
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যারা পালিয়ে গিয়েছেন, পলাতক আসামি, ওয়ান্টেড আসামি—তারা দেশে আসুক, সেটা তো আইন চায়। তাদের যে সাজা আছে, সেই সাজার দিক থেকেও আমরা চাই, তারা দেশে এসে ফেস করুক।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রসঙ্গ তুলে শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ১৭ বছরে দুর্নীতি, গণহত্যা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা এখন বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক মামলার রায় হয়েছে, আবার কিছু অভিযোগের বিচার এখনো আদালতে চলমান।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি যদি দেশে আসতে চান, তাকে দেশে আসতে না করেছে কে? তার তো দেশে থাকাই উচিত ছিল এবং দেশে থেকে ট্রায়াল ফেস করতে পারতেন।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রায় সরকার ও বিচার বিভাগ কার্যকর করবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এর আগে বিকেলে টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ইছামতি নদীর ওপর ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। মুন্সীগঞ্জ (হাতিমারা)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর (ছনবাড়ি) জেলা মহাসড়কের ষষ্ঠ কিলোমিটারে সেতুটি নির্মাণ করা হবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্পের (ঢাকা জোন) আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
স্টিল কম্পোজিট আই-গার্ডার প্রযুক্তিতে নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫১ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩০ মিটার। দুই লেনের সেতুটিতে থাকবে তিনটি স্প্যান, দুটি পিয়ার, দুটি অ্যাবাটমেন্ট ও ১৫টি গার্ডার। সেতুটির নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬২ মিটার। এ ছাড়া সেতুর উভয় পাশে ৬০০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ১ দশমিক ৪৭৮ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কুন্ডেরবাজার এলাকায় ইছামতি নদীর ওপর থাকা পুরোনো বেইলি সেতুটি জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। সীমিত ভারবহন ক্ষমতার কারণে সেতুটি দিয়ে চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকিও ছিল। এতে টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখানসহ আশপাশের এলাকার মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আলু, ধান, গম, সরিষা ও মৌসুমি শাকসবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে। এতে স্থানীয় কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলোসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
পরে দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে যোগ দেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।