নিতম্বের ব্যথায় অবহেলা নয়


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ ১০৯
নিতম্বের ব্যথায় অবহেলা নয়

হিপ বা নিতম্বের ব্যথায় অবহেলা নয়। নিতম্ব আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়েন্ট। দাঁড়ানো, হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, বসা কিংবা দৈনন্দিন প্রায় সব ধরনের চলাফেরার সঙ্গে এই জয়েন্টের সম্পর্ক রয়েছে।

তাই হিপে ব্যথা শুরু হলে তা শুধু শারীরিক অস্বস্তিই সৃষ্টি করে না, বরং কর্মক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মানকেও সরাসরি প্রভাবিত করে।

চিকিৎসকদের মতে, হিপের ব্যথার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসসহ বিভিন্ন বাতজনিত রোগ হিপ জয়েন্টে প্রদাহ ও ক্ষতির কারণ হয়। আবার যক্ষ্মা (টিবি) বা অন্যান্য সংক্রমণও এই জয়েন্টকে আক্রান্ত করতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে হিপের বল বা ফিমোরাল হেডে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে হাড় ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এভাসকুলার নেক্রোসিস’ বলা হয়। এ ছাড়া জন্মগতভাবে হিপের গঠনগত ত্রুটি, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত বা হিপ ফ্র্যাকচারও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যার বড় কারণ।

হিপের ব্যথার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল— অনেক সময় এই ব্যথা শুধু হিপে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি কোমর, কুঁচকি, উরু কিংবা হাঁটু পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

ফলে অনেক রোগী প্রথমে কোমর বা হাঁটুর চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রকৃত সমস্যাটি বুঝতে পারেন না। হিপ জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, স্বাভাবিকভাবে পা নাড়াতে কষ্ট হওয়া, হাঁটতে বা সিঁড়ি ভাঙতে অসুবিধা হওয়া এবং ধীরে ধীরে খুঁড়িয়ে হাঁটা— এসবই হিপের সমস্যার প্রধান সাধারণ লক্ষণ।

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সাঁতারের মতো জয়েন্টবান্ধব শারীরিক কার্যক্রম হিপের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত; কারণ এটি হিপের হাড়ের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

রোগ যদি অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং হিপ জয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে হিপ রিপ্লেসমেন্ট অত্যন্ত সফল একটি সার্জারি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাইমারি টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট, কমপ্লেক্স প্রাইমারি টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট এবং রিভিশন টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্টের মতো উন্নত অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এর মাধ্যমে রোগীরা দীর্ঘদিনের ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার অর্থোপেডিকস ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হিপ ও হাঁটুর জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

এখানকার বিশেষজ্ঞরা রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। ফলে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন এবং পরবর্তী ফলো-আপ—সব ধাপেই রোগীরা সমন্বিত ও বিশ্বমানের সেবা পেয়ে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হিপের ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা দৈনন্দিন চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করলে তা অবহেলা না করে দ্রুত পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা এড়িয়ে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব।

লেখক : মেজর জেনারেল প্রফেসর ডা. মোঃ আনিছুর রহমান হাওলাদার, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, অর্থোপেডিক্স ডিপার্টমেন্ট, এভারকেয়ার হসপিটাল, ঢাকা

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১