
ভুক্তভোগী মো. আব্দুস সামাদ (৫৮) স্থানীয় শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে একটি নন-এফআইআর প্রসিকিউশন (নং-৩০/২৬, তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬) দাখিল করেছে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বগুলাডাঙ্গী মৌজার এসএ ১৪৯ নম্বর খতিয়ানের ২০০ ও ২০৬ নম্বর দাগভুক্ত মোট ৩.৭৯ একর জমির মধ্যে ৩৩ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে আব্দুস সামাদ ও তার পরিবার ভোগদখল করে আসছেন। জমিটিতে একটি উন্নতমানের চা বাগান রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে নিজের নামে খারিজ করে নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ৯টার দিকে তিনি শ্রমিকদের নিয়ে চা বাগানে পাতা সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় হাবিবুর রহমান, রাজিউল ইসলাম, মাহাবুব রহমান ও জমিরুল হকসহ কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। তারা জমিটি নিজেদের দাবি করে চা পাতা সংগ্রহে বাধা দেন এবং ভুক্তভোগীদের গালিগালাজ করেন।
আব্দুস সামাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে ও তার শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এছাড়া মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিরও হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর থানার এসআই মো. হাফিজুর রহমান সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(সি) ধারায় তাদের শান্তি রক্ষা ও সদাচরণের মুচলেকায় আবদ্ধ করার জন্য আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে তার সম্পত্তি রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :