আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়েছে `সব মিথ্যা, আমি নির্দোষ`


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়েছে `সব মিথ্যা, আমি নির্দোষ`

লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্কঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই আদেশের মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন সকালে কারাগার থেকে জুনাইদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ আসামির বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং প্রশ্ন করেন, ডু ইউ প্লিড গিল্টি? (আপনি কি দোষ স্বীকার করছেন?)। জবাবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়েছে সব মিথ্যা। আমি নির্দোষ।

অন্যদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলায় বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ফেসবুকে তিনটি উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন পলক। এর জের ধরে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নৃশংস হামলা চালায়।

দ্বিতীয় অভিযোগে গত ১৮, ১৯ ও ২৪ জুলাই রাজধানীর বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকায় গংগাচরণ রাজবংশী, রাসেল, হাসিব, মোসলেহ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার দায় আনা হয়েছে। জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেন এবং ড্রোন, হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের প্ররোচনা দেন। এছাড়া ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে পলকের একটি ফোনালাপও তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট উত্তরার জাবিদ ইবরাহিম ও শামসুল আলমসহ অন্যদের হত্যার দায় আসামিদের ওপর বর্তানো হয়েছে। সেদিন নির্বিচারে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গণহত্যা চালানোর নির্দেশ ও উসকানির অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ গঠন শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন থেকেই এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।