
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় শাড়ির একটি বড় চালান পাচারের চেষ্টা চলছে—এমন তথ্য পেয়ে রামখানা ও অনন্তপুর বিওপির দুটি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে রামখানা বিওপি এবং ১১টায় অনন্তপুর বিওপির টহলদল কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার পশ্চিম রামখানা ও নাগরাজ এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তল্লাশি চালিয়ে ১৬৭টি স্বর্ণকাতান শাড়ি, ৭৬টি সিল্ক শাড়ি এবং প্যান্টের কাপড়ের ৩টি থান জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, জব্দকৃত পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্বর্ণকাতান শাড়ির মূল্য ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সিল্ক শাড়ির মূল্য ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্যান্টের কাপড়ের মূল্য ৩৬ হাজার টাকা। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চোরাচালানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রায়ই রাতের অন্ধকারে ও ভোরের দিকে চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন কৌশলে পণ্য আনা-নেওয়া করে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “এভাবে অবৈধভাবে পণ্য আসায় আমাদের বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিজিবির এমন অভিযান প্রশংসনীয়। আরেকজন বাসিন্দা জানান, “বিজিবির টহল বাড়ার কারণে আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এসেছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি। এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আপনার মতামত লিখুন :