
টাকা ফেরত চাইলে তা অস্বীকার করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অন্যদিকে, রজনী খাতুন টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও সবুজের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দাবি, টাকার পরিমাণ ছিল খুবই কম।
যেভাবে পরিচয় ও সম্পর্ক
রেজাউল করিম সবুজের ভাষ্য, তিনি কুমিল্লা জেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের হাজী এলাকার বাসিন্দা। প্রায় পাঁচ বছর আগে মুঠোফোনে ভুল নম্বরের সূত্র ধরে দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের দশমী পাড়ার রজনী খাতুনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন সবুজ।
সবুজের অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে রজনী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে টাকা চাওয়া হতো। কখনো চিকিৎসার প্রয়োজন, কখনো পারিবারিক সংকটের কথা বলা হতো। এসব কারণে বিভিন্ন সময়ে বিকাশসহ একাধিক মাধ্যমে টাকা পাঠান তিনি। এভাবে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
সবুজের ভাষ্য, টাকা ধার হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এবং রজনী তাঁর বাবার জমি বিক্রি করে অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
টাকা ফেরত চাইতেই বিরোধ
সবুজ জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সম্প্রতি তিনি রজনীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি রজনী তাঁর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি বলে দাবি করেন। এতে তাঁদের সম্পর্ক ও অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
সবুজের অভিযোগ, এরপর রজনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় রজনীদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চান। সেখানে তাঁকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলা হয় এবং মারধরের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সবুজের আরও দাবি, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলীর কাছে যান তিনি। তবে সেখানে সমাধান না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন।
তরুণীর বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রজনী খাতুন ও তাঁর মা শাহানাজ বেগম প্রথমে সবুজের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রজনী বলেন, সবুজের সঙ্গে তাঁর ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সেই সময়ে বিভিন্ন উপলক্ষে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, প্রতিবার টাকার পরিমাণ ছিল ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মতো এবং তা হাতখরচের জন্য দেওয়া হতো।
অর্থ লেনদেনের পরিমাণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।”
তদন্তের অপেক্ষা
সবুজের দাবি, টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন এবং মামলাটি তদন্তের জন্য কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার নম্বর, আদালতের আদেশ এবং তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থ লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ, টাকা দেওয়ার উদ্দেশ্য এবং প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।