কমলগঞ্জ-নারায়ণপুর সড়কের বেহাল দশা : চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

✎ মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে: ৭ অক্টোবর, ২০২৬
মৌলভীবাজার জেলা  প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৯ নং ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর কুমড়াকাপন থেকে নারায়ণপুর হয়ে মুন্সিবাজার মুখি পিচ রাস্তাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে কাদামাটি একাকার হয়ে যায়, যার ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটার কোনো উপায় থাকে না। খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা ও সিএনজি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের সময়মতো বিদ্যালয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
একই সুর মেলালেন উত্তর কুমড়াকাপন এলাকার ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কমর উদ্দিন। তিনি বলেন, “মুন্সিবাজার আমাদের এলাকার মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে মালামাল পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ক্রেতারাও এখন এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে আসতে চান না, যার প্রভাব আমাদের ব্যবসায় পড়ছে।”
সড়কের এই দুরাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন রোগী ও বৃদ্ধরা। স্থানীয় গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, “গর্ভবতী নারী বা কোনো গুরুতর রোগীকে এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এক বিরাট যুদ্ধ। ঝাঁকুনিতে সুস্থ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা এই নরকযন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”
দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে নিয়মিত চলাচলকারী সিএনজি চালক জয়নাল আবেদীন বলেন, “ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ির পার্টস প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। আয়ের চেয়ে গাড়ি মেরামতের খরচই বেশি। পেটের দায়ে তাও গাড়ি চালাতে হয়, কিন্তু যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকি।”
এ বিষয়ে ৯ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, “সড়কটির বেহাল দশার কারণে জনগণের দুর্ভোগ আমি বুঝতে পারছি। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য আমি ইতিমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদারকে (ইউএনও) লিখিত ও মৌখিকভাবে অবগত করেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে রাস্তাটির সংস্কার ও মেরামত কাজ শুরু হবে।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ই-প্রিন্ট