বাগানের গাছ কেটে লুটপাট, সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
বাগানের গাছ কেটে লুটপাট, সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা: বাগানের গাছ চুরি লুটপাট ও কথিত মাজার পূজারীদের বিরুদ্ধে বাগান মালিক বাহালুল হককে প্রাননাশের হুমকির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শীবনগর গ্রামের ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চন্দ্রবাস গ্রামের মরহুম মওলা বক্সের ছেলে বাহালুল হক শীবনগর গ্রামবাসীর পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, এলাকার চিহ্নিত ও বাটপার একদল ভন্ড এবং মাজার পূজারী দূর্বৃত্বের হামলা লুটপাট ও সর্বশেষ প্রাণনাশের হুমকিতে ভীত হয়ে তিনি প্রান ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরে ক্রয়সূত্রে তার বাবার ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত একটি আমবাগানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল দুর্বৃত্ত গত সোমবার সকাল ৮টায় অনধিকারভাবে প্রবেশ করে ১১০টি গাছ চুরি করে কেটে নিয়ে গেছে এবং কিছু আম গাছের ডালের ক্ষতি সাধন করেছে। যার আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ঐদিনই এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরদিন মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে এজাহারভুক্ত ৪ আসামীকে গ্রেপ্তার করে। এর পরদিন বুধবার দুপরে চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ার মরহুম লুৎফর রহমানের ছেলে ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস চুয়াডাঙ্গা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার করিমুজ্জামান ওরফে মিঠু (৫৫), চুয়াডাঙ্গা কোর্টপাড়ার মরহুম হায়দার আলীর ছেলে বকুল শেখ (৫১), দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের সুরত আলী মন্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম (৬৫) এবং একই গ্রামের মরহুম আব্দুল মজিদের ছেলে ওসমান আলীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে দামুড়হুদার আমলী আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের বিচারক আসামীদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এসময় লিখিত বক্তব্যে বাহালুল হক বলেন, দামুড়হুদার শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের সামনে তার প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর মেহগনি, লম্বু, আম, লিচু গাছসহ বিভিন্ন ধরণের কাঠ ও ফলের গাছের বাগান থেকে গাছগুলো কাটা হয়। এছাড়া এ সময় উল্লেখিত আসামীরা আম গাছসহ বিভিন্ন ধরণের গাছের ডাল কেটে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। মামলায় অন্য আসামীরা হলেন, দামুড়হুদা উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের মরহুম তৈয়বের ছেলে মজনু (৬০), চন্দ্রবাস গ্রামের দুরুনের ছেলে ছানোয়ার (৪৫), মুন্সীপুর গ্রামের রফিকুল (৪৫), চন্দ্রবাস গ্রামের সুলতানের ছেলে তরিকুল (৩৫) ও মরহুম কাজেমের ছেলে নজির (৫০), শীবনগর গ্রামের জালালের ছেলে রহমান (৪০) এবং অজ্ঞাত আরও ৮/১০ জন। অপরদিকে উক্ত আসামীরা আটকের চারদিন পরই জামিনে বেরিয়ে এসে বাগান মালিককে তার বাড়িতে যেয়ে মামলা উঠিয়ে নিতে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ কারনে তিনি প্রানভয়ে নিজ বাড়িতে থাকতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শীবনগর গ্রামের ডিসি ইকো পার্কের সামনের এ আমবাগানে অসৎ উদ্দেশ্যে একদিল শাহ নামক এক পীরের কথিত মাজার আছে এমন মিথ্যা প্রচারণা ছড়িয়ে এ মামলার আসামীরা বিগত ২০ বছর যাবত এ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০টির অধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে করা হয়রানি মূলক সব কয়টি মামলায় আদালত আমাকে ইতিমধ্যেই বেকসুর খালাস প্রদান করে। প্রকৃতপক্ষে পীর একদিল শাহ নামীয় মাজার শরীফ আলমডাঙ্গা থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর ও বেতবাড়ীয়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এবং প্রতি বছর সেখানে ঔরশ অনুষ্ঠিত হয় এবং পীর একদিল শাহর ভক্ত অনুরাগীরা সেই মাজার কেন্দ্রীক তাদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। কিন্তু অন্যের জমি জবর দখলের কুমতলবে শীবনগর গ্রামের আলোচিত বাগানের গাছ কেটে লুট করে এ জমিতে একদিল শাহর আরও একটি কথিত মাজার তৈরি করা হয়েছে। একই ব্যক্তির দুটি মাজার হয় কখনো ? ঘৃন্য এ কাজে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুর রউফ, বাহালুল (১), আল-আমিন, হায়াত আলী, আব্দুল হাকিম, সরোয়ার হোসেন, বাবর আলী, কাবাতুল্লাহ প্রমুখ সহ শতাধিক এলাকাবাসী।

অধ্যাপক দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে মেজর মান্নানের শোক