
সামান্তা শারমিন জানান, তিনি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের গ্রুপেও পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সামান্তা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা, লিখিত প্রস্তাব এবং মতবিনিময় করেছেন তিনি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মতে, জামায়াত নীতিগত বা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই এনসিপির উপযুক্ত রাজনৈতিক মিত্র নয়।
ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, এনসিপি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেনি। বরং বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর মতে, এতে গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দুর্বল হয়েছে।
তিনি আরও মনে করেন, এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল প্রবণতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, দলটি তা যথাযথভাবে ধারণ করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা। তাঁর বক্তব্য, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবর্তে কমিটি পুনর্গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও দলীয় নেতৃত্ব অবস্থান পরিবর্তনে আগ্রহী হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত
এনসিপি ছাড়ার পর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাবনা নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি নতুন শক্তির প্রয়োজন, যার ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থ।
তাঁর মতে, নতুন রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হলে ভিন্নমত ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের জন্য জায়গা রাখতে হবে। মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্য যেন বিভাজনের কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। কোনো দেশের প্রতি আনুগত্য বা বিরাগ নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থই হওয়া উচিত পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি।
সামান্তা শারমিন বলেন, তরুণদের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন দল গঠন করা নয়; বরং এমন রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি করা, যা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করবে না। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার এই উদ্যোগে আগ্রহীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সামান্তা শারমিন। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির আত্মপ্রকাশের সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। সর্বশেষ দলটির পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল।