ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এর ছায়া রয়ে গেছে, সিলেট থেকেই বিজয়ের শুরু হবে: ডা: শফিকুর রহমান


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০৩ অপরাহ্ণ ৩৮
ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এর ছায়া রয়ে গেছে, সিলেট থেকেই বিজয়ের শুরু হবে: ডা: শফিকুর রহমান

সিলেট প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও এর কালো ছায়া এখনো পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। এক পক্ষ দীর্ঘদিন দেশ লুট করেছে, বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়েছে, খুন-গুমসহ নিপীড়ন চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনরোষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে; কলাপাতায় শুয়েও তাদের রক্ষা হয়নি। আরেক দল নিজেদের দ্বন্দ্বে নিজেদেরই শেষ করছে। সিলেট থেকে ৮ দলের সমাবেশ শেষ হচ্ছে—এই সিলেট থেকেই নতুন বিজয়ের সূচনা হবে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেলা ১১টা থেকেই মাদ্রাসা মাঠমুখী জনস্রোত শুরু হয়। দুপুর ১টার আগেই মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে আশপাশের এলাকাতেও মানুষের ঢল নেমে আসে। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ প্রতীক, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে স্লোগানে মুখর ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। সংস্কার ও গণভোটে আপত্তি জানানো হলেও জনগণের চাপের মুখে সরকারকে শেষ পর্যন্ত গণভোটের দিন ঠিক করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এখন কেউ কেউ নির্বাচন পেছানোর সুর তুলছেন—জনগণ এসব টালবাহানা মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন শক্তির ভয় দেখানোতে ভয় পাই না। যারা হাসিমুখে ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছে, তাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। মানবিক বাংলাদেশে জুলুম-চাঁদাবাজি আর বরদাশত করা হবে না। জনগণ আজ জেগে উঠেছে—জনতার বিজয় হবেই। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ। যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন সিলেট জেলা ও মহানগর ৮ দলের নেতৃবৃন্দ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ৫৪ বছর যারা দেশকে জিম্মি করে রেখেছিল তাদের চরিত্র আজ উন্মোচিত। নিজেরাই এখন নিজেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের দাবি—৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। কিন্তু সংস্কার ও বিচারে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করলে তারা জনগণ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু প্রতীকের নির্বাচন নয়; এটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোটের নির্বাচন। ৮ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান—ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোটে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খ মাওলানা মামুনুল হক তিনি বলেন, বিদেশী শক্তির দোসরদের হাতে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বারবার নিপীড়নের শিকার হয়েছেন—তবুও মাথা নত করেননি। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ বাংলার মাটিতে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী তিনি বলেন, একটি দল ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছে। তারা শরিয়া আইন মানে না। তাদের শিক্ষা দিতে আগামী নির্বাচনে ৮ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। বিডিপির সভাপতি এডভোকেট এ.কে.এম আনোয়ারুল হক চান তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। দেশের বাস্তব ইস্যুতে নিরবতা রেখে তুচ্ছ বিষয়ে মিডিয়ার অতিরঞ্জন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ৮ দলের কর্মসূচি শেষ নয়; চলমান থাকবে। অতীতে ১৫ আগস্ট, ৬ আগস্ট ও ৫ আগস্ট—তিন ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন যেমন হয়েছে, ভবিষ্যতেও যে কোনো ফ্যাসিবাদ পতন হবে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ প্রফেসর ইউনুছ আহমদ, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল। মজিদ আতাহারি, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমসহ নেতারা মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ৮ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১