শাপলা চত্বর মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

✎ নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত হয়েছে: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটিতে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তাদের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ বিষয়ে বাহিনীর পক্ষ থেকে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন আদালতকে বলেন, পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন। শুনানিতে তার সঙ্গে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আসামিদের হাজিরের লক্ষ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়।

১০ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।

তবে অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

মামলায় যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলায় পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ওমর ফারুক চৌধুরী।

এ তালিকায় সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমানসহ সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নামও রয়েছে।

এ ছাড়া মামলায় ইমরান এইচ সরকার, সালাউদ্দিন মাহমুদসহ পুলিশের সাবেক ও তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তা এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিএম ফরমান আলীর নামও রয়েছে।

৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ

এর আগে গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় মোট দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট মামলার কয়েকজন আসামিকে হাজির করার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট না পাওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করে। পরে আজকের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।

ই-প্রিন্ট