
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শুরুতে কর্মসূচিগুলোর বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল গাড়ি ও ভবনে আগুন দেয়, দোকানপাটে লুটপাট চালায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবি এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের আলাদাভাবে দেখতে হবে। সহিংসতার কোনো যুক্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সহিংসতায় লিমোজ শহরের ঊনবিংশ শতকের ঐতিহাসিক টাউন হল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির ছাদ ও ঘড়ির টাওয়ার ধসে পড়েছে। প্যারিস, মার্সেই ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাটে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। রোববার প্যারিস ও লিওঁর কিছু এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোড়ে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
গত মাসে শিক্ষার্থীদের শুরু করা আন্দোলনে শনিবার শ্রমিক সংগঠন ও অন্যান্য সরকারবিরোধী গোষ্ঠী যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের অভিযোগ, কট্টর বামপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সরকারি স্থাপনা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকার ও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক শক্তি মানুষের ক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।