
সাজ্জাদ হোসেন সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম):এসএসসি পাশের দীর্ঘ ১৭ বছর পর এক বনভোজনের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মছজিদ্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত পিকনিক স্পটে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীতাকুণ্ড ছোট কুমিরা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটির শতাধিক প্রাক্তন ছাত্ররা দীর্ঘ ১৭ বছর পর বনভোজনের মাধ্যমে একত্রিত হোন।
শেকড়ের টানে পাশে আনে। “বন্ধু” শব্দটা ছোট হলেও এর পরিধি এতটায় বিস্তৃত যে, পরিমাপ করার সাধ্য কারো নেই। তারপরও ছোট পরিসরে বলতে গেলে বন্ধু মানেই আত্নার টান, ভালবাসার বন্ধন, হৃদয়ের সংস্পর্শ, একে অন্যের ছায়া, বড় রকমের ভরসার জায়গা।
হাতে লাটিম নাটাই নিয়ে মাঠ-ঘাট, বই খাতা কাঁধে চেপে সেই মছজিদ্দা উচ্চ বিদ্যালয়, দুষ্টমির সেই স্কুলের বারান্দা, স্যারদের হাতে ইচ্ছে করে মাইর খাওয়ানো আবার সেই হাতে ভাগ করে একই বক্সের টিফিন খাওয়া,বন্ধুত্বের সূচনা টা এভাবে হলেও সম্পর্কের দৃঢ়তা বেড়েছে, অনেক নাম না জানা মানুষের সাথে বন্ধুত্বের আর্বিভাব হয় আমাদের।কেউবা জীবনের তাগিদে, কেউবা উচ্চতর ডিগ্রির জন্য দেশ ছেড়ে ভিনদেশে। এভাবে আমরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে ও মনের সেই টান টা রয়েই গেছে।সবার ব্যস্ততার মধ্যেও যেন একই প্লাটফর্মে থাকতে পারি, একে অন্যের পাশে দাড়াতে পারি, সেই উদ্যোগে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ছড়ানো ছিটানো বন্ধু-বান্ধব একি প্লাটফর্মে থাকার জন্য এই পরিকল্পনা।
সবশেষ কবে কার সঙ্গে দেখা হয়েছে, অনেকেই তা মনে করতে পারলেন না। দুরন্তপনার সেই স্কুল জীবন ডিঙিয়ে যখনই জীবিকার ভার পড়েছে, তখনই সবাই ছুটেছেন যে যার মতো। সময় পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে মানুষগুলো। কিন্তু স্মৃতিচারণায় স্কুল জীবনের যে কথাগুলো উঠে এল, সেগুলো বড্ড চেনা।
এদের মধ্যে অনেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক অফিসার, কেউবা আবার শিক্ষক কিংবা ব্যবসায়ী,কেউ বা আবার প্রবাসী।পরিচয় সবার যেন একটা সেটা হলো আমরা স্কুলবন্ধু। কিন্তু বন্ধুত্বের বন্ধনে একসঙ্গে রব চিরজীবনে এ শ্লোগানে সবাই যেন এদিন একাকার হয়ে যান। পরিচয় সবার যেন একটা সেটা হলো আমরা স্কুলবন্ধু। ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত পিকনিক স্পটে সকাল নয়টায় সেখানে উপস্থিত হয়ে সবাই যেন ১৭ বছরের আগের স্কুল জীবনের স্মতিকাতর হয়ে ওঠেন। এদিন বন্ধুদের মিলনমেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল অবধি চলে। অনুষ্ঠানটি সম্মাননা, গান, নাচ ও খেলাধুলা সহ এক ব্যতিক্রমী আলোড়নের সৃষ্টি করে।
আপনার মতামত লিখুন :