
আজ সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আসামির উপস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোত্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কঠোর পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন ওরফে ফটিক উপজেলার গয়েশপুর (বড় মসজিদপাড়া) গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন (১০) ও আছিয়া খাতুন (৮) আরও দুই প্রতিবেশী শিশুকে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে আছিয়াসহ বাকি শিশুরা বাড়ি ফিরে জানায়, মাঠে এক ব্যক্তি তাদের কাছে এসে মরিয়মকে শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুট্টা ক্ষেতের দিকে নিয়ে গেছে।
দীর্ঘ সময় পরও মরিয়ম ফিরে না আসায় মা ও প্রতিবেশীরা মাঠে খুঁজতে যান। একপর্যায়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টা ক্ষেতের ভেতর মরিয়মের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এ ঘটনায় নিহত শিশু মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার বিচার চলাকালীন আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এছাড়া ভুক্তভোগী ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং ডিএনএ রিপোর্টসহ সব তথ্য-প্রমাণ দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। বিজ্ঞ আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন, যা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”
মামলায় আসামিপক্ষের স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী ছিলেন ওহিদুজ্জামান মুকুল।
আপনার মতামত লিখুন :