মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না: বন ও পরিবেশমন্ত্রী


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না: বন ও পরিবেশমন্ত্রী

আবদুল্লাহ আল মামুন, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী): পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, মুছাপুর রেগুলেটর না থাকায় বর্তমানে নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। নদীর দুই পাশেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন পেলে দ্রুত রেগুলেটর ও মুছাপুর ক্লোজারের কাজ শুরু করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রস্তাবিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে এলাকার নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী ইতোমধ্যে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর শুধু মুছাপুর এলাকার সমস্যা নয়, এটি পুরো নোয়াখালীর মানুষের সমস্যা। তিনি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবগত আছেন। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এক কৃষকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নোয়াখালীকে বাঁচাতে হলে এখানকার মানুষকে বাঁচাতে হবে। মুছাপুর রেগুলেটর নোয়াখালীর মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন।

এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্যাহ, ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পূর্ব রিজিয়ন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ এবং নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি এম মোশারেফ হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম সিকদার।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জসহ ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলায় নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে।

ভাঙন প্রতিরোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ওই স্থানে আধুনিক একটি নতুন রেগুলেটর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পেলে চলতি মাস থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ২০০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপকূলে নদীভাঙন ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩ ভেন্টের মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। রেগুলেটরটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ৭৫৬.১৫ ঘনমিটার। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নতুন রেগুলেটর নির্মাণ হলে কোম্পানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০