পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ৬ সদস্যের বোর্ড গঠন

✎ নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত হয়েছে: ১ নভেম্বর, ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। তবে বোর্ড গঠনের পরও রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে এবং শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হবে।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছিলেন, রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়েও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মজুরি বোর্ডে যারা রয়েছেন

নতুন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে।

বোর্ডের সদস্যরা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ (নিরপেক্ষ সদস্য), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব মো. আসিফ আইয়ুব (মালিকপক্ষের প্রতিনিধি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন (শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি), বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন (তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার (শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি)।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সদস্যদের নিয়োগ দিয়েছে। বোর্ডকে মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয়েছে।

আন্দোলন ও সংঘর্ষ অব্যাহত

শ্রমিকদের প্রধান দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। এ দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। রোববারও মিরপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমমন্ত্রী শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি অনুযায়ী বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই সড়কে অবস্থান না করে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ই-প্রিন্ট