাপন করতে পারে।

সাদকায়ে ফিতর আদায় করা মু’মিনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক অত্যাবশ্যকীয় বিধান। সাদাকাতুল ফিতরের আরেক কারণ হচ্ছে রমজান মাসের সিয়াম সাধনায় রোজা পালনের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো থেকে মুক্ত হতে এই ফিতরা আদায় করা জরুরি।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এটিকে বলা হয় ‘তুহরাতুলিস সায়িম’ অর্থাৎ এক মাস সিয়াম সাধনায় মু’মিনের অনাকাক্সিক্ষত ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা হলো সাদকায়ে ফিতর।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বর্ণনা করেন- ‘রাসূলুল্লাহ সা: সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্য।’ (আবু দাউদ)

ফিতরা আদায়ের পদ্ধতি : ঈদের সালাত পড়ার আগেই ফিতরা আদায় করার নির্দেশনা রয়েছে। ফিতরা সম্পর্কিত অনেক বিষয়, তা আদায়ে এসব বিষয় জানা জরুরি।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা: বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট, বড় সব মুসলিমের ওপর রাসূলুল্লাহ সা: এক ‘সা’ খেজুর, অথবা অর্ধ ‘সা’ গম জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এবং (ঈদের) সালাতের আগে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি, মুসলিম)
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, দুই পরিমাপে পাঁচ জিনিস দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। আর তা হলো যব, কিশমিশ, খেজুর, পনির ও গম। এগুলোর মধ্যে গমের পরিমাপ হলো অর্ধ সা আর বাকিগুলোর পরিমাপ এক সা। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো একটি দিয়ে এ ফিতরা আদায় করতে পারবেন। (এক সা সমান তিন কেজি ৩০০ গ্রাম, অর্ধ সা সমান এক কেজি ৬৫০ গ্রাম)

বর্তমান বাজারমূল্য হিসাবে উম্মুল মাদারিস মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার ফতোয়া বিভাগ থেকে সাদাকাতুল ফিতরের একটি চার্ট প্রকাশ করে। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত জনপ্রতি ফিতরা আদায় করা যাবে।
ফিতরা যারা দেবেন : সামর্থ্যবান মু’মিন নারী-পুরুষের ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্যবানদের অধীনস্থ পরিবারের সব সদস্যের ফিতরাও দায়িত্বশীল ব্যক্তি আদায় করবেন। এক কথায় সামর্থ্যবান নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সব স্বাধীন-পরাধীন এমনকি হিজড়া সম্প্রদায়ের ওপরও ফিতরা আদায় করা আবশ্যক। বালেগ সন্তান যদি পাগল হয় তবে পিতার পক্ষ থেকে তা আদায় করা ওয়াজিব।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত : ঈদুল ফিতরের দিন কোনো স্বাধীন মুসলমানের কাছে জাকাতের নিসাব তথা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কারো কাছে থাকলেই ওই ব্যক্তির জন্য ফিতরা ওয়াজিব। এ সম্পদ ঋণ এবং মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে। তবে ব্যতিক্রম হলো- জাকাতের জন্য এ সম্পদ পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকতে হবে, আর ফিতরার ক্ষেত্রে এক বছর থাকা শর্ত নয়। আর এসব ব্যক্তির জন্য ফিতরা গ্রহণ করাও হারাম।

আবার বাড়িঘর, আসবাবপত্র, স্থাবর সম্পদের মূল্য (যদি ব্যবসার জন্য না হয়) জাকাতের নিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু ফিতরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি ও স্থাবর সম্পদ, ভাড়াবাড়ি, মেশিনারিজ, কৃষিযন্ত্র ইত্যাদি (উপার্জনের জন্য না হলেও) এসবের মূল্যের হিসাবও ফিতরার নিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের পর সব সামর্থ্যবান মু’মিনের ওপর ফিতরা আদায় করা আবশ্যক। এ সময়ের ঠিক আগ মুহূর্তে যদি কারো সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় তবে ওই নবজাতকের জন্যও ফিতরা আদায় করতে হবে।
ফিতরা কখন আদায় করতে হয় : ঈদের সালাতে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করা সর্বোত্তম। তবে আগে থেকে ফিতরা আদায়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আর যদি কেউ কোনো কারণে ঈদের সালাতের আগে আদায় করতে না পারে তবে ঈদের পরেও তা আদায় করা যাবে। তবে প্রিয়নবী সা: ঈদগাহে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করতেন। কেননা গরিব-অসহায় এ টাকায় কেনাকাটা করে ধনীদের সাথে ঈদ উদযাপন করবে।

লেখক : তরুণ আলেম, সাংবাদিক ও সংগঠক



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।