
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মৌলভী আব্দুল হামিদ ও আয়েশা খাতুনের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক জীবন
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পরে যুক্তরাজ্য ও জাপানে সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরপর দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত হয়।
এর আগে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।
শিক্ষাজীবন
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শোক প্রকাশ
মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।