
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মূল আনুষ্ঠানিক পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের।
সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং বেলুন ও পায়রা উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি রায়সাহেব বাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে।
দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
বিকেলে বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একই মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন নগরবাউলখ্যাত জেমস।
জেমসের কনসার্ট ঘিরে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে বিজ্ঞান ভবন চত্বরে সংগীত পরিবেশন করেছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে ব্যান্ড শিরোনামহীনও গান পরিবেশন করে। দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চে ফিরছেন জেমস।
এদিকে, অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বিশেষ নিরাপত্তাপরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠান ও কনসার্টে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে বাড়তি নজরদারি ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও রেঞ্জার ইউনিটের সদস্যরা।
নিরাপত্তাপরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় কোতোয়ালি, বংশাল ও সূত্রাপুর থানার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান চলাকালে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে পূজার ছুটির কারণে এবার ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্যাপন ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।