
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ ৮টি প্রতিষ্ঠানে ৪ তলা ভিতবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ২টি বিদ্যালয়, বড়লেখা উপজেলায় ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসা, রাজনগর উপজেলায় ২টি মাদ্রাসা এবং কুলাউড়া উপজেলায় ১টি মাদ্রাসার জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে কার্যাদেশ পেলেও দীর্ঘদিন কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়।
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন জানান, তিনি ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে যোগদানের পর পূর্বের কার্যাদেশ বাতিল করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করেন। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন কার্যাদেশ প্রদান করা হলে বর্তমানে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে সমাপ্তির পথে রয়েছে।
বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ভবনের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে দরজা, শৌচাগার, গ্রিল ও রঙের কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই কাজ সম্পন্ন হবে।
রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। বর্তমানে ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে এবং কাজের মান সন্তোষজনক।
সাধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, সব কাজ সম্পন্ন হয়ে এখন রঙের কাজ চলছে। তিনি কাজের মান ভালো বলে উল্লেখ করেন।
হাবিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ২য় ও ৩য় তলার গাঁথুনির কাজ চলছে। গ্রিলের কাজ প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং রঙের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি জানান, সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে কাজের মান ভালো হয়েছে।
রাজনগর দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার জানান, ৪র্থ তলার ছাদ ঢালাই ও গাঁথুনির কাজ চলমান। রঙ ও দরজা-জানালার কাজসহ আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, কাজের মান মোটামুটি ভালো।
মশারিয়া এমদাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার জানান, প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্লাস্টারের কাজ চলছে এবং রঙের কাজ বাকি রয়েছে। কাজের মান ভালো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গিয়াসনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার জানান, কাজ শেষ পর্যায়ে। রঙের কাজ শুরু হয়েছে, তবে বৈদ্যুতিক কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
বড়লেখা মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সুপার জানান, বিল্ডিংয়ের কাজ শেষের পথে এবং রঙের কাজ বাকি। তিনি আশা করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।
কাজের অগ্রগতি জানতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সবাই কাজের মান ভালো হয়েছে বলে জানান। কিছু কাজ বাকি থাকলেও তা দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিন কাজ অসম্পন্ন থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী রতিশ চন্দ্র সেনের নতুন দ্রুত কার্যাদেশ প্রদান ও সুষ্ঠু তদারকি জোরদার হওয়ায় নির্মাণকাজ দ্রুত শেষের পথে পৌঁছেছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :