
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন হোসেন ওই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরেন সুমন। এ সময় দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে সোমবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁকে ঝুলতে দেখেন।
নিহতের স্ত্রী জেনি খাতুন জানান, রাত চারটার দিকে খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর তিনি শুধু দেরিতে ফেরার কারণ জানতে চান। এরপর সুমন কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তিনি মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে ঘুম ভেঙে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
প্রতিবেশী আবদুল জলিল বলেন, ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সুমনের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে তিনি ছুটে যান। সেখানে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে সুমনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে নামানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :