ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ ১১৮
ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি

শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানো হবে এবং কোনো নতুন ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বুধবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তবে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) চুয়াডাঙ্গায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের বীরত্বগাথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন সেই বিপ্লবের একজন মহানায়ক। তিনি কারো কাছে নতি স্বীকার না করায় শাহাদাত বরণ করেছেন। যে দেশে শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ আবু সাইদদের মতো বীরদের জন্ম হয়েছে, সে দেশে নতুন করে আর কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজ ইসলামের জয়জয়কার এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও ইসলামের বিজয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতার বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে না। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রত্যেককে জনগণের সামনে সম্পদের হিসাব দিতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনি ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বেকারত্ব দূরীকরণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, যুবকদের নৈতিকতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রাজনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের পকেট ভরার জন্য রাজনীতি করি না; বরং দেশের দুঃখী ও দরিদ্র মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেই আমাদের এই সংগ্রাম।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমির আয়কর আইনজীবী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাস, মাইক্রোবাস ও বিভিন্ন যানবাহনে করে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভাস্থলে জড়ো হন। নেতাকর্মীদের অনেকের পরনে ছিল দলীয় প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ সম্বলিত টি-শার্ট, পাঞ্জাবি ও ব্যাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জামায়াতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশস্থলের প্রবেশপথগুলো তদারকি করেন। কার্পাসডাঙ্গা থেকে আসা নূর আলম বিশ্বাস ও জীবননগরের হাসান জানান, দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থাকার পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এ ছাড়াও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১