Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি অর্থনীতি
  7. খেলাধূলা
  8. চাকরি-বাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনের গল্প
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচনী হাওয়া
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুগদা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন ! / অগ্নিসংযোগের নির্দেশদাতা ও তার সহযোগী গ্রেফতার

ইমরুল হাসান
নভেম্বর ৬, ২০২৩ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি, লাখোকন্ঠঃ রাজধানীর মুগদা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের নির্দেশদাতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের একটি টিম।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মোঃ আমির হোসেন রকি (২৫) ও মোঃ সাকিব ওরফে আরোহান (২১)।

গতকাল রোববার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় জেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের নিকট হতে ২ বোতল পেট্রোল ও গাড়িতে আগুন দেওয়ায় ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম-বার।

সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি তাদের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা এবং বর্বরতা প্রদর্শন করে তা ইতিহাসে বিরল। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত ও শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজন এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। এ ঘটনার পর গত ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত অবরোধে ডাক দেয়। তিন দিনের এ অবরোধে ঢাকা মহানগরীতে ২৩টিসহ সারা দেশে মোট ৫২টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত ১ নভেম্বর সকালে মুগদা থানাধীন অতীশ দীপঙ্কর রোডে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুগদা শাখার বিপরীত পাশে মিডলাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে কতিপয় বিএনপি দলীয় দুষ্কৃতিকারী যাত্রীবেশে উঠে আগুন ধরিয়ে দেয়। পালানোর সময় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ আল আমিন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। এ সংক্রান্তে বাসের মালিক মুহাম্মদ দুলাল হোসেন বাদী হয়ে ১ নভেম্বর মুগদা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই সিটিটিসির ইন্টেলিজেন্স টিম ঘটনায় জড়িত ও আর্থিক সহযোগিতাকারীদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করে। গ্রেফতারকৃত আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে স্থানীয় বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় তাদের দলীয় নেতা মিজানসহ তার অপারাপর সদস্যরা যাত্রীবেশে টিটিপাড়া থেকে বাসে উঠে এবং ঘটনাস্থলে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। তার দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ও মুগদা থানার একটি যৌথ দল ৫ নভেম্বর ভোরে গাজীপুরের বাসন হতে অগ্নিসংযোগকারী গ্রুপের মূল সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসে আগুন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির সক্রিয় কর্মী মিজানুর রহমান জানায়, অবরোধের প্রথম দিন তার নেতা সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আমির হোসেন রকি তাকে ফোনে বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং বলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত, তাদের নির্দেশমতেই তারা কাজ করছে। যদি সে আগুন দিতে পারে তবে বিএনপি আর কয়দিন পর ক্ষমতায় এসে তাকে এমন টাকা পয়সার ব্যবস্থা করবে যে, তার আর কোন অভাব থাকবে না। গত ৩১ অক্টোবর মোটরসাইকেল নিয়ে উক্ত নেতা গুলিস্থান এলাকায় এসে তাকে পাশে ডেকে নিয়ে পরদিন কমলাপুর থেকে মুগদা পর্যন্ত বাসে আগুন দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে এক হাজার টাকা ও এক বোতল পেট্রোল প্রদান করে। পরে মিজান তার অন্য সহযোগী আল আমিনসহ আরও দুইজন ১ নভেম্বর সকালে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুগদা শাখার রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা মিডলাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়।

সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, মিজানুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসি’র একটি টিম তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে গোপন সূত্রে জানা যায়, রকি গতকাল ৫ নভেম্বর সকালের দিকে দয়াগঞ্জ এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে। এর প্রেক্ষিতে ঐ এলাকায় পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারীদের ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে সিটিটিসির গোয়েন্দা তথ্যের প্রেক্ষিতে রকির নির্দেশে আগুন দেওয়ার পূর্বেই যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশী তৎপরতায় ঐ এলাকায় কিছু করতে না পারায় রকি তার এক নেতার সাথে আগুন দেওয়া নিয়ে পরামর্শ করে এবং তার অপর সহযোগী সাকিবকে নিয়ে আরামবাগ পাম্প থেকে পেট্রোল নিয়ে কেরানীগঞ্জে এক বিএনপি নেতার সাথে দেখা করতে রওয়ানা হয়। সিটিটিসির ইন্টেলিজেন্স টিম তাকে অনুসরণ করে বাবুবাজার ব্রিজের উপর থেকে মোঃ আমির হোসেন রকি ও তার সহযোগী সাকিব ওরফে আরোহানকে দুই বোতল পেট্রোল ও আগুন দেওয়ায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে।

সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আমির হোসেন রকি জানায়, সে সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ এক নেতার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও আর্থিক সহযোগিতায় সে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার কার্যক্রম চালিয়েছে। নেতারা তাকে বিএনপি দলীয় ক্যাডারদের সাথে সমন্বয় করে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার দায়িত্ব প্রদান ও এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করেছিল। এ ধারাবাহিকতায় সে বিএনপি কর্মী মিজানকে টাকা ও পেট্রোল সরবরাহ করে যার ভিত্তিতে মিজান, আল আমিন ও তাদের অপর দুই সহযোগী মুগদা থানা এলাকায় মিডলাইনের বাসটিতে আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার পরপরই মিজান তাকে ফোন দিয়ে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে সে তার ব্যবহৃত মোবাইলের বিকাশ নম্বর থেকে মিজানের বিকাশে তিন হাজার টাকা প্রেরণ করে। এ সময় সে অপর সহযোগী সাকিবকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলের পাশেই মোটরসাইকেল নিয়ে উপস্থিত ছিলো। জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায়, ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপির ডাকা প্রথম ধাপের অবরোধের চেয়ে ৫-৬ নভেম্বরের দ্বিতীয় ধাপের অবরোধে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেফতারকৃত রকি প্রথম ধাপের বিএনপির ডাকা অবরোধে মুগদার বাইরেও আরও বেশ কয়েকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে শাহবাগ ও কোতোয়ালী থানায় আরও দুটি মামলা রয়েছে। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।