সোয়া ২ কোটি টাকার চিনি জব্দ! স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের ছত্রছায়ায় মূলহোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

✎ অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে: ১ জুলাই, ২০২৪

রাকিবুল ইসলাম লিমন, নেত্রকোণা: দীর্ঘদিন যাবত নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় চিনির রমরমা ব্যাবসা চলছিল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ কলমাকান্দার স্থানীয় পুলিশের ছত্রছায়ায় চোরাকারবারিরা এই ব্যাবসা চালিয়ে আসছিল। চোরাকারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে চোরাকারবারিদের বাইক চাপায় আলোর জগত পত্রিকার এক নারী সাংবাদিক নিহত ও অপর দুইজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল গেলো বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে চোরা কারবারীরা নির্বিঘ্নে চোরাই পথে চিনি এনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতো বলে জানায় স্থানীয়রা। চোরাই চিনিতে নেত্রকোণার বেশিরভাগ বাজার সয়লাভ হওয়ায় ও দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে অবৈধ চিনি সরবরাহ করাতে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

গত বুধবার (২৬শে) জুন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের চেংগ্নী ও খারনৈ ইউনিয়নের খারনৈ গ্রাম ও কচুগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্যরা। এ সময় জব্দ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪ বস্তা অবৈধ চিনি। ওই চিনির বর্তমান বাজার মূল্যে ২ কোটি ২০ লাখ
টাকা।

বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম।

স্মরণকালের সর্ববৃহৎ চোরাই চিনি আটক হওয়ায় প্রশাসনের প্রসংশার পাশাপাশি, চোরা চালানের রাঘব বোয়াল ও তাদের সহযোগীদের না ধরে চুনোপুঁটিদের ধরায় অভিযানের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকাবাসী জানায় কলমাকান্দা উপজেলা সদরের ধান মহল বাজারে, স্টেডিয়াম রোডে, কলেজ রোডে, পূর্ব বাজার, গবিন্দপুর রোড, এতিমখানা রোড,ডাইয়া বাজারসহ কয়েকটি স্পটে চিনি সিন্ডিকেট চক্রের বেশ কিছু গোডাউন রয়েছে।
এইসব গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চিনি মজুদ রয়েছে বলে জানান অনেকে।

টাস্কফোর্সের অভিযানে কলমাকান্দা উপজেলা সদরের এসব এলাকায় থাকা চিনির গোডাউনে অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় অনেকটাই ধরাছোঁয়ার বাইরে উপজেলার বড় বড় চিনি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাই স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিগত ২৫শে জুন বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় লেংঙ্গুড়া থেকে নাজিরপুর বাজারে অটো ভর্তি চিনি আসছে, অটো ড্রাইভার জানায় বটতলা বাজারের মহসিনের কাছ থেকে নাজিরপুর বাজারের মোস্তফার গোডাউনে চিনি নিয়ে যাচ্ছি। আমি ভাড়ায় চিনি পরিবহন করি এর বেশি কিছু জানি না। যাদের চিনি নিয়ে যাচ্ছি তাদের সবকিছু ম্যানেজ করা , এজন্যই পুলিশের সামনে দিয়ে গেলেও কিছু বলে না বলে জানায় অটো ড্রাইভার।

কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন থানার পাশেই কলমাকান্দা বাজারে বড় বড় অবৈধ চিনির গোডাউন কিন্তু সেখানে কোন অভিযান হচ্ছে না । এজন্য কলমাকান্দার মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে, পুলিশের সহযোগিতা না থাকলে থানার পাশে প্রকাশ্যে গোডাউনে ভারতীয় চিনি রাখতে পারতো না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিনি ব্যাবসায়ী জানান পুলিশকে চিনির বস্তা প্রতি টাকা দিয়েই এই ব্যাবসা করতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হককে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে চিনি চোরা কারবারিদের সহযোগিতার বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবী করে জেলা পুলিশ নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি মোঃ লুৎফর রহমান।

ই-প্রিন্ট