
অনুশ্রীর জন্ম কুড়িগ্রামের উলিপুরে হলেও বেড়ে ওঠা কক্সবাজারের মহেশখালীতে। মাত্র দুই বছর বয়সে ওস্তাদ প্রিয়া দত্তের কাছে তার সংগীতে হাতেখড়ি। মা মনিকা রায় বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি চাকরিসূত্রে পরিবারটি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আসে। এরপর অনুশ্রীকে পূর্ব নবনীদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সংগীতচর্চার জন্য নিজের একটি হারমোনিয়াম ছিল না অনুশ্রীর। গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে সংগীতচর্চার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে একটি হারমোনিয়াম উপহার দেওয়ার আবেদন করে।
পরে অনুশ্রীর চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়। গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মা-বাবার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুশ্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার খোঁজখবর নেন, নিয়মিত অনুশীলনের পরামর্শ দেন এবং তার কাঙ্ক্ষিত হারমোনিয়ামটি উপহার দেন। সাক্ষাৎকালে অনুশ্রী প্রধানমন্ত্রীকে একটি দেশাত্মবোধক গানও গেয়ে শোনায়।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত অনুশ্রী বলে, ‘কখনো ভাবিনি আমার লেখা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছাবে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হারমোনিয়াম কিনতে পারছিলাম না। প্রধানমন্ত্রীর এই উৎসাহ আমার সংগীতচর্চায় সবচেয়ে বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে।’
অনুশ্রীর বাবা কমল কান্তি রায় ও মা মনিকা রায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগে তাঁরা অভিভূত। তাঁদের প্রত্যাশা, অনুশ্রী ভবিষ্যতে সংগীতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এ বছর জাতীয় শিক্ষা পদক ছাড়াও অনুশ্রী আরও চারটি পদক অর্জন করেছে।
পূর্ব নবনীদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় চন্দ্র সরকার বলেন, ‘অনুশ্রী অত্যন্ত মেধাবী ও প্রতিভাবান। তার এই অর্জন শুধু আমাদের বিদ্যালয় নয়, পুরো গঙ্গাচড়া উপজেলাকে গর্বিত করেছে।’
প্রতিদিন ভোরে রেওয়াজ দিয়ে দিন শুরু করা অনুশ্রীর এখন স্বপ্ন সুরের জগতে আরও দূর এগিয়ে যাওয়া। সে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :