পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ, চার দফা দাবি


রাঙামাটি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ ৩৮
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ, চার দফা দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন, একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকজন নাগরিক ও সংগঠনের নেতারা। এসব বিষয়ে চার দফা দাবি জানিয়ে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।

সোমবার সকাল ১০টায় শহরের রাজবাড়ী এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কবি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য এলাকার ভোটাররা বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করেন। পরে রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হলে পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়। তবে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও নির্বাচিত প্রতিনিধি নন—এমন মীর হেলাল উদ্দিনকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ায় বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দীপেন দেওয়ান তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তাকে স্বপদে পুনর্বহাল এবং মীর হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়নের দাবিতে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জনদাবি উপেক্ষা করে গত ২৭ আগস্ট সাচিং প্রু জেরীকে পূর্ণমন্ত্রী করা হলেও তাকে কক্সবাজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে তিন পার্বত্য জেলার আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তাদের মতে পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ আইনের পরিপন্থী। জেলা পরিষদগুলোও দলীয় ও জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকার গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটিরও সমালোচনা করেন বক্তারা। তাদের দাবি, এসব কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭, আঞ্চলিক পরিষদ আইন ১৯৯৮ এবং জেলা পরিষদ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—মীর হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্যত্র পদায়ন এবং সেখানে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ না দেওয়া; তিন পার্বত্য জেলার আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া; একতরফাভাবে গঠিত তিনটি কমিটির কার্যক্রম বাতিল করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠন; এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করে দ্রুত তা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, আদিবাসী ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি নব কুমার চাকমা, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা এবং সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি ভবতোষ দেওয়ানসহ অন্যরা।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০