
সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম রংপুরের কোতোয়ালি থানার খটখটিয়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে এ সাজা দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী পাটগ্রাম পৌর এলাকার একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা আরিফুল ইসলামকে বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা একই বাড়িতে বসবাস করতেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালে বাড়িতে একা থাকার সুযোগে আরিফুল ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তার মা বিভিন্ন কাজে বাড়ির বাইরে থাকলে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই রাত একটার দিকে আরিফুল ঘুম থেকে ডেকে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। দীর্ঘদিনের নির্যাতনের একপর্যায়ে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মা ও স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শে ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট পাটগ্রাম থানায় মামলা করা হয়।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করে আইন অনুযায়ী তা আদায়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লুৎফর রহমান বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে তাঁরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :