
এ সময় দুই নেতা কুশল বিনিময় করেন। দেলাওয়ার হোসেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে মিষ্টিমুখ করান। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি, এলাকার উন্নয়ন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, “নির্বাচন একটা গণতান্ত্রিক প্রসেস। এই গণতান্ত্রিক প্রসেসের একটা মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন, আর গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। আমরা যদি একজন আরেকজনের মতামতকে শ্রদ্ধা-সম্মান না করি, তাহলে তো আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব না।”
দেলাওয়ার হোসেনের প্রাপ্ত ভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “তিনি কিন্তু বিপুল পরিমাণ ভোটও পেয়েছেন। এখন একটা বিশাল অংশ তাঁর সঙ্গে আছে। এই বিজয় তাঁদের বাদ দিয়ে নয়, তাঁরাও তো আমাদের মানুষ, তাঁরাও এই এলাকার মানুষ। অতএব, ইনশা আল্লাহ, আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমি গর্ববোধ করি, বড় ভাই মির্জা ফয়সল আমিন নির্বাচিত হওয়ার পর আমার খোঁজখবর নিতে এসেছেন। পাশাপাশি আমার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে এসেছেন। এজন্য তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি মির্জা ফয়সল আমিনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। নির্বাচন ও দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেলাওয়ার বলেন, “এমনই রাজনৈতিক কালচার গড়ে ওঠা উচিত। নির্বাচন থাকবে, দল থাকবে, কিন্তু আমাদের পরস্পরের মধ্যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ থাকবে—পরিবেশ থাকবে। যেটার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। ফয়সল ভাই আজ সেটাই করেছেন।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ এ উদ্যোগকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ অব্যাহত থাকলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
যেভাবে জয়ী হলেন ফয়সল আমিন
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পান ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৯ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে ৪৫০ ভোট পান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনের এ বিজয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক সম্প্রীতির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।