খুলনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
খুলনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দিলীপ বর্মন, খুলন: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হত্যা, ধর্ষণ অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ছোট বড় প্রায় ৪১টি সংগঠনের সমন্বয়ে সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা এই সমাবেশের ডাক দেয়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা ১১ টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র পিকচার প্যালেস মোড়ে আয়োজিত এই সমাবেশে খুলনা মহানগর ও জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ঐক্য পরিষদ, খুলনা মহানগর ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, খুলনা সনাতন জাগরণী মঞ্চ, খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্র, যুব ঐক্য পরিষদ, হরিজন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, খুলনা জেলা খ্রিস্টান এসোসিয়েশনসহ একাধিক সংগঠন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে এদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন একটি রুটিন ওয়ার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভোলার তজুমদ্দিনে হিন্দু নারী গণধর্ষণ, চট্টগ্রামে আকাশ-দাসকে খুন, বগুড়ায় সুনীল হত্যা, শিক্ষক চয়ন হত্যা এবং লক্ষীকান্ত মন্দিরে অগ্নিসংযোগ হয়েছে, কক্সবাজারের ব্যবসায়ী গণেশ হত্যা হয়েছে, যশোরে অরুণ অধিকারীকে হত্যা করা হয়েছে, ময়মনসিংহে চাল ব্যবসায় সুশেন চন্দ্র সরকারকে হত্যা করা হয়েছে, কুমিল্লার শিব মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণ করে পুরোহিতদের জখম করা হয়েছে, খুলনার পাইকগাছার হরি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি কালী মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে, এবং ফেনীতে পারিবারিক মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। এইসব ঘটনার কোনো বিচার না হওয়া য় এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত সরকারের আমলে দুর্গাপূজার আগে শতশত মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে কিন্তু তার কোন বিচার হয়নি। কোন অপরাধী ধরা পড়লে তাকে পাগল বলে চালিয়ে দেওয়া হতো।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য কথা বলার কারণে বিনা অপরাধে চিনময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তার মুক্তি চাই তা না হলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমান সরকারি দল বিএনপিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ শতভাগ সমর্থন দিয়েছে। আমরা আশা করবো বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে দেশে বসবাস করতে সহযোগিতা করবে।

খুলনা মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ ঘোষের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম মেম্বর বিজয় কুমার ঘোষ, অনুষ্ঠানে অন্যতম বক্তা ছিলেন খুলনা মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মতুয়া মহা সংঘের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রতন মিত্র, হিন্দু বৈদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের খুলনা মহানগর সহসভাপতি সমর কুমার কুন্ডু ও সুখময় বিশ্বাস, বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘের খুলনা জেলা সভাপতি প্রশান্ত হালদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিত দে মিঠু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দাস, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদান করে সংহতি প্রকাশ করেন খুলনা মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিএনপি নেত্রী সুজানা জলি, খুলনা জেলা পূজা পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ অজিত বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নিলয় মুখার্জি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহসাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দে সরকার, খুলনা জেলা খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গ্যাব্রিয়েল বিশ্বাস, খুলনা মহানগর পূজা পরিষদের কোষাধ্যক্ষ রতন দেবনাথ, হরিজন ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি রাজকুমার হেলা, হরিজন ঐক্য পরিষদের মহানগর সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, খুলনা জেলা পূজা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল ব্যানার্জি, খুলনা জেলা পূজা পরিষদের উপদেষ্টা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী ও শিমুল কুমার দাস, জেলা পূজা পরিষদের নেতা প্রশান্ত কুমার মন্ডল, সনাতন জাগরণ মঞ্চের খুলনার বিভাগীয নেতা মৃণাল বিশ্বাস, মহানগর পূজা পরিষদের নেতা ভবেশ সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর সাহা, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের নেতা অলক দে, পাপ্পু সরকার, অনিন্দ্য সাহা, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকার রাহুল, দাকোপ উপজেলা পূজা পরিষদের আহবায়ক গোবিন্দ বিশ্বাস, বটিয়াঘাটা উপজেলা পূজা পরিষদের সদস্য সচিব বিদ্যুৎ রায়, দিঘলিয়া পূজা পরিষদের সভাপতি সৌমেন দত্ত, রূপসা উপজেলা পূজা পরিষদের নেতা শক্তিপদ বসু, ফুলতলা পূজা পরিষদের নেতা অনুপম মিত্র, তেরখাদা পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শংকর বালা, জেলা পূজা পরিষদের মহিলা সম্পাদিকা শিউলি সাহা প্রমুখ। এ সময় খুলনার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শতশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পিকচার মোড়ে এসে কর্মসূচি শেষ করে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ড জয় বাংলাদেশের