৬ বিচারিক কার্যদিবসে নন্দিনী হ.ত্যা মামলার রায়, বিধানের মৃ.ত্যু.দ.ণ্ড


মো. আব্দুর রাজ্জাক, লালমনিরহাট প্রকাশের সময় : ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ ৮৪
৬ বিচারিক কার্যদিবসে নন্দিনী হ.ত্যা মামলার রায়, বিধানের মৃ.ত্যু.দ.ণ্ড

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের স্কুলছাত্রী নন্দিনী রায় (৭) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানী নামের অপর দুই আসামিকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়রা আদালতে আসার পর ছয় বিচারিক কার্যদিবসের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে।

মামলার রায় ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন গত ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ১৫ জুন বিকেল থেকে ১৬ জুন ভোরের মধ্যে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেতে গর্ত করে মাটিচাপা দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো. আইয়ুব তুহিন তদন্তের সময় আসামিদের গ্রেপ্তার করেন। প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি কোদালসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে আসে। ওই দিন অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রোববার রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

রায়ে বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এসব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

অপর দুই আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

রায়ের পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন সময়ে আসামিদের হাজতবাসের সময় তাঁদের কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কে এম হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, রায়ে নিহত নন্দিনীর পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। দ্রুত মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী লুৎফর রহমান রিপন বলেন, তাঁরা রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে রায়ে তাঁরা সংক্ষুব্ধ এবং আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১