লালমনিরহাটের ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, জেলায় পাসের হার ৪৬.৭১%

✎ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, লালমনিরহাট
প্রকাশিত হয়েছে: ১ নভেম্বর, ২০২৬

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে লালমনিরহাটের ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। অন্যদিকে, জেলায় এবার সামগ্রিক পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে লালমনিরহাটের ছয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলায় তিনটি, হাতীবান্ধায় দুটি এবং আদিতমারী উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হাতীবান্ধা মডেল কলেজ থেকে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একই উপজেলার আমিনুর রহমান কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন, দুহুলী এসসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন এবং দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এ ছাড়া আদিতমারী উপজেলার গন্ধমরুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া দুজনও অকৃতকার্য হয়েছেন।

এদিকে, জেলার সামগ্রিক ফলাফলও উদ্বেগজনক। এ বছর লালমনিরহাট থেকে মোট ৭ হাজার ৪৫৫ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৫ জন ছাত্র এবং ৪ হাজার ১২০ জন ছাত্রী। মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৪৮২ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ১১৯ জন।

জেলায় গড় পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বছর জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০২ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন ছাত্র এবং ৬৬ জন ছাত্রী।

সামগ্রিক পাসের হারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে লালমনিরহাটের অবস্থান তৃতীয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনায় নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার কারণ অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম পর্যালোচনা জরুরি।

জেলায় পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকা এবং ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ই-প্রিন্ট