
লাখোকণ্ঠ, খুলনা প্রতিনিধি:খুলনার দাকোপ উপজেলার সাহারাবাদ গ্রামের মোংলা হ্যাচারী এন্ড ফিশারিজ লিমিটেড নামের একটি মৎস্য প্রকল্প জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী। গত এক বছরে এই প্রকল্পে তারা কয়েক দফা লুটপাট করে কোটি কোটি টাকার মৎস্য তছরূপ করেছে। প্রকল্প দখল করার জন্য এই সন্ত্রাসী বাহিনী গত ১০ অক্টোবর রাতে পরিকল্পিতভাবে একটি বাসার মাটির নিচে অস্ত্র রেখে প্রকল্পের ম্যানেজার মো. শাহ আলম শেখকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। এদিকে মামলার ভয়ে কর্মচারীরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিতোষ চন্দ্র রায়কে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দেশ ত্যাগ করতে বলছে।
ভূক্তভূগী ও এলাকাবসী সূত্রে জানা গেছে, মোংলার অমিতোষ চন্দ্র রায় দাকোপের সাহারাবাদ গ্রামে ২০১৫ সালে ৮ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রায় ৫৩ একর নিজ জমির উপর ৩৬টি পুকুর খনন করে অত্যাধুনিক বিজ্ঞান সম্মত এই আধা-নিবিড় চিংড়ি প্রকল্প চালু করেন। ২০২১ সালে এই গ্রামের কিছু দুষ্কৃতিকারী প্রকল্পের মাছ তছরূপ করে। তখন তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার পর তারা আত্মগোপনে থাকে। ২০২৪ সালে খুলনা-১ আসন থেকে ননী গোপাল মন্ডল পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রকল্প নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ননী গোপাল মন্ডলের পুত্র দিপ্ত মন্ডল ও তার ধর্ম পুত্র খুলনার
দৌলতপুরের কৃষি কলেজ আবাসিক ভবন এলাকার এস এম এ বাসারের নেতৃত্বে নতুন করে প্রকল্প দখলের ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দিপ্ত মন্ডল ও এস এম এ বাসারের নেতৃত্বে সাহারাবাদ গ্রামের আনিস সানা, সিরাজুল গাজী, শহীদ গাজী, আশরাফ সানা, জাহিদ হাসান মোড়ল, মঙ্গল মন্ডল ও রাকেশ মন্ডলসহ ৪৫/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী অর্তকিত হামলা চালিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি, কার্প জাতীয় মাছ ও মেশিনারিজসহ প্রায় পৌনে ৫ কোটি টাকার মালামাল লুট করে। এই ঘটনার জন্য তখন এমপি পুত্রের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় কোন অভিযোগ ও মামলা করা যায়নি। পরে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সি/আর নং ৩৮/২৪) মামলা হয়। এরপর গত ৮ জুলাই রাত পৌনে ১২টার এই সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রসহ প্রকল্পের কর্মচারীদের উপর আক্রমণ করে মাছ লুটপাট করে।
গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ননী গোপাল মন্ডলের পুত্র দিপ্ত মন্ডল আত্মগোপনে থাকলেও এস এম এ বাসারের নেতৃত্বে সাহারাবাদ গ্রামের ঐ সন্ত্রাসী বহিনী রাজনৈতিক দল বদল করে আরও বেশী ভঙ্কয়র হয়ে উঠেছে। এস এম এ বাসারের বিরুদ্ধে একধিক অপরাধ প্রবণতার সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা প্রায় প্রতি রাতে প্রকল্প দখলের মহড়া দিচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাতে প্রকল্পের রান্নাঘরের মাটির নিচে একটি অস্ত্র রেখে ম্যানেজার মো. শাহ আলম শেখকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়। এই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে নলিয়ানের মো. মাসুদ গাজী ও মো. জাহিদ হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা এই এলাকায় থাকে না, তাদেরকে কেউ চেনে না। তার পর দিন ১১ অক্টোবর সকালে প্রকল্পের কর্মচারীদের উপর আক্রমণ চালিয়ে প্রকল্পের প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মাছ লুট করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাহারাবাদ গ্রামের একটি সন্ত্রাসী দল প্রতিনিয়ত মোংলা হ্যাচারী এন্ড ফিশারিজের কর্মচারীদের উপর আক্রমণ ও মাছ লুটপাট করে। এই প্রকল্পের পাশে মঙ্গল মন্ডলের বাড়িতে বসে লুটপাটের সকল ষড়যন্ত্র করা হয় হয়। এই লুটপাটের কাজে তাদের বোন ও স্ত্রীরা জড়িত বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
মোংলা হ্যাচারী এন্ড ফিশারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিতোষ চন্দ্র রায় লাখোকণ্ঠকে জানিয়েছেন, আমার ৮ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রায় সবই লুটপাট হয়ে গেছে। আগে আমার কর্মচারী ছিল ১৩ জন, এখন আছে মাত্র ৫ জন। এখন সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেই প্রকল্প পাহারা দিতে চায় না। আগে যারা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে প্রকল্প দখল করতে চেয়েছিল তারা এখন রাজনৈতিক ট্যাগ পরিবর্তন করে একই কাজ করছেন। আমি কী সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমার প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাব? আমি ঘটনার তদন্ত পূর্বক সুবিচার চাই। এ বিষয়ে দিপ্ত মন্ডল ও এস এম এ বাসারের মোবাইলে একধিকবার কল করে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :