জাবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ, উদ্ধারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

✎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে: ১২ অক্টোবর, ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজের ঘটনায় তাঁকে উদ্ধারে ১২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সহপাঠীরা।

একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তসহ আট দফা দাবি জানিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধান ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগে মোহাইমিনুলের রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের আচরণ ও নিপীড়ন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। সংকটের সময়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসাইন মো. সায়েম ও শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আবু সাদাত সায়েমকে পাশে না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—১২ ঘণ্টার মধ্যে মোহাইমিনুলকে উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগ, জিএস-৪০৪ কোর্সের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন, শিক্ষার্থী বা ব্যাচভিত্তিক হয়রানি বন্ধ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, ছাত্রসংসদ বাস্তবায়ন এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু।

তবে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসাইন মো. সায়েম বলেন, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ মুহূর্তে মোহাইমিনুলকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করাই প্রধান লক্ষ্য।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সিম কার্ডের অবস্থান শনাক্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ অনুসন্ধানী দল কাজ করছে। অভিযোগগুলো তদন্তে অনুষদের ডিনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষে থাকতেন। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাগামী বাসে ওঠার পর থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

ই-প্রিন্ট